চল পানসিঃইতিহাসের স্পর্শ পেতে নালন্দায় ethihaser sporsho pete nalanday

ভেবেছিলাম নালন্দা দু'তিন ঘন্টায় দেখে নিয়ে আশেপাশের আরও কিছু জায়গা ঘুরে নেব। কিন্তু নালন্দায় গিয়ে একেবারে মজে গেলাম, টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকতেই এক প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় তার হারানো ঐশ্বর্যের স্মৃতি দিয়ে অবশ করে ফেলল।  আমাদের গাইড নালন্দা নিয়ে বই লিখেছেন। তাঁর কাছ থেকে জানা গেল একদা দশ হাজার ছাত্র এবং দু'হাজার শিক্ষকের আবাসিক এই শিক্ষামন্দিরের সুনাম শুধু দেশে নয়,দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

0 Comments

চল পানসিঃ মায়াপুর ভ্রমণ

চল পানসি মায়াপুর ভ্রমণ           নদিয়া জেলার লোক হয়েও এখনও মায়াপুর দেখনি! বয়স্ক সহকর্মীর এই শ্লেষ সেদিন এতটাই তাতিয়ে দিল যে ঠিক করলাম,আর দেরি নয়। সামনে যে কোনও একটা ছুটির দিন পেলেই বেরিয়ে পড়ব মায়াপুরের উদ্দেশে। মায়াপুর  আমার বাড়ি থেকে খুব দূরের রাস্তা নয়। ট্রেন আর বাস মিলিয়ে ঘন্টা দেড়েকের পথ। কিন্তু একদিনের সফর। ট্রেন বাস করলে বেড়ানোয় কাটছাঁট করতে হতে পারে। সেজন্য  ভাড়া করা চারচাকার সওয়ারি হওয়াই সাব্যস্ত হল। মায়াপুরের ইস্কন মন্দিরের কাছে গাড়ি পার্কিং-এর  ব্যবস্থা আছে। সেখানে গাড়ি পার্কিং করে টো টো নিয়ে বেরোলাম মায়াপুরের দর্শনীয় জায়গাগুলো দেখতে। ইতিহাস ভালবাসি। তাই প্রথমেই গেলাম বামুনপুকুর বাজার ছাড়িয়ে বল্লাল সেনের নামাঙ্কিত ঢিপিটি দেখতে। স্থানীয় লোকের কথায় এটি বল্লাল…

0 Comments

চল পানসি (অক্ষয়বট দর্শন)

যে গাছের নিচে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে গীতার অমৃতবাণী শ্রবণ করান,সেই গাছের উত্তরপুরুষকে চাক্ষুষ করব,এ ইচ্ছা বহুদিনের।সেবার পুজোর ছুটিতে বেরিয়ে পড়লাম কুরুক্ষেত্রের উদ্দেশে।

0 Comments

চল পানসি (তাজমহল দর্শন)

ভ্রমণ    তাজমহল দর্শন        তাজমহল দেখব,এ সাধ বহুদিনের। সেবার পুজোর ছুটিতে লক্ষ্মীপুজো মিটতেই আমরা কয়েকজন  বেরিয়ে পড়েছিলাম আগ্রার উদ্দেশে। শিয়ালদহ আজমির এক্সপ্রেসে টিকিট। কিন্তু শুরুতেই বিধি বাম। শিয়ালদহ থেকে  তে্রো ঘন্টা দেরি করে ছাড়ল ট্রেন। তারপরও বিপদ কাটল না। দেখলাম যে কোনও কারণেই হোক ট্রেনের গতি বেশ মন্থর। ট্রেনের যাবার কথা ছিল গয়া হয়ে,কিন্তু রেলপথের কী গন্ডগোল, ট্রেন চলল পটনা হয়ে। যখন আগ্রা পৌঁছলাম তখন ট্রেনের দেরির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চব্বিশ ঘন্টা বিয়াল্লিশ  মিনিট। চার জন বড়োর সঙ্গে দুটো শিশু। একজন ছয়,একজন দুই। এত বিলম্বেও কিন্তু ওরা কাবু হয়নি। ছোটটির কাছে তো ট্রেনটা ওর ভাষায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ‘ট্রেনবাড়ি’। হাতে সময় রয়েছে। তাই একদিন দেরির জন্য আমরা বড়রাও খুব একটা বিচলিত হইনি। এরকম তো হতেই পারে বলে মেনে নিয়েছি। আগে থেকে হোটেল ঠিক ছিল। রাত্রিটা হোটেলে কাটিয়ে,পরদিন বেরিয়ে পড়লাম তাজমহল দেখতে। হোটেল থেকে খুব বেশি দূর নয়। অটোতেই পৌঁছে গেলাম তাজমহল। লম্বা টিকিটের লাইন। কিন্তু দ্রুতই মিলল টিকিট। গাইড আগেই আমাদের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল। এবার তাঁরই সূত্রে এল ফটোগ্রাফার। গাইড বললেন,ফটো সব আগেই তুলে নিন। তাহলে বেরোবার সময় নিয়ে বেরোতে পারবেন। আমরা রাজি হলাম না। যা দেখতে এসেছি তা না দেখে নিজেদের ফটো তোলায় মত্ত হবার ইচ্ছে আমাদের নেই। ফটোগ্রাফার ফোন নম্বর দিয়ে বলে গেলেন,আমাদের সময় হলে তাঁকে যেন একবার খবর দেওয়া হয়। অনুরোধ করলেন অন্য ফটোগ্রাফার না নেবার জন্য। গাইডের পিছু পিছু আমরা এগিয়ে চললাম। যে তাজমহল এতদিন দেখেছি ক্যালেন্ডারে, বইয়ের পাতায়, এখন সেই তাজমহলের একেবারে সামনে। স্বপ্ন না বাস্তব! রোমাঞ্চ সারা শরীরে। গাইড বোঝাচ্ছিলেন,কোথা থেকে কী পাথর আনা হয়েছিল,নির্মাণ কাজের জন্য কতগুলো হাতি লেগেছিল এবং কত শ্রমিক,কত সময় লেগেছিল তৈরি করতে ইত্যাদি খুঁটিনাটি তথ্য। আমি  শুনছিলাম,আবার শুনছিলামও না। আসলে তাজমহলের অপার্থিব সৌন্দর্যের সামনে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝেই গাইডের কথা  থেকে ছিটকে যাচ্ছিলাম। কয়েকশো বছর আগের এক পত্নীনিষ্ঠ বাদশাহের এই অসামান্য কীর্তি দেখে দলের অন্য সঙ্গীদেরও আমারই মত অবস্থা।   বাইরে থেকে কিনে নিয়েছিলাম পায়ে পরার প্লাস্টিক আবরণী। এবার জুতোর উপর তা চাপিয়ে উঠে পড়লাম তাজমহলের উন্মুক্ত আঙিনায়। পার্শ্বস্থ মসজিদটিকে এক ঝলক দেখে নিয়ে দাঁড়ালাম তাজমহলের সমাধিকক্ষের ভিতরে প্রবেশ করবার লাইনে।  একসময় ভিতরে প্রবেশ করলাম। ভিতরে কিন্তু দু দন্ড দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। চলতে চলতে দেখা,আবার দেখতে দেখতে চলা। ভিতরে ফটো তোলা বারণ। কিন্তু শুনছে কে? অনে্ককেই ওই অবস্থাতেও ছবি তোলার জন্য মোবাইল তাক করতে দেখা গেল। সমাধিকক্ষ থেকে বেরোলাম। আবার বাইরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। নীচে যমুনা। কিন্তু একী করুণ অবস্থা তার! বন্দী অবস্থায়…

0 Comments

End of content

No more pages to load