প্রিয় লেখকঃ কবি ও সমালোচক মোহিতলাল

প্রিয় লেখক কবি ও সমালোচক মোহিতলাল  হার্টের ্ যন্ত্রণা। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। কিন্তু দৃঢ়চেতা মানুষটি যন্ত্রণা নিয়েও অবিচল। চোখেমুখে নেই কোনও ভয়ের চিহ্ন। সেদিন সকালে আকাশ ছেয়ে গিয়েছিল কালো মেঘে। তা দেখে অসুস্থ শরীরেও উঠে বসেছেন। গুনগুন করে গেয়েছেন,'বহুযুগের ওপার থেকে আষাঢ় এল আমার মনে।' মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে নার্স এলেন নাড়ি দেখতে। হাতটা নার্সের হাতে তুলে দিতে দিতে বললেন,'মজেসে চল রহে।' তাঁর শেষ কথা। অকুতোভয়,দৃঢ়চেতা এই মানুষটির নাম মোহিতলাল। মোহিতলাল মজুমদার। ১৮৮৮-এর ২৬ অক্টোবর থেকে ১৯৫২ এর ২৬ জুলাই,মোটামুটি চৌষট্টি বছরের নাতিদীর্ঘ এক জীবন।মোহিতলালের প্রথম পরিচয়,তিনি কবি। দ্বিতীয় পরিচয়,সাহিত্য সমালোচক। দুই ক্ষেত্রেই তিনি কীর্তিমান। তাঁর কবিতা নিয়ে সমসময়ে,পরবর্তীকালে অনেক আলোচনা হয়েছে।…

0 Comments

গল্পঃ একটা চুরি

গল্প    একটা চুরি               চোর ঢুকেছিল এটা স্পষ্ট। কিন্তু কী চুরি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।  তবে ঘর লন্ডভণ্ড।না,আলমারি খোলেনি কেউ।ড্রেসিং টেবিলের কাচ সরিয়েও কেউ দেখেনি ওখানে কী আছে। শোকেসের নিচের সেলফে দলিল-দস্তাবেজের মধ্যে লুকিয়ে রাখা মার গয়নার বাক্সটাও কেউ টেনে বের করেনি।  কিন্তু যা হয়েছে তাও কম নয়। টেবিলের উপর রাখা জলের জক উল্টে মেঝে জলমগ্ন হয়েছে। তরকারির ঝুড়ি উল্টে আলু পটল সব মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। গ্যাসের পাশে রাখা ভাতের খালি জায়গাটা কাত হয়ে গিয়েছে। ড্রইংরুমের সোফাটার অবস্থাও ভাল নয়।বেশ খানিকটা ছেঁড়া। মনে হচ্ছে কেউ বুঝি সোফাটার মধ্যেও কিছু খুঁজেছে।  আলু পটল যেভাবে ছড়ানো তাতে মনে হয় ওগুলোর জন্যই চোরের আগমন। কিন্তু…

0 Comments

চল পানসিঃ মায়াপুর ভ্রমণ

চল পানসি মায়াপুর ভ্রমণ           নদিয়া জেলার লোক হয়েও এখনও মায়াপুর দেখনি! বয়স্ক সহকর্মীর এই শ্লেষ সেদিন এতটাই তাতিয়ে দিল যে ঠিক করলাম,আর দেরি নয়। সামনে যে কোনও একটা ছুটির দিন পেলেই বেরিয়ে পড়ব মায়াপুরের উদ্দেশে। মায়াপুর  আমার বাড়ি থেকে খুব দূরের রাস্তা নয়। ট্রেন আর বাস মিলিয়ে ঘন্টা দেড়েকের পথ। কিন্তু একদিনের সফর। ট্রেন বাস করলে বেড়ানোয় কাটছাঁট করতে হতে পারে। সেজন্য  ভাড়া করা চারচাকার সওয়ারি হওয়াই সাব্যস্ত হল। মায়াপুরের ইস্কন মন্দিরের কাছে গাড়ি পার্কিং-এর  ব্যবস্থা আছে। সেখানে গাড়ি পার্কিং করে টো টো নিয়ে বেরোলাম মায়াপুরের দর্শনীয় জায়গাগুলো দেখতে। ইতিহাস ভালবাসি। তাই প্রথমেই গেলাম বামুনপুকুর বাজার ছাড়িয়ে বল্লাল সেনের নামাঙ্কিত ঢিপিটি দেখতে। স্থানীয় লোকের কথায় এটি বল্লাল…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (আমার বাংলাদেশ)

কথাঃ আবোলতাবোল আমার বাংলাদেশ মৈমনসিংহ,কিশোরগঞ্জ,নেত্রকোনা,পূর্বধলা ,কালদুয়ার - নামগুলো ছোটবেলাতে আমাদের চারপাশে ঘুরত,পাক খেত। কখনও বাবা সান্ধ্য মজলিসে বসে হারিয়ে যেতেন ফেলে আসা ওইসব জায়গায় , আবার কখনও ঘুম না আসা ছুটির দুপুরে মার গলায় জলতরঙ্গ হয়ে বাজত  ওইসব জায়গার স্মৃতি।বাবা এদেশের আঞ্চলিক বা মান্য কোনও উপভাষাই  শেখার কথা ভাবেননি। মা শিখেছিলেন, তবু এদেশে আসার পর জীবনের পরবর্তী ষাটটি বছর পূর্ববঙ্গের আঞ্চলিক উপভাষাতেই  কথা বলে গিয়েছেন। আমাদের বাড়ি জুড়ে থাকত বাংলাদেশের সোঁদা গন্ধ,মিঠে সুর,সেখানকার আচার,ব্রত,ঘরকন্নার টুকিটাকি এবং অবশ্যই কিছুটা ঘটি-বিদ্বেষ। এত বাংলাদেশ নিয়ে বড় হলেও পিতৃপুরুষের বাংলাদেশের একটা ছবি আঁকা আমার পক্ষে কঠিন ছিল। কারণ মুখের স্মৃতিকথায় ভূগোল থাকে অস্পষ্ট। আর  সময় এত…

0 Comments

প্রিয় লেখকঃ কথাশিল্পী আশাপূর্ণা

প্রিয় লেখকঃ কথাশিল্পী আশাপূর্ণা প্রিয় লেখক                                   কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দু'টি বই লেখিকা চেয়েছেন। কৃষ্ণনগর যাওয়ার সময় ট্রেনে পৌঁছে দিতে হবে। কথা মত তাঁদের প্রকাশনী থেকে বের হওয়া লেখিকার বই দুটি স্টেশনে দিতে এসেছেন প্রকাশক। আগে কিছুটা আলোচনা হয়েছিল,এই সুযোগে সেই আলোচনার সূত্র ধরে তাঁদের প্রকাশনীর পত্রিকায় ধারাবাহিক লেখার ব্যাপারটা তিনি আবারও পাড়লেন লেখিকার কাছে। লেখিকা বললেন,লিখবেন। তবে,একটু গুছিয়ে নিতে হবে। তাই সামনের মাসে হবে না,শ্রাবণ মাসে হয়ে যাবে।রোমাঞ্চিত প্রকাশক বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য শুধোলেন,'উপন্যাসের নামটা কী হবে?' লেখিকা বললেন,'লিখব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি,সুতরাং নামটা 'প্রতিশ্রুতি'ই থাক!' তারপর একটু…

0 Comments

গল্পঃ পদবি

গল্পঃ পদবি গল্প পদবি বছর পঁচিশের লম্বা ছেলেটি বলল-‘আপনার রহস্য উপন্যাস ‘মেজবাবুর প্রত্যাবর্তন’ এবার ‘পাঁচকড়ি দে’ পুরস্কার পেয়েছে,এজন্য অভিনন্দন।’ মুখে হাসি টেনে অনিমেষ বলল-‘ধন্যবাদ।’ ছেলেটি বলল-‘আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই,আমাদের ‘অনুসন্ধান’ পত্রিকার তরফ থেকে। পুরস্কারটা পাবার পর থেকেই সাক্ষাৎকার নেবার ধুম পড়েছে। অনিমেষ তাই সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর একটা কাগজে লিখে জেরক্স করিয়ে রেখেছে। ‘একটা লম্বা ছেলে দেখা করতে এসেছে’ ছেলের কাছে শুনে সেই জেরক্সের একটা কপি পাঞ্জাবির পকেটে নিয়েই দোতালা থেকে ও নেমেছিল। ‘কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই’ শুনে কপিটা পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করল অনিমেষ। ছেলেটির হাতে দিয়েই বলল-‘এতেই সব লেখা আছে,যদি ছাপতে চান এটাই-’ ছেলেটি প্রশ্ন-উত্তর লেখা কাগজটির দিকে এক নজর চোখ বুলিয়ে বলল-‘এটা দিলেন,নিশ্চয়ই কাজে লাগবে আমাদের। কিন্তু এর…

0 Comments

গল্পঃ পদবি

গল্পঃ পদবি গল্প পদবি বছর পঁচিশের লম্বা ছেলেটি বলল-‘আপনার রহস্য উপন্যাস ‘মেজবাবুর প্রত্যাবর্তন’ এবার ‘পাঁচকড়ি দে’ পুরস্কার পেয়েছে,এজন্য অভিনন্দন।’ মুখে হাসি টেনে অনিমেষ বলল-‘ধন্যবাদ।’ ছেলেটি বলল-‘আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই,আমাদের ‘অনুসন্ধান’ পত্রিকার তরফ থেকে। পুরস্কারটা পাবার পর থেকেই সাক্ষাৎকার নেবার ধুম পড়েছে। অনিমেষ তাই সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর একটা কাগজে লিখে জেরক্স করিয়ে রেখেছে। ‘একটা লম্বা ছেলে দেখা করতে এসেছে’ ছেলের কাছে শুনে সেই জেরক্সের একটা কপি পাঞ্জাবির পকেটে নিয়েই দোতালা থেকে ও নেমেছিল। ‘কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই’ শুনে কপিটা পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করল অনিমেষ। ছেলেটির হাতে দিয়েই বলল-‘এতেই সব লেখা আছে,যদি ছাপতে চান এটাই-’ ছেলেটি প্রশ্ন-উত্তর লেখা কাগজটির দিকে এক নজর চোখ বুলিয়ে বলল-‘এটা দিলেন,নিশ্চয়ই কাজে লাগবে আমাদের। কিন্তু এর…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (মানিক ও অন্য দুই বন্দ্যোপাধ্যায়)

গল্পঃসাহিত্য/সাহিত্যিক মানিক ও অন্য দুই বন্দ্যোপাধ্যায়       আপনার পছন্দের উপন্যাস কোনটি? এমন প্রশ্ন বইপ্রিয় পাঠকদের নানা ওয়েব গ্রুপে মাঝে মাঝেই ওঠে। বই পাঠকদের একটা বড় অংশ প্রিয় বই হিসাবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ অথবা ‘দিবারাত্রির কাব্য’এর নাম উল্লেখ করেন। বইদুটি বাংলাসাহিত্যের ইতিহাসে যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জীবিতকালে মানিক তেমন পাঠকপ্রিয় লেখক ছিলেন না। এখন হয়েছেন এটা সুখের কথা। প্রসঙ্গত বাংলা সাহিত্যের তিন দিকপাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের অবস্থানটা ঠিক কোন জায়গায়, একবার দেখে নেওয়া যেতে পারে। শুধু সাহিত্যিক মানিক নন,ব্যক্তি মানিকেরও। তিনজনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ বিভূতিভূষণ জন্মেছিলেন ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা জন্মপত্রিকায় এই তারিখটাই লেখা রয়েছে। তারাশংকরের জন্ম ২৩ জুলাই ১৮৯৮ এ । আর মানিক…

0 Comments

গল্পঃঅণুগল্প (ডালপুরি আর গজা)

অণুগল্প ডালপুরি তিন মাস পরে ছেলেটা আবার বসেছে। তেতালায় বসেও জানলা দিয়ে শোভন আওয়াজ পাচ্ছেন ওর ডালপুরি ভাজার। ষাট পেরিয়েছে, কিন্তু দোকানের ডালপুরির ব্যাপারে দুর্বলতা যায়নি। আগে মাঝে মাঝেই জানলা দিয়ে একটা ব্যাগ দড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে দিতেন। ডালপুরি ভেজে,প্যাক করে ছেলেটা ঢুকিয়ে দিত ঝোলায়। দাম মেটানো হত পরে। যখন দূরের কোনও দোকানে কিছু কিনতে নামতেন। ছেলেটার ডালপুরির স্বাদই আলাদা। অনেকদিন পরে ওকে ডালপুরি ভাজতে দেখে মনটা আজ আবার আনচান করে  উঠল শোভনের। কিন্তু খাওয়াটা কি ঠিক হবে? হাত দিয়েই তো সব করছে। খাচ্ছে অবশ্য অনেক লোক। সাতপাঁচ ভেবে শেষ পর্যন্ত দড়ি লাগানো ঝোলাটা নিচে পাঠিয়েই  দেন শোভন। তারপর উপর থেকে…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল (সাতেপাঁচে)

কথাঃআবোলতাবোল (সাতেপাঁচে) কথাঃ আবোলতাবোল সাতেপাঁচে আজ সকালে একটা সাতেপাঁচে থাকা লোক দেখলাম।  মুখে এন পঁচানব্বই সেঁটে চিনি কিনতে গিয়েছিলাম। দূরে নয়,পাড়ারই মুদির দোকানে।  গিয়ে মুদির দোকানের কাঠের টেবিলটায় সবে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছি। অমনি কোত্থেকে ছুটে এল ওই  সাতেপাঁচে।-'শুধু নিজের সেফটি হলেই হবে! যে ছেলেটা মাল দিচ্ছে,তার কথা ভাববেন না?'-'মানে?''মানে এত টেবিলের কাছে ঘেঁষে দাঁড়িয়েছেন কেন? সরে আসুন ফুট খানেক!''সরি সরি' বলে পিছু হটি। আমি সাতেপাঁচে না থাকা লোক। সাতসকালে এমন একটা সাতেপাঁচেকে পেয়ে মন ভালো হয়ে যায়।চিনি নিয়ে চলে আসছি,হঠাৎ সাতেপাঁচের গলা শুনি পিছন থেকে। দোকানের কর্মচারির উদ্দেশে।-'দে সঞ্জু,একটা সিগারেট দে। আজকাল তো আসলেই বিড়ি ধরিয়ে দিস। সাত সকালে তোদের হয়ে…

0 Comments

প্রিয় লেখকঃ প্রকাশক সজনীকান্ত

প্রিয় লেখকঃ প্রকাশক সজনীকান্ত প্রিয় লেখক  প্রকাশক সজনীকান্ত               স্ত্রী আসন্নপ্রসবা। তিনি নিশ্চিত, সংসারে যুক্ত হতে চলেছে যে নতুন অতিথি,সে হবে পুত্র। অনাগত সন্তানকে পুত্র ধরে নামও ঠিক করে ফেললেন তার। রঞ্জন। এসব এত তাড়াতাড়ি করার কারণ আছে। নীরদচন্দ্রকে তিনি কথা দিয়েছেন, বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’র তিনিই হবেন প্রকাশক। কিন্তু প্রকাশক হলেই তো হল না। একটা প্রকাশালয় তো দরকার। দরকার তার একটা জুৎসই নামও। কী নাম দেবেন? যে আসছে,তার নামটা ছাড়া! প্রকাশালয়ের নাম দিলেন-রঞ্জন প্রকাশালয়। নীরদচন্দ্র সজনীকান্তের মুখে কথাটা শুনে প্রথটায় কিন্তু একটু অবাকই হয়ে গিয়েছিলেন। বই প্রকাশ করা সহজ কাজ নয়। অনেক টাকাকড়ির ব্যাপার। সজনীকান্তের মাস মাইনে তখন দেড়শো। ভাড়া বাড়িতে নতুন সংসার। অন্য কোনও জায়গা থেকে হঠাৎ টাকা এসে হাজির হবে তাও নয়। কিন্তু তিনি সজনীকান্ত। প্রবল আত্মবিশ্বাস তাঁর চরিত্রে। তাই অবাক হয়েও নীরদচন্দ্র তাঁর কথায় ভরসা রাখলেন। ছুটলেন তাঁদের মির্জাপুর স্ট্রিটের মেসে, বিভূতিভূষণকে আনতে।  এ দিনের ঘটনার আগে একটু অন্য ইতিহাস আছে। ‘বিচিত্রা’য় ধারাবাহিক বের হচ্ছিল ‘পথের পাঁচালী’। সজনীকান্ত ‘বিচিত্রা’র এক আধটা সংখ্যায় ‘পথের পাঁচালী’ ধারাবাহিকে চোখ বোলালেও মন দিয়ে পড়েননি,পড়ার তাগিদও অনুভব করেননি। আগের দিন ‘শনিবারের চিঠি’র আড্ডায় নীরদচন্দ্র,বিভূতিভূষণ দুজনেই ছিলেন। তখন নীরদচন্দ্র কথা প্রসঙ্গে আক্ষেপ করেন, ‘পথের পাঁচালী’র মত উপম্যাসের একজন ভদ্র প্রকাশক জুটল না বলে। নীরদচন্দ্রের ভাষায়,এটা বাংলা সাহিত্যের দুর্ভাগ্য। নীরদচন্দ্রের কথায় নড়েচড়ে বসলেন সজনীকান্ত। কী এমন বিশেষত্ব আছে উপন্যাসটার যে এভাবে বলছেন নীরদবাবু! একটু পড়ে দেখতে হয়! ’বিচিত্রা’র সব ফাইল জোগাড় করে…

0 Comments

প্রিয় লেখকঃ সব্যসাচী লেখক বুদ্ধদেব বসু

প্রিয় লেখকঃ সব্যসাচী লেখক বুদ্ধদেব বসু প্রিয় লেখক সব্যসাচী লেখক বুদ্ধদেব বসু একটা নতুন ছেলে এসেছে স্কুলে। লাজুক। বেশি কথা বলে না। কেবল টিফিনের সময় বই পড়ে নানারকম। মাস্টারমশাইরা এর বেশি কিছু বুঝতে পারেননি প্রথমটায়। কয়েকমাস পরেই ছেলেটা এই স্কুলে দিল তার প্রথম পরীক্ষা। ছেলেটার পরীক্ষার খাতা দেখে তো মাস্টারমশাইদের চোখ চড়ক গাছ। বিশেষ করে ইংরেজি আর বাংলার খাতা দেখে মাস্টারমশাইরা যাকে বলে অভিভূত। প্রধান শিক্ষক মশাই সাহিত্যরসিক। তিনিও উত্তেজিত। এমন ছাত্রের দেখা তো ক্কচিৎ-কদাচিৎই পাওয়া যায়। ঢাকা কলেজি্যেট স্কুলে তখন একটাই আলোচনা,একটা প্রতিভাধর ছেলে এসেছে বিদ্যালয়ে।স্কুলে শোরগোল ফেলা দেওয়া এই ছেলেটিই পরবর্তীকালের বুদ্ধদেব বসু।যিনি লেখক হিসেবে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন…

0 Comments

কবিতাঃ একটা কলম চাই ,ছায়ার গল্প

      কবিতা                                              একটা কলম চাই                                      দিন গড়িয়ে যায় ভাবনা পতনমুখী দেহ ভাঙে বিমর্ষ অভিযানে এখন কে বলবে,একটু দাঁড়াও তবে কি উপরে উঠব কিছু হাত বাড়াই,বাড়িয়েই চলি হয়ত সেভাবে বাড়ানো হয়নি হাত হয়ত আমারই অন্তর্গত কিছু ছায়া তবু অলীক স্বপ্নে হাতড়ে যাই,হাতিয়ে চলি এভাবেই কথা জমে কথা জমে যায় দিনরাত ভাবি,আহা আবার যদি সেইঃ পাতায় পাতায় খেলাঘর আবার যদি সেই… সব কথা পর্দায় ফাঁস হলে কথার কি থাকে আর নিজস্ব সুখ পর্দা ব্যাকরণ চায় কথা থেকে টেনে নেয় অগোছালো রস একটা কলম খুব জরুরী এখন… ছায়ার গল্প আয়নায় যে ছায়া পড়ে  সে-ই শুধু জানেঃ প্রত্যাখ্যান আর প্রতিষ্ঠার  মাঝখানের দূরত্ব মাঝখানের রাস্তাটার আবহাওয়া,প্রকৃতি;  রাস্তা পেরোতে গিয়ে  উৎকন্ঠা আর অনিদ্রায় কীভাবে  নিত্য ক্ষয়ে যাওয়া- জানে,রাস্তার বাঁকে বাঁকে মনের অজস্র  বিকার-বৃত্তান্ত, কিম্বা আত্মার গোপন কান্নার কাছে  বিকিয়ে না যাবার   রূঢ় পার্শ্বচাপ; ছায়া জানে, নিজের তৈরি করা আগুনে  আত্মাহূতি দেবার জেদে  লক্ষ্মীর  অস্থিরতার গল্প, আর বিচ্ছিন্নতার  মৃত চরে   ক্রমাগত …

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল ( আজও যাঁরা পাশে)

কথাঃআবোলতাবোল (আজও যাঁরা পাশে) আজও যাঁরা পাশে ওঁরা কেউ সুনীতি চাটুজ্যে বা রাধাকৃষ্ণণ নন। ওরা সাধারণ। তবু ওঁদের শিক্ষাকে পাথেয় করেই তো চলেছি আমরা লক্ষ কোটি জন। পড়া নিয়ে বা পড়ার বাইরে কত কথাই না রয়েছে তাঁদের! কিছু কিছু তো সারা জীবনের সঙ্গী। কারণে, অকারণেও।কার্তিক স্যারের কথাই ধরা যাক। পড়ানোয় তেমন নাম ছিল না স্যারের। একটু ভাবুক প্রকৃতির মানুষ। ক্লাসে এসে পড়ানোর চেয়ে জানলা দিয়ে চেয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন। 'কোলিয়ারীর বুকে' বলে একটা বইও লিখেছিলেন। বাংলার স্যার। মাঝে মাঝে নিচু ক্লাসে ইংরেজি নিতেও আসতেন। আমরা তখন এইট। একদিন ইংরেজির ক্লাসে স্যার 'অক্সিলিয়ারি ভার্ব' পড়াতে এসে বললেন,'একটা খোঁড়া লোক হাঁটতে…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(বরণীয়দের না-ক্রিয়া)

 গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক বরণীয়দের না-ক্রিয়া বিদ্যাসাগর তখন চন্দননগরে অবস্থান করছেন।  হিতবাদীর সহ সম্পাদক চন্দননগর নিবাসী যোগেন্দ্রকুমার চট্টোপাধ্যায় গিয়েছেন বিদ্যাসাগরের কাছে। যোগেন্দ্রকুমারের তখন যুবক বয়স। পিতার সূত্রে বিদ্যাসাগরের সঙ্গে পরিচয়। প্রায় প্রায়ই চলে যান বিদ্যাসাগরের কাছে। খুঁটিয়ে দেখেন বিদ্যাসাগরের ঘর গেরস্তালি । এর মধ্যে সবচেয়ে  অবাক লাগে বিদ্যাসাগরের বসার চেয়ারটাকে  দেখে ।   বাড়িতে তো সারাদিন খালি গায়েই থাকেন। আবার প্রতিদিন তেলও মাখেন সারা গায়ে। অথচ বসার চেয়ারের পৃষ্ঠদেশের বার্নিশ মলিন না হয়ে কীভাবে এমন অটুট থাকে!\সেদিন প্রশ্নটা করেই ফেললেন বিদ্যাসাগরকে।যোগেন্দ্রকুমারের প্রশ্ন শুনে বিদ্যাসাগর হেসে বললেন-'হেলান দিয়ে বসলে তবে তো রং চটবে। আমি কখনও চেয়ারে হেলান দিয়ে বসি না। এতদিন আসছিস,দেখিসনি!'চিরকাল শিরদাঁড়া সোজা করা…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (বানর কাহিনি)

কথাঃ আবোলতাবোল বানর কাহিনি  বানরের রূপ ধরে থাকা রাজপুত্র আর তার দুখিনী মায়ের  সেই রূপকথার গল্পটা শোনাচ্ছিলাম ছেলেকে। এ গল্প  আমার কাছে ওর বহুবার শোনা । তবু এ গল্প আমি বলতেও ভালবাসি,আর ও শুনতেও ভালবাসে। পঞ্চতন্ত্রের সেই বানরের  গল্পটা আবার ওর খুব অপছন্দের। যেখানে বানরটার নির্বুদ্ধিতায় প্রাণ দিতে হয়েছিল রাজাকে। বানর নিয়ে ওর শিশুমনে কৌতূহলও অপার।-'বাবা কত বছর আগে আমরা বানর ছিলাম?' এমন প্রশ্ন আমাকে অহরহই করে।আজও করল।  'আমার মা সব জানে' লিখেছেন অদ্রীশ বর্ধন। শিশুরা হয়ত এমনই ভাবে। এবং শুধু মা নয়। বাবা্র সম্পর্কেও। মানে,'আমার বাবা সব জানে'। কিন্তু সত্যি কি তাই! তবে এ প্রশ্নটার উত্তর আমার জানা। আগেও বলেছি ওকে।…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (স্কুল পরিদর্শন)

 স্কুল পরিদর্শন বিদ্যাসাগর গিয়েছেন এক গ্রামের স্কুলে। স্কুল-পরিদর্শনে। উঁচু ক্লাসের ছাত্রদের ভূগোলের বিদ্যা পরীক্ষা করতে তিনি একজন ছাত্রকে শুধোলেন-‘ বল তো,পৃথিবীর কত রকম গতি আছে? আর কোন গতির জন্য কত সময় লাগে? ছেলেটি জবাব দিল-‘পৃথিবীর তো কোনও গতি নেই।পৃথিবী স্থির হয়ে আছে।আর পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে সূর্য।’ এক এক করে সব ছেলেকে জিজ্ঞেস করে একই উত্তর পেলেন বিদ্যাসাগর। বিদ্যাসাগর ভাবলেন নিশ্চয় ,স্কুলের পন্ডিতমশাই এরকমই শিখিয়েছেন ছাত্রদের। তবু ব্যাপারটা যাচাই করার জন্য পন্ডিতমশাইকে ধরলেন।-‘ছেলেরা কী বলছে এসব? পৃথিবী নাকি স্থির,আর সূর্য ঘুরছে   পৃথিবীর চারদিকে!’  পন্ডিতমশাই বললেন-‘কেন কথাটা কি ভুল?’ -‘ভুল তো বটেই। পৃথিবী যে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে,আপনি জানেন না?’ যেন কোনও আশ্চর্য কথা শুনছেন,এমনিভাবে পন্ডিতমশাই তাকালেন বিদ্যাসাগরের দিকে।–‘সত্যি সত্যি পৃথিবী ঘোরে নাকি? আমি ভাবতাম পৃথিবী এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে।’ বিদ্যাসাগরের মতো ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও অনেকদিন স্কুল ইনেস্পেক্টারের দায়িত্ব সামলাতে হয়। স্কুল ইনেস্পেকশানের সময় তাঁর একটা মজার অভিজ্ঞতা হয়েছিল একবার। তবে এখানে শিক্ষককেন্দ্রিক ঘটনা  নয়। ঘটনাটি বই কেন্দ্রিক। এক স্কুলে গিয়েছেন ভূদেব। একটা ক্লাশে গিয়ে দেখলেন,পড়ানো হচ্ছে জ্যামিতি। বইটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখলেন ভূদেব। বইয়ের লেখকটি তাঁর চেনা। তাঁরই অধীনে তিনি একজন সাব ইনেসপেক্টার। ভূদেব বইটা দেখতে দেখতে এক জায়গায় একটা মারাত্মক ভুল পেলেন। ভুলটা  পেন দিয়ে কেটে সংশোধন করে দিলেন ভূদেব। ক্লাশের শিক্ষককে বললেন-‘সব ছাত্রকে ভুলটা সংশোধন করে নিতে  বলবেন।’ কিছুদিন পরে ওই জ্যামিতি বইয়ের লেখক সাব ইনেস্পেক্টার এলেন ওই স্কুল পরিদর্শন করতে। এসে…

0 Comments

গল্পঃ অণুগল্প (কালীপুজোর রাতে)

কালীপুজোর রাতে               কালীপুজোর রাতে ভূত দেখল বিনিপিসি। পিসিকে দেখে মনে হল,সাংঘাতিক ভয় পেয়েছে। শরীর কাঁপছে। চোখমুখও ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। কীভাবে এমন হল বলতে পারছে না কেউই। আমাদের বাড়িতেও পুজো। প্রায় সকলেরই উপোস। তবে কী কারণে জানিনা বিনিপিসি এবার উপোস করেনি। সন্ধেবেলায় পিসি বলল-‘তপু লাইটগুলোর এখনও তো কিছু করলি না!’   আমি বললাম-‘সে আর কতক্ষণ লাগবে। এই যাচ্ছি ছাদে।’ পিসি বলল-‘চল আমিও যাব।’ সেইমত এসে ছাদ থেকে এলইডি চেনগুলো ঝোলাচ্ছিলাম আমরা দুজন। হঠাৎ একটা চেন পিসির হাত ফস্কে  নীচে পড়ে গেল। পিসি বলল-‘দাঁড়া আমি নিয়ে আসছি।’ পিসি গেল। আর এল না। কিছুক্ষণ পরে নীচ থেকে চীৎকার। গিয়ে দেখি পিসিকে নিয়ে ব্যস্ত সব্বাই। কেউ হাওয়া করছে,কেউ মাথায় জল ঢালছে। শুনলাম,ঘরের পিছনে পিসি ভূত দেখেছে। বাবা বলল-‘ও ঘরের পিছনটায় গিয়েছিল কেন?’ উত্তরটা কেউ জানে না,আমি ছাড়া। -‘একটা এলইডি চেন পড়ে গিয়েছিল,পিসি ওটা আনতে গিয়েছিল পিছনে।’ বললাম আমি। ঘরের পিছনটা এমনিতেই আমাদের বেশ অন্ধকার থাকে। তার উপর আজ অমাবস্যা। বাবা বলল-‘চল তো সবাই আলো নিয়ে পিছনটায়। দেখি কী দেখে ভয় পেল বিনি। বিনিকেও তোল।ও-ও চলুক আমাদের সঙ্গে। নিজের চোখেই দেখে আসুক।’ বোঝাই যাচ্ছে যে বাবা নিশ্চিত পিসি অন্ধকারে ভূত দেখেনি। অন্য কোনও কিছুকে ভূত ভেবেছে। আলো নিয়ে সবাই বাড়ির পিছনে গেলাম। গিয়ে কিন্তু আমরা সত্যি সত্যি ভূত দেখলাম। তবে প্রেতাত্মা নয়,অন্য ভূত।  পড়শি রানীদির মেয়েটা বাড়ির পিছনটায় রান্নাবাটি খেলে আমরা জানতাম। কিন্তু সে-যে এ রাতে ওখানে  এমনকান্ড করেছে তা কে জানত! গিয়ে দেখি ওর খেলাঘরের চারদিকে জ্বলছে প্রদীপ। আর ও বাড়ির  ভিতরের এমন কান্ডে নিজেকে দায়ী ভেবে একপাশে কাঁপছে থরথর করে। কিন্তু এই প্রদীপ দেখে পিসি ভয় পেল কেন? এ তো ভয় পাবার জিনিস নয়! পিসি ততক্ষণে ধাতস্থ। বলল-‘আমি এই প্রদীপগুলো দেখে অতীতে ফিরে গিয়েছিলাম। ঠিক এভাবেই আমাদের বাড়িটাকে কালীপুজোর রাতে সাজাত মানুষটা। তোমরা বিশ্বাস কর,আমি যখন এইসব ভাবছি্‌, ঠিক সেমুহূর্তে নিজের কানে শুনেছি তপুর মৃত পিসেমশাইয়ের গলা।ও বলছে-‘বাড়িতে প্রদীপ দেবে না বিনি?’-দাদা,তুমি ব্যবস্থা করো,আমি ফিরতে চাই আমার স্বামীর ভিটেতে।’    অ্যাক্সিডেন্টে পিসেমশাই মারা যাবার পর থেকেই পিসি এখানে। আমি জন্ম থেকেই পিসিকে এ বাড়িতে দেখছি। বাবা পিসিকে অনেক বুঝিয়েছে, ওখানে পিসেমশাইয়ের বিশাল সম্পত্তি,একমাত্র ছেলেটার কথা ভেবেও পিসির ওখানে যাওয়া উচিত। পিসি রাজি হয়নি। তবে দাদার উপর নির্ভরশীল নয় পিসি। টিউশন,সেলাইয়ের কাজ করে নিজের আর ছেলের খরচ পিসিই চালায়। পিসির ছেলে,রাজুদা এবার মাধ্যমিক দেবে এখান থেকেই। পিসি বাড়ি ফিরতে চায়,এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আমাদের বাড়িতে আর কী হতে পারে! তার মানে ভূত দেখা মানে শুধু খারাপ কিছু তা নয়। ভূত দেখলে মানুষের অনেক ভুলও ভাঙে! এমন ভূত নামিয়ে আনার পিছনে রানীদির সেই ছোট্ট মেয়েটা। কালীপুজোর রাতে প্রসাদ খাবার সময় এবার একটু বেশিই নজর দেওয়া হয় ওর দিকে।

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (সিনেমা ও বিভূতিভূষণ)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক সিনেমা ও বিভূতিভূষণ যে চলচ্চিত্র শিল্পমাধ্যমটি বিভূতিভূষণের বেশ কিছু অমর সৃষ্টির সঙ্গে সারা বিশ্বের পরিচিতি ঘটায়, সেই শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে বিভূতিভূষণের যোগ কতটুকু? শুনলে অবাক লাগবে। চলচ্চিত্রের সঙ্গে বিভূতিভূষণের যোগ এদেশে চলচ্চিত্রের শুরুর সময়টাতেও ছিল  অত্যন্ত নিবিড়। দেশি বিদেশি দুই ধরণের চলচ্চিত্রেরই রীতিমত ভক্ত ছিলেন তিনি। বিভূতিভূষণের দিনলিপির পাতা ওল্টালে দেখা যাবে কলকাতার মেসজীবনে তাঁর যাতায়াত শুধু ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি, বন্ধুবান্ধবদের আড্ডা,আর ‘বঙ্গশ্রী’র অফিসে সীমাবদ্ধ ছিল না। রীতিমত যাতায়াত ছিল থিয়েটার  সিনেমাতেও। থিয়েটার সিনেমার মধ্যে পছন্দ বেশি করতেন সিনেমাই। তাঁর দিনলিপিতে উঁকি দিলে দেখা যাবে,কখনও নীরদবাবুর (নীরদ সি চৌধুরী) সঙ্গে তিনি রূপবাণীতে ইংরেজি সিনেমা দেখছেন,কখনও রাত্রিতে বঙ্গশ্রীর  অফিস থেকে ফেরার পথে film দেখতে ঢুকছেন…

0 Comments

গল্পঃ ছোটদের ছোট ছোটগল্প ( শেষ ধুতি)

ছোটদের ছোট ছোটগল্প  শেষ ধুতি পন্ডিতমশাই টুকলি ধরেছেন। ঘরে ঘরে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে। রটবারই অবশ্য কথা। পন্ডিতমশাই টুকলি ধরেছেন এমন তথ্য এ ইস্কুলে কেউ দিতে পারবে না। একটু ভুল হল। এমন অঘটন এই ইস্কুলে কেউ ভাবতেও পারবে না।পরীক্ষার লাস্ট বেল পড়ার পরে খাতা নিয়ে বেরিয়েছি সবাই। দেখি পন্ডিত মশাই চলেছেন হনহন করে। একহাতে ঘরের সব খাতা,আর একহাতে সেই টুকলির বান্ডিল। আমরা কয়েকজন ছোকরা শিক্ষক দৌড়ে ধরে ফেললাম পন্ডিতমশাইকে। দেখি, এই প্রথম টুকলি ধরেই পন্ডিতমশাইয়ের চোখে,'আমার কাছে চালাকি!' জাতীয় অহঙ্কার।-'কীভাবে ধরলেন?' সাত্যকি টুকলিটার দিকে তাকিয়ে শুধোয়।রেগে ওঠেন পন্ডিতমশাই।-'কীভাবে মানে! যেভাবে তোমরা ধরো সেভাবেই-'-'তাহলে এতদিন...',মুখ ফসকে বেরিয়ে যায় আমার।-'এতদিন! ওই…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (অটোগ্রাফের রবি)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক অটোগ্রাফের রবি ‘বাজে কথার ঝুলি/যতই কেন ভর্তি কর/ধুলিতে হবে ধুলি’। কিছু-কথা চেয়ে পাঠানো এক ভক্তের অটোগ্রাফ খাতায় রবীন্দ্রনাথ সেদিন খানিকটা রাগত হয়েই লিখেছিলেন লাইন ক’টি। তার আগে পার্শ্ববর্তিনীকেও জানিয়েছিলেন উষ্মা-‘কি হবে রে কথা দিয়ে? কেবল কথা,কথা,কথা।’ করোনা আতঙ্কে  কাঁপছে আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্ব। এরই মাঝে রবীন্দ্রনাথ দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের বুকের বলভরসা হয়ে। কখনও ‘বিপদে মোরে রক্ষা কর’,কখনও ‘দুবেলা মরার আগে মরব না’ উচ্চারণে। অটোগ্রাফের কবিতাটিও কিছুটা যেন স্পর্শ করে গেল এই ক্রান্তিকালে পালনীয় ধর্মটিকে। কথা  নয়, নয় অযথা কলরব,চাই শুধু কাজ।  অটোগ্রাফের খাতায় কবিতা অবশ্য এটাই একমাত্র নয়। ‘ডেস্কেতে দেখিলাম,মাতা/রেখেছেন অটোগ্রাফ-খাতা।’ রবীন্দ্রনাথ নিজেই লিখেছেন এমন লাইন(‘অটোগ্রাফ’/রবীন্দ্রনাথ)। রানী চন্দের লেখা থেকে জানা যায়  ভক্তের আবেদনে সাড়া দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে কখনও শুধু অটোগ্রাফ,কখনও বা দু এক ছত্র কবিতা সহ স্বাক্ষর রোজই…

0 Comments

গল্পঃ ঘুড়ি

ঘুড়ি                                           ঘুড়িটা কাটা পড়েছে। তিনদিন হল।কাটা ঘুড়িটা ঝুলছে পবনদের শ্যাওড়া গাছে। কিন্তু কাটা ঘুড়িটা নিয়ে আসায় কোনও গা নেই তিলুর। বিকেলবেলায় বাড়ির সামনের ছোট্ট মাঠটায় তিলুর ঘুড়ি আজ তিনদিন নেই। তবু ঘুড়ি-অন্ত প্রাণ ছেলেটা চুপচাপ। কাটা ঘুড়িটা এমনকিছু উপরে নেই শ্যাওড়াগাছের। ইচ্ছে করলে ওটা নামিয়ে আনাই যায়। নামিয়ে এনে আবার মেরামত করে বিকেলে ওড়ানোই যায়। কিন্তু মেরামতের জন্য খরচ আছে। সুতো সব ছিঁড়েখুড়ে একশা। কে দেবে মেরামতের খরচ! দাদু থাকলে ভাবতে হত না। কিন্তু দাদু এখন আকাশে তারা। বাবার কীই বা রোজগার! দাদুর পেনশনের টাকাতেই সংসার চলত। এখন সংসারটাই চলছে না,তো ঘুড়ি! পবনের ঠাকুমা মাঠে বসে ছেলেদের খেলা দেখে। দেখে তিলুর ঘুড়ি ওড়ানোও। পবনের মত তিলুও তাঁকে ঠাকুমাই ডাকে। ঠাকুমা আজ বিকেলে তিলুকে চুপচাপ মাঠে বসে…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (বাঁকা কঞ্চি)

কথাঃআবোলতাবোল বাঁকা কঞ্চি সময়টা যদি হয় সকাল দুপুরের মাঝামাঝি আর কালটা যদি হয় গ্রীষ্ম তবে গ্রামের পথে বে্রোনো ছোট  ছেলেটার হাতে একটা বাঁকা কঞ্চি থাকা মানেই তো সে দিগ্বিজয়ী বীর। অন্তত সেরকমই ছিল আমাদের সময়টায়। তখন মর্নিংস্কুল থেকে বাড়ি ফিরে গরমভাতে উদরপূর্তি আর তার পরেই সটান রাস্তায়। দৌড় দৌড় দৌড়। আর দৌড়ের সঙ্গী অবশ্যই একটা বাঁকা কঞ্চি। বাঁকা কঞ্চিরও তখন অভাব ছিল না। এখানে বাঁশবন, ওখানে বাঁশবন। বাঁকা কঞ্চি দিয়ে কখনও বাতাস কাটতাম,কখনও অকারণে রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ের উপর শাসন চালাতাম আবার কখনও বাঁকা কঞ্চিটা শূন্যে তুলে ধরতাম তরবারির কায়দায়।  সেসময় পুরাণ ইতিহাসের সন তারিখ সব সরিয়ে রেখে কখনও কর্ণ হয়ে যুদ্ধ…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (চেয়ার)

কথাঃআবোলতাবোল চেয়ার -‘প্লাস্টিকের চেয়ার নেবে?’   পুরোনো কাগজ ওজন করতে করতে অল্প বয়সী ছেলেটা আমার প্রশ্ন শুনে ঘাড় ঘোরায়।-‘ভাঙা?’ -‘একেবারে ভাঙা নয়। এখনও বসা যায়।’ -‘দাম কিন্তু ভাঙারই পাবেন।-কটা আছে?’ -‘কটা আবার? একটা।’ কাগজ ওজন প্রায় শেষ। চেয়ার নেবার জন্য ঘরে ঢুকি। কিন্তু বাধা আসে ভিতর থেকে–‘নতুন  না কিনে ওটা দিয়ে দিচ্ছ যে! এই সময়ে চেয়ার কিনতে নিশ্চয় বাইরে যাবে না!’   এখন বাধা। অথচ চেয়ার বিক্রির তাড়া কিন্তু তার জন্যই। কদিন আগে চেয়ারের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে শাড়ি ছিঁড়ে গিয়েছে ভাঙা জায়গায় আটকে। তবে এই পরিস্থিতিতে কথাটায় যুক্তি আছে। কাগজ কেনার ছেলেটাকে কাগজের দাম বুঝে নিয়ে  বিদায় করি। আমার বসার চেয়ারটা ভেঙেছে কিন্তু আজকে নয়। আর তাতে যে আমার খুব অসুবিধা হচ্ছে তাও নয়। হেলান দেওয়ার অংশটায় দুপাশের দুটো জায়গা বসার অংশটা থেকে ছেড়ে গেছে। এতে বরং আমার আরামই হচ্ছে। প্লাস্টিক চেয়ারে বসে রিভলভিং চেয়ারের মজা পাচ্ছি। ভাঙা চেয়ারে দোল খেতে দেখলে বাড়ির আর একজনের চোখ অবশ্য কপালে ওঠে। -‘এভাবে দোল খেলে,একদিন কিন্তু পড়বে হুড়মুড় করে!’ কথাটা হয়ত মিথ্যে নয়। কিন্তু কম্পিউটারের সামনে বসে যখন কিছুই লেখার খুঁজে পাই না,তখন এপাশে ওপাশে দোল খেলে দেখেছি চিন্তাতেও দোলা লাগে। মনেই আসে না,এভাবে দোল খেলে পড়েও যেতে পারি।   যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল, তখন কিন্তু চেয়ারটা অনেকবারই পাল্টানোর কথা হয়েছে। আর আমি একেবারে গা করিনি তাও নয়। তবে এ ব্যাপারে আমার তো একেবারে বেহিসেবি হলে চলে না। আমি চাই দাম কম হবে,জিনিসও ভাল হবে। এই মন নিয়ে একবার বেরিয়েওছিলাম চেয়ারের সন্ধানে। কিন্তু চেয়ারের দাম আর আমার পছন্দকে এক জায়গায় আনতে পারিনি। অগত্যা এক দোকান থেকে নিয়ে এসেছিলাম চেয়ারের বিকল্প হিসাবে প্লাস্টিকের একটা টুল। আমার কম্পিউটার টেবিলের কাছে ওটা নিয়ে বসতে গিয়ে দেখি আরেক সমস্যা।  কম্পিউটার মনিটরটাকে বিঘৎ খানেক তুলতে হবে। কাজেই ওটা বাতিল হয়ে এখন ড্রইং রমে। একবার অ্যামাজনে একটা বেশ সস্তায় রিভলভিং চেয়ার দেখে অর্ডার দিয়েছিলাম। কম্পিউটার টেবিলের  সামনের সংকীর্ণ জায়গায় ওটাকে রাখতে অসুবিধা হবে জেনেও। কদিন পরে রিভলভিং চেয়ার আসার পরিবর্তে এসেছিল চেয়ারে বসার কুশন। আমি তাজ্জব। কম্পিউটার  খুলে দেখি,সত্যি ওটা কুশনেরই ডিসপ্লে ছিল। নাহলে পাঁচশো পঁচানব্বই টাকায়… -‘ভালো চেয়ার তোমার কপালে জুটবে না।’ দৈববাণীর মত সেদিন ভেসে এসেছিল রান্নাঘরের বাণী। কথাটা মাঝে মাঝে তলিয়ে ভেবে দেখি, আমার জীবনেও এর চাইতে বড় সত্যি আর কিছু নেই। জুৎসই চেয়ারের ভাগ্য আমার সত্যি নেই। আমি তখন কাগজে ইতস্তত লিখছি। যদিও বিশাল কিছু নয়। কিন্তু তবু ছাপার অক্ষরে তো বটে!আর কাগজগুলোও খুব অনামা নয়। সেসময় বাড়ি গেলে গ্রামের লাইব্রেরিতে যাওয়ার একটা অভ্যেস আমার ছিল। সেবার সেখানে যেতেই লাইব্রেরিয়ান একগাল হেসে বললেন-‘এবার জানুয়ারির তেইশেতে নেতাজির উপর এসে কম্পিটিশন হচ্ছে। তোমাকে আমারা এই কম্পিটশনে পেতে চাই।’ আমি আহ্লাদে গদগদ। কিন্তু সে আহ্লাদ বেশিক্ষণ টিকল না। কারণ,আমি ভেবেছিলাম থাকতে হবে জাজের  ভূমিকায়। লাইব্রেরিয়ান বললেন-‘বেশি প্রতিযোগী হয়নি। লিখে নিচ্ছি তাহলে তোমার নামটা!’ অল্প বয়সে চাকরিতে ঢোকার কারণে তিন জায়গা মিলে আমার বত্রিশ বছর চাকরি হয়ে গেল। কিন্তু কোথাও বাড়তি চেয়ার তেমন কেউ দেয়নি। এক জায়গায় আমার পদোন্নতি হয়েছিল। ছেড়ে আসা অব্দি সে পদেই বহাল ছিলাম। কিন্তু সে চেয়ারের অবস্থা আরও খারাপ। ডিউটিতে গেলে বাড়তি দশ টাকা,না গেলে ফক্কা। আবার রোজ গেলেও কোনওভাবেই মাসে বাড়তি দুশো টাকার বেশি নয়। আমাকে যখন এই চেয়ার দেওয়া হয়,তখন অনেককেই বিভিন্ন পদের চেয়ার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেসব চেয়ারগুলো কিছুদিন যাবার পরেই পোক্ত হল,নড়বড়ে থেকে গেল শুধু আমারটাই। এখন নেপোটিজম নিয়ে কত কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এই নেপোটিজমের স্বাদই আলাদা। এ স্বাদের ভাগ হবে না। ও হ্যাঁ,বলতে ভুলে গেছি,ওটা কোনও বেসরকারি সংস্থা কিন্তু নয়। খাঁটি সরকারি। পরের চাকরিতেও তথৈবচ। যে কাজটা একটু আধটু পারি,সে কাজের ভার  কর্তৃপক্ষ আমাকে দিতে গেলেই আড়ালে ফিসফাস। আমার অনুপস্থিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দরবার। ফলে আমার যা স্বভাব। রাগ করে আমিই  ঠেলে দিয়েছি চেয়ারটা। চেয়ার নিয়ে এখন আর আমার কোনও আফশোস নেই। এদেশে চেয়ারম্যান হতে গেলে যে যোগ্য হতে হয়, এ ধারণা আমার কাছে  ক্রমবিলীয়মান। ছোটবেলায় ইতিহাস বইতে আমরা অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত ছবি দেখতাম। মাথাকাটা কনিষ্ক,সশিং আলেকজেন্ডার। এরকমই আর একটা ছবি ছিল পিঠে চেয়ার নেওয়া হিউয়েন সাঙের। এমন সব ছবির পিছনের আসল সত্যিটা আমাদের এখন জানা। তবু ছেলেবেলার কম বুদ্ধিতে বোঝা,ওই চেয়ার-পিঠে হিউয়েন সাঙের ছবিটা আমার আজও কেমন সত্যি-সত্যি লাগে। মনে হয়,এ ছবি নয়। মেসেজ। আর  একেবারে তা হক কথা। এদেশে চেয়ার মেলা অত সহজ নয়। তার চেয়ে একটা নিজের চেয়ার বানিয়ে নেওয়া ঢের ভাল।  এ চেয়ার পুরোপুরি সেফ। এখান থেকে পড়ে যাবার সম্ভাবনা নেই। নেই চেয়ার হারিয়ে যাবার ভয়ও। আর যেহেতু এ চেয়ারে দাক্ষিণ্যের চিহ্ন থাকে…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল (বাংলা প্রবাদের পুনর্লিখন প্রস্তাব)

কথাঃ আবোলতাবোল বাংলা প্রবাদের পুনর্লিখন প্রস্তাব স্টিফেন লিককের একটা ইংরেজি প্রবন্ধ পড়েছিলাম।'ওল্ড প্রোভার্বস মেড নিউ'। প্রবন্ধটিতে বেশ কয়েকটা ইংরেজি প্রবাদ নিয়ে লেখক আলোচনা করে দেখিয়েছিলেন বাস্তবে কীভাবে প্রবাদ প্রবচনের ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটে থাকে। প্রবাদগুলোকে নতুনভাবে লেখার কথাও লেখক ওখানে বলেছিলেন।ঘটনা হল,ইংরেজির মত বাংলাতেও কিন্তু অসংখ্য প্রবাদ-প্রবচন ছড়িয়ে আছে যেগুলোর মনে হয়,ওই একই কারণে পুনর্লিখন প্রয়োজন। যেমন ধরা যাক,'বোবার শত্রু নেই'। খুবই চালু প্রবচন। কিন্তু এখন এটা  ঠিক মানা যাবে কি? বোবা বলতে এখানে শারীরিকভাবে বোবাদের কথা কিন্তু বলা হচ্ছে না। যারা ইচ্ছাকৃত বা স্বভাবগতভাবে চুপচাপ থাকে,কথা হচ্ছে তাদের নিয়েই। এদের শ্ত্রু নেই,একথা কিন্তু একেবারেই ঠিক নয়। বরং এদের শত্রু অন্যদের…

0 Comments

গল্পঃ অণুগল্প-‘টিকটিকি’ আর ‘প্যাঁচা’

অণুগল্প  টিকটিকি    ফ্ল্যাটের নিচেই সব্জি নিয়ে বসেছে একজন। ভিড় নেই। তবু ক্রেতা একেবারে শূন্য হলে,মুখে মাস্ক বেঁধে  তেতালা থেকে নামল তমাল। হাতে ঝোলা। আগে নিজে বেছে সবজি কিনত। এখন প্রশ্নই ওঠে না। বাজারে দরদাম বলে যে কোনও একটা ব্যাপার আছে,সেটাও যেন ভুলে গেছে। করোনা পালটে দিয়েছে সব। মানুষ এখন সবচেয়ে ভয়ের জীব। যদি কোনও ক্রেতা এক্ষুনি এসে জুটে যায় সে ভয়ে যতটা তাড়াতাড়ি পারল  তমাল সবজি কিনল। তারপর প্রায় দৌড়ে ফিরল ফ্ল্যাটের দরজায়। সবজিগুলো ধোয়ার জন্য তৃণাকে ঝোলাটা দিয়ে তমাল ঢুকে গেল বাথরুমে। মাস্ক ফেলে ,হাত পা সাবান  দিয়ে ধুচ্ছে এমন সময় দেখল মোটা টিকটিকিটা বাথরুমের দেওয়ালে। আগে হলে ওটাকে তাড়িয়ে ছাড়ত  তমাল। এখন…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (অভিনব পাওনাদার…)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক অভিনব পাওনাদার সেদিন কলেজস্ট্রিটে এক অভিনব পাওনাদারকে দেখা গেল। সাধারণত পাওনাদারের ভয়ে ঋণী ব্যক্তিকে  গা ঢাকা দিতে দেখা যায়। কলেজস্ট্রিটে সেদিন উল্টো দৃশ্য। ঋণী ব্যক্তিকে দেখে পাওনাদারই ছাতা দিয়ে নিজের মুখ আড়াল করার চেষ্টা করছেন। পাওনা টাকার পরিমাণও কম নয়। গত শতকের তিনের দশকের শেষ দিক সেটা। পাওনা টাকা পাঁচশোর মূল্য তাই অনেকটাই। পাওনাদার ব্যক্তিটি আর কেউ নন। বিভূতিভূষণ। ঋণী ব্যক্তিটিও উচ্চশিক্ষিত,আদর্শবাদী,বিলাতফেরত। নাম অশোক গুপ্ত। বিকলাঙ্গ,অপরিণতবুদ্ধি শিশুদের নিয়ে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল অশোক  গুপ্ত ও তাঁর স্ত্রীর। এজন্য দরকার গ্রাম্য নির্জন একটা পরিবেশ। পছন্দ হয়েছিল ঘাটশিলার এক জনহীন স্থান। তৈরি করেছিলেন ছোট্ট একটা বাড়ি। অশোক গুপ্তের সঙ্গে বিভূতিভূষণের পরিচয় ওই সময়েই। বিভূতিভূষণ তাঁদের সাধনার কথা শুনে শুধু তাঁদের উৎসাহই দেননি। আর্থিক দুরবস্থা তখন লেখার দৌলতে অনেকটাই তাঁর ঘুচেছে। অশোক গুপ্তকে তাঁদের আর্থিক অসুবিধার জন্য পাঁচশো টাকা ধারও দিয়েছিলেন। এই ধার গুপ্তসাহেবের মনে না থাকার কথা নয়। কিন্তু তিনি নানাভাবে জড়িয়ে পড়লেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানও  একসময় নিঃশেষ হয়ে গেল। স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়ল তাঁর।   ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিভূতিভূষণ গুপ্তসাহেবের খোঁজ নিতে পারলেন না। পাছে গুপ্তসাহেব ভাবেন,টাকার  জন্যই এই খোঁজ। এরপরের ঘটনা ওই কলেজ স্ট্রিটের। কিন্তু ছাতা দিয়ে মুখ আড়াল করার আগেই সেদিন অশোক গুপ্ত  দেখে ফেলেছিলেন বিভূতিভূষণকে। -‘বিভূতি না!’ বলেই এগিয়ে এসে বিভূতিভূষণের হাতটা ধরে ফেললেন তিনি। বললেন-‘আমার একটা উপকার করতে হবে। না বললে হবে না। বল করবে!’ মানুষটির উপর বিভূতিভূষণের প্রগাঢ় শ্রদ্ধা। বললেন-‘নিশ্চয় করব। বলুন দাদা।’   -‘আমাকে ঋণমুক্ত করতে হবে। তোমার পাওনা টাকার বিনিময়ে ঘাটশিলার ওই বাড়ি নিয়ে।’ বিভূতিভূষণ প্রচন্ড আপত্তি জানালেন।-‘তা কেমন করে হবে? একখানা বাড়ির দাম পাঁচশো টাকার অনেক  বেশি!’ অশোক গুপ্ত নাছোড়। বিভূতিভূষণ বললেন,-‘বেশ। কিন্তু পাঁচশোতে নয়। আর কত টাকা আপনাকে দিতে হবে বলুন।’ গুপ্তসাহেব বললেন, -‘না, আর কিছুই তোমাকে দিতে হবে না।’ এরপরে গুপ্তসাহেব রেজিস্ট্রি করে বাড়িটা দিয়ে দিলেন বিভূতিভূষণকে। বিভূতিভূষণ বাড়ির নাম রাখলেন-‘গৌরীকুঞ্জ’। প্রয়াত স্ত্রীর নামে। বিভূতিভূষণের অনেক অসামান্য সৃষ্টির সঙ্গে এই ‘গৌরীকুঞ্জ’ জড়িয়ে আছে। ছুটি পেলেই বিভূতিভূষণ ছুটে যেতেন ওখানে। সপরিবারে ওখানে থাকতেন ভাই নুটুবিহারীও। এখানেই ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রয়াত হয়েছিলেন বিভূতিভূষণ।   তর্কযুদ্ধ তর্ক বেঁধেছে তিন সাহিত্যিক বন্ধুর মধ্যে। একদিকে দুজন।  অন্যদিকে একজন। একজনকে কিন্তু দুজন কিছুতেই পেরে উঠছেন না। তর্কে পেরে না ওঠার সেই একজন ঘোরতর রবীন্দ্রবিরোধী। অন্য দুজন আবার উল্টো। প্রবল রবীন্দ্রভক্ত। রবীন্দ্রভক্ত দুজনের চেষ্টা রবীন্দ্র-বিরোধী বন্ধুটির মন থেকে তাঁদের প্রিয় মানুষটি সম্পর্কে সব বিদ্বেষ দূর করা। ফলে শুরু হয়েছিল আলোচনা। রবীন্দ্রবিরোধী বন্ধুটির আরাধ্য দেবতা বঙ্কিম,রবীন্দ্রনাথের নামটাও তিনি শুনতে পারেন না,বাড়িতেও রবীন্দ্রনাথের প্রবেশ নিষেধ।  তাঁর এক আত্মীয় রবীন্দ্রনাথকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে বই লিখেছেন,‘রবিয়ানা’। সেই বইয়ের  কথা,তাঁরও কথা। ফলে তাঁর সঙ্গে দুই বন্ধুর আলোচনা রূপ নিয়েছে তর্কে।  তর্কটা চলছে…

0 Comments

কথাঃ গরুর গাড়ির ক’টি চাকা

গরুর গাড়ির ক'টি চাকা আলাপনের বিয়েতে বরযাত্রী যাচ্ছি। পিচঢালা মসৃন রাস্তা। চারচাকা এসিতে আলাপন। পাশে আমরা ক'জন।-'আমার বিয়েতে সবাই গিয়েছিলাম বাসে।'  কিছুটা যেতেই বললেন এক বয়স্ক সহকর্মী।সমবয়সী সহকর্মী বন্ধু  তমাল এক বয়স্ক সহযাত্রীকে শুধোল-'কাকু আপনিও কি বাসে গিয়েছিলেন বিয়ে করতে?' বরবেশী আলাপন রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল-'কাকুর বিয়ের গাড়ির কথা শুধোচ্ছিস? আমি জানি। বাবার মুখে শোনা। কাকু বিয়ে করতে গিয়েছিল দশচাকার গাড়িতে।'-'দশচাকার গাড়ি!' তমাল শহুরে ছেলে,বুঝতে না পেরে তাকাল আলাপনের দিকে।আমি হেসে বললাম-'দশচাকার গাড়ি মানে হল গরুর গাড়ি।'দশচাকার গাড়ির রসিকতা  তমাল বোঝেনি।   এখনকার শহুরে ছেলেরা তো আরও বুঝবে না!  গ্রামের ছেলেরাও কি বুঝবে? সেদিন গ্রামের বাড়িতে শরৎচন্দ্রের মেজদিদি দেখছিলাম টিভিতে। সেই…

0 Comments

চল পানসি (অক্ষয়বট দর্শন)

যে গাছের নিচে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে গীতার অমৃতবাণী শ্রবণ করান,সেই গাছের উত্তরপুরুষকে চাক্ষুষ করব,এ ইচ্ছা বহুদিনের।সেবার পুজোর ছুটিতে বেরিয়ে পড়লাম কুরুক্ষেত্রের উদ্দেশে।

0 Comments

কথা আবোলতাবোল( লিপইয়ারের গল্প,গল্প গ্রহণেরও)

কথাঃআবোলতাবোল লিপইয়ারের গল্প,গল্প গ্রহণেরও ১৯৭৭ সালে মোরারজি দেশাই যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন  তখন আমার ক্লাস এইট। রাজনৈতিক কাজকর্ম  বোঝার তখন  বয়স নয়। খবরের কাগজ পড়াতেও অভ্যস্থ ছিলাম না। নানাজনের মুখবাহিত হয়ে চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে দুটো খবর তখন মনে বেশ দাগ কেটেছিল। একটা ঘুম থেকে উঠে স্ব-মূত্র পান। আর একটা তাঁর জন্মদিন। কুইজে জেনেছিলাম সুপারম্যান চরিত্রটির জন্মদিন উনত্রিশে ফেব্রুয়ারি,এবার শুনলাম মোরারজি দেশাইয়েরও নাকি তাই। পরে মোরারাজি দেশাই এর জন্মদিন নিয়ে আরও মজার তথ্য জানা গেল। এমনিতে উনত্রিশে ফেব্রুয়ারি জন্মদিন হবার কারণে জীবনে জন্মদিন পালন দীর্ঘজীবনের সুবাদেও সীমিত,তার উপর জন্মসালটি ১৮৯৬ হওয়াতে প্রথম জন্মদিনটিই তিনি পান চার নয়,আটবছর বাদে। কারণটা জানতে গেলে লিপইয়ারের গল্পটা একবার ফিরে দেখা যেতে পারে। এই লিপইয়ারে দাঁড়িয়ে সে গল্প…

0 Comments

End of content

No more pages to load