কথাঃ পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছিল শেরফুলের মা (pisima k ata ene diyechilo sherfuler ma)
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

কথাঃ পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছিল শেরফুলের মা (pisima k ata ene diyechilo sherfuler ma)

পরীক্ষার খাতায় পিছনের দিকের ছাত্রদের হাবিজাবি উত্তরের সঙ্গে আমরা শিক্ষকেরা কমবেশি সকলেই পরিচিত।সেই হাবিজাবি উত্তরের মধ্যে এবার একটা ভিন্ন রকম কথা পাওয়া গেল। সহকর্মী শিক্ষকবন্ধু  ক্লাস নাইনের ভৌত বিজ্ঞানের শেষ মূল্যায়নের খাতা দেখছিলেন। কথাটা দেখালেন উনিই। প্রশ্ন ছিল,ব্লেড জলে ভাসে কোন ধর্মের জন্য। উত্তরে একটি ছেলে লিখেছে,হিন্দু ধর্মের জন্য।

পুরো পড়ুন>>
গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(বরণীয়দের না-ক্রিয়া)
Golpo
Sudip Joarder

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(বরণীয়দের না-ক্রিয়া)

 গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক বরণীয়দের না-ক্রিয়া বিদ্যাসাগর তখন চন্দননগরে অবস্থান করছেন।  হিতবাদীর সহ সম্পাদক চন্দননগর নিবাসী যোগেন্দ্রকুমার চট্টোপাধ্যায় গিয়েছেন বিদ্যাসাগরের কাছে। যোগেন্দ্রকুমারের তখন যুবক বয়স। পিতার সূত্রে বিদ্যাসাগরের সঙ্গে পরিচয়। প্রায় প্রায়ই চলে

পুরো পড়ুন>>
গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (ন্যাড়া নজর,nyara nojor)
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (ন্যাড়া নজর,nyara nojor)

  গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(ন্যাড়া নজর) ন্যাড়া নজর দেখার যে নানান রকমফের আছে,এটা কোনও নতুন  কথা নয়। গানের লাইনেই তো আছে-‘তুমি দ্যাখো নারীপুরুষ/আমি দেখি শুধুই মানুষ।’ তবে ন্যাড়া নজরের ব্যাপারটাই আলাদা। এখানে

পুরো পড়ুন>>

কথাঃ আবোলতাবোল ( কলেজের দিন)

কথাঃআবোলতাবোল কলেজের দিন গোল আকারের বিস্কুট।অথচ নাম,লম্বু। কে না অবাক হবে! কল্পনা্র ঘোড়া ছুটিয়ে রীতিমত গবেষণায়  নামে সুব্রত। জয়দীপ তাল দেয়। আমি চুপ। স্কোয়ারফিল্ডের পাশে চিলতে চায়ের দোকান। শহুরে সহপাঠী জয়দীপ,সঙ্গে আমরা দুই পাড়গেঁয়ে ভূত। শীতের দুপুরে টিফিনে এসেছি তিনজনে। চা খাব,খাব লম্বু। খাওয়াবে জয়দীপই। জয়দীপ ছাড়া চা-লম্বুতে  টিফিন তখন সুব্রতর কিছুটা সীমার মধ্যে থাকলেও আমার পকেটের ভূগোলে ভাবাই যায় না। ডানহাতে লম্বু,বাঁ হাতে চায়ের কাপ এমনিতেই সঙ্কোচে থরথর। তার উপর ওরকম উটকো গবেষণায় ঢোকা- আমার কাছে বাড়াবাড়ি লাগে।    মুর্শিদাবাদের আঁচল ছোঁয়া নদীয়ার গ্রাম। সেখান থেকে সাতসকালে যখন কলেজের উদ্দেশে বের হই, চলনে বলনে লেগে থাকে বেশ একটা গর্বের ভাব। জয়েন্ট দিয়ে টেক্সটাইল কলেজে ঢুকেছি; জনরব,পাশ করার আগে প্রবেশও করে যাব চাকরিতে। গর্ব হবে না! গ্রামের সীমানা ছাড়ালেই গর্ব কিন্তু গা থেকে খুলে যায়। আর যত কলেজের কাছাকাছি আসি মিইয়ে যাই একেবারে। ভিতরে কে যেন বলে ওঠে-‘হিথায় তুকে  মানাইছে নাই গ’,ইক্কেবারেই মানাইছে নাই গ’।’ সত্যি বলতে কী,আমার বিবর্ণ পোশাক,ছেঁড়া জুতো দেখে এর সঙ্গে আমার কলেজের নাম ট্রেনের চেকারও  মেলাতে পারেন না। বিনা টিকিটের কৈফিয়ৎস্বরূপ, ছাত্র পরিচয় দাখিল করলে, এক আধদিন ওঁদের কেউ  জিজ্ঞেসও করে বসেন,  ‘ইঞ্জিনীয়ারিং’ শব্দের স্পেলিং। কলেজেও কোণঠাসা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কেতাদুরস্ত সহপাঠীরা মশকরা ছোঁড়ে,বন্ধুত্ব নয়। উঁচু ক্লাশের দাদারা আরও এককাঠি উপরে। এই  ফার্স্টইয়ারের ছাত্রের জন্য তারা ঘোষণা দিয়েছে-‘এ ব্যাটা র‍্যাগিংয়েরও অযোগ্য।’ তবু এরই মধ্যে   ব্যাচের সেরা ছাত্রটি আমার মধ্যে কী দেখেছে কেজানে,জুটেছে আমার সঙ্গেই। আর ওই জয়দীপের টানেই আমাদের দু-কামরার নির্জন ভুবনে যুক্ত হয়েছে সুব্রতর মত আরও এক আধটা খুপরি।   চা লম্বু খেতে খেতেই জয়দীপ হঠাৎ বলে বসে-‘১৯৪৭ সালের পনেরোই আগস্ট এই ব্যারাক স্কোয়ারের মাঠে কোন দেশের পতাকা উঠেছিল,জানিস?’ আর্থিক ভূগোলে তিনজনের মধ্যে যে সবচেয়ে দুর্বল,তার আবার ইতিহাস সঞ্চয়ে আগ্রহ প্রবল। মিইয়ে থাকা  অবয়ব ইতিহাসের গন্ধ পেয়ে নড়েচড়ে বসে। বলি, ‘কোন দেশের?’ জয়দীপ বলে-‘পাকিস্তানের।কারণ  সীমানা ভাগাভাগির নিয়মে মুর্শিদাবাদে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষ বেশি হওয়ায়,মুর্শিদাবাদ প্রথমে গিয়েছিল পাকিস্তানে, আর খুলনা এদেশে। পরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ব্যবস্থাটা উল্টো করা হয়। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে  এখানে ওঠানো হয় ভারতের পতাকা।’ এই চায়ের দোকানে বসেই জয়দীপ ওঁর বাবার কাছে শোনা ব্যারাক স্কোয়ার মাঠের আর

পুরো পড়ুন>>

কথাঃআবোলতাবোলঃ তালগাছ

কথাঃআবোলতাবোল তালগাছ               চাষের জমির মাঝে তালগাছ। লাঙল দিয়ে চষতে গেলে আশপাশ মিলিয়ে অনেকটা জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। ভাগচাষী গজগজ করে।.গজগজ করে বাবাও,-‘আর জায়গা পাইলি না,এক্কেরে আমার জমির মইধ্যে  খাড়াইয়া পড়লি!’ প্রথমে আগাছার মত উপড়ে ফেললেই হত। কিন্তু কেন কে জানে তা হয়নি।  এখন বড় হবার পর গজগজ ছাড়া আর উপায় কী! এই অবস্থায় কেটে ফেলার কথা তো বাবার কল্পনাতেও আসবে  না। এক বৈশাখে তাল গজাল গাছটায়। আমরা তালশাঁস খেলাম। সে  ভাদ্রে তালও পাকল। আমরা তাল কুড়োলাম। পাকা তালের রস দিয়ে বড়া হল বাড়িতে। তারপর রস নিংড়ানো তালাআঁটি ফেলা হল দূরে। দূরে,কিন্তু অজানা নিরুদ্দেশে ভাসিয়ে দেওয়া নয়। কারণ ভাদ্র গেলেই আসবে আশ্বিন। তখন এই তালআঁটি গুলোই মাটি থেকে তোলা হবে। কাটা হবে। ভিতর থেকে বেরোবে তালকুসুম। যার ডাক নাম, তালফোঁপরা। সে তালফোঁপরা কোজাগরির সামনে দেওয়া ফলের মধ্যে মিশে যাবে আর একটা ফল হয়েই। একদিন তালপাটালি নিয়ে এল আমাদের বহুদূরের এক ভাগচাষী। খেলাম। চুরিও করলাম। সে কী অপূর্ব স্বাদ! কোথায় লাগে খেজুর গুড়ের পাটালি! দিদি বলল, ‘আমাদের তালগাছের রস দিয়ে  করা যায় না  এমন?’ দাদা বলল, ‘যাবে না কেন?করলেই যাবে,কিন্তু তালগাছ কাটানো, ঠিলি পাতা,রস নামানো,জ্বাল দেওয়া  অনেক হ্যাপা। আর তাছাড়া, একটা গাছের রস আর কতটুকু হবে?’ তালপাটালি করার ভাবনা  তাই শেষ হয়ে গেল আলোচনাতেই । দেখতে দেখতে আমরা ভাইবোনেরা বড় হলাম। তালগাছের বুড়ো হবার কথা নয়,কিন্তু তবু দেখে ওকে বুড়োই মনে হতে লাগল। কেমন একটা শুকনো শুকনো ভাব। তালের কাঁদিও সেভাবে হয় না। পরিচিতরা পরামর্শ দিল,বেচে দিন। বাবা গত। বেঁচে থাকলে একথা ভাবাও যেত না। এখনও বাড়ির অভিভাবকদের মধ্যে একটু দোনামনা যে হল না তা নয়। তবে শেষ অব্দি বেচে দেবার সিদ্ধান্তই নেওয়া হল। খবর পাঠানো হল তালগাছ যারা বেচাকেনা করে তাঁদের কাছে। গ্রামের দিকে তালগাছের তখন বিরাট  চাহিদা। মাটির বাড়ির জুৎসই কড়িবরগার জন্য তখন বাছা হয় ,তালকাঠই। কিন্তু তালগাছ বিক্রি অত সহজ নয়। প্রথমে একদিন এলেন এক সুবেশ ভদ্রলোক। আমরা ভাবলাম,আসল ক্রেতা বোধহয় তিনি। কিন্তু শুনলাম উনি কাঠব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আসছেন গাছ পরীক্ষা করতে। ওঁর কাজ হল তালগাছে কতটা সার আছে দেখা। দেখে,ব্যবসায়ীদের  রিপোর্ট দেওয়া। সেই রিপোর্ট দেখে এবার দরদাম করতে এগিয়ে আসবেন ওঁরা। এমন পেশার লোকও তাহলে আছেন! আমরা তালগাছের সার-টেস্টারের পিছু পিছু চললাম গাছের কাছে। উনি একটা লোহার সরু শলাকা তালগাছে কিছুটা ঢুকিয়ে আবার টেনে নিলেন। বললেন-‘আমার কাজ শেষ।’আমরা তো অবাক। এরপর একদিন এলেন ব্যবসায়ীরা। বললেন, ‘গাছের সার ভালো নেই।’  তবু দাম একটা স্থির হল। কিন্তু কাটা পড়ার আগেই জ্যৈষ্ঠমাসের এক বিকেলে ঝড়ে ভেঙে পড়ল তালগাছটা। সব হিসেব উল্টে গেল আমাদের। আমাদের কারও কারও অবশ্য এও মনে হল যে এতদিনের পুরোনো পিতৃসম গাছ ঝড়ের আশ্রয়ে বিক্রির অপমান থেকে নিজেকে বাঁচাল। এবং আমাদেরও বাঁচাল অপরাধের হাত থেকে।   তালগাছটা থেকেও নেই হয়েছিল বহুদিন। এখন একেবারে নেই হয়ে বোঝা গেল আমার কাছে সে কতটা ছিল। মনে পড়ল, ছোটবেলায় ওই তালগাছের দিকে তাকিয়েই পড়েছি,‘তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে…।’ উদ্বুদ্ধও  হয়েছি। ভেবেছি,একপায়ে ও যদি পারে আকাশ ছুঁতে,দুপায়ে আমি পারবনা কেন! ফাঁকা জায়গাটার দিকে তাকিয়ে লম্বা শ্বাস পড়ে আমার। আর এখন? গ্রামে গিয়ে দেখি কাঁচাবাড়ির চিহ্নও আর নেই। তালগাছের একটা ব্যবহার তার মানে বিলুপ্ত। আমাদের জমিটা অবশ্য আছে। ওদিকে তাকালে কিন্তু মনে পড়ে যায় তালগাছটার কথা। শুধু কি তাই? গ্রীষ্মের দুপুরে গ্রামের বাড়ির বারান্দায় বসে চোখ বুজলে আজও শুনতে পাই, সেই একপায়ে দাঁড়ানো,সব গাছ ছাড়ানো তালগাছটায় একটা কাঠঠোকরা আওয়াজ করে চলেছে-ঠক,ঠক,ঠক…  

পুরো পড়ুন>>
চল পানসিঃ মায়াপুর ভ্রমণ
Chol Pansi
Sudip Joarder

চল পানসিঃ মায়াপুর ভ্রমণ

  চল পানসি মায়াপুর ভ্রমণ           নদিয়া জেলার লোক হয়েও এখনও মায়াপুর দেখনি! বয়স্ক সহকর্মীর এই শ্লেষ সেদিন এতটাই তাতিয়ে দিল যে ঠিক করলাম,আর দেরি নয়। সামনে যে কোনও একটা ছুটির দিন

পুরো পড়ুন>>

কবিতা অঙ্ক ক্লাস

সিক্সে এসে আবৃত্ত দশমিক কষাই;মনে হয়,শুধু সংখ্যা নয়,এই বিদ্যামঠতল,দিনের পরে দিন যে গেল সব;এমনকী প্রেম তাও-এক নিরন্তর পৌন:পুনিক।  তাই তো আলো জ্বলে বার বার;অক্ষর শিল্প হয়ে ফিরে ফিরে লেখে:বেকুব যাতনাবিলাস।গতানুগতিকের অঙ্ক

পুরো পড়ুন>>

কথাঃআবোলতাবোল (‘এ দীনতা তোমায় মানায় না রাজাধিরাজ’)

কথাঃ আবোলতাবোল পড়াশোনায় খারাপ ছেলে হিসাবে তখন আমি রীতিমত বিখ্যাত।ভুগি হীনমন্যতায়ও। অথচ পড়াশোনাতে মনোযোগীও হতে পারি না।সুতরাং সারাদিন বাড়িতে গঞ্জনা। সঙ্গে উপদেশ, নীলুর মত হতে পার না, নীলুকে দেখে শেখো।

পুরো পড়ুন>>

কথাঃ আবোলতাবোল (কাঁঠাল)

কথাঃআবোলতাবোল কাঁঠাল এবার বাড়ির বাগানে লিচু ধরেছিল অপর্যাপ্ত। এখন শুনছি আমও নাকি অঢেল। কিন্তু কাঁঠাল? এটা তো কাঁঠালেরও কাল। কাঁঠালের কথা তো বাড়ির কারও ফোনে শুনছি না। কাঁঠাল নিয়ে আমার আগ্রহ কম। তাই কাঁঠালের কথাটা আমিও বারে বারেই শুধোতে ভুলে যাচ্ছি। কাঁঠাল কি তবে হয়নি,নাকি যা হয়েছে এঁচোড় অবস্থাতেই শেষ! আরও একটা কথা অবশ্য মনে হচ্ছে। আমার যেমন আগ্রহ নেই বলে  শুধোতে  ভুলে যাচ্ছি,ওদের দিক দিয়েও ব্যাপারটা সেরকম নয় তো! মনে মনে গুনি। হ্যাঁ,এদিক সেদিক মিলিয়ে তো কম নয়। সাত সাতটা কাঁঠাল গাছ। কোনওটাতে  খাজা,কোনওটাতে রসখাজা,কোনওটাতে গোলা,কোনওটাতে রুদ্রাক্ষী। হরেক কিসিম। রুদ্রাক্ষী কাঁঠালগাছটা বাবার খুব প্রিয় ছিল। এ গাছের কাঁঠাল বাবা একাই একখানা খেতেন। আসলে খুব বড় সাইজ তো নয়। কিন্তু কী মিষ্টি! এ কাঁঠাল শেয়ালদের খুব প্রিয় বলে এর অন্য নাম শেয়াল-খাগি। আমারা অবশ্য রুদ্রাক্ষী,শেয়াল-খাগি কোনওটাই কোনওদিন বলিনি। আমারা এর মধুর স্বাদের জন্য একে বরাবর ডেকে এসেছি ‘মধু-কাঁঠাল’ নামে। এককালে গাছে কাঁঠাল পাকলে আমাদের আনন্দের সীমা থাকত না। আর এখন? পাকা কাঁঠাল খাওয়াই হয় না। আম কাঁঠালের সময় বাড়ি গেলেও,আমই খাই। কাঁঠাল খাবার কথা মনেই হয় না। কাঁঠালের এখন যা কিছু খাতির তা এঁচোড় অবস্থাতেই। এ ঘটনা যে শুধু আমার বেলাতেই তা কিন্তু নয়। পাকা কাঁঠাল-ভালবাসা লোক সব জায়গাতেই এখন কম। কেউ কেউ তো আবার এর গন্ধটাও সহ্য করতে পারেন না। অথচ কাঁঠালের কিন্তু এককালে আমের মতই  আদর ছিল। ঘুমপাড়ানী মাসিপিসির গানে কাঁঠালকে আমের সমান গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমাকাঁঠালের বাগান দেব/ছাঁওয়ায় ছাঁওয়ায় যেতে,/উড়কি ধানের  মুড়কি দেব/পথে জল খেতে।’ পশ্চিমা রামায়ণে হনুমানের কাঁঠাল ভক্ষণের বর্ণনা দিতে গিয়ে পন্স অর্থাৎ  কাঁঠালকে অমৃতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। শোনা যায় স্বয়ং মহাপ্রভু এই ফলটি বড় ভালবাসতেন। এ কালের রথী মহারথীরা কেউই কাঁঠাল-রসে নিজেদের বঞ্চিত রাখেননি। দীনবন্ধু মিত্র কাঁঠালে এত মজেছিলেন যে কাঁঠাল কোষকে ভালবাসার সঙ্গে এক করে দেখেছেন। ‘পল্লীচিত্রে’র চিত্রকর দীনেন্দ্রকুমার রায় তো আম লিচু নয়,শুধু কাঁঠালেরই ভক্ত ছিলেন। পরশুরামের কেদার চাটুজ্যে যেভাবে কাঁঠাল-কীর্তন করেছেন,তাতে বোঝা যায় ফলটি রাজশেখর বসুরও কম প্রিয় ছিল না। রাজশেখর বসুর দাদা শশিশেখর বসু তো ‘খাজা কাঁঠাল’ শিরোনামে আস্ত একটা রম্যরচনাই লিখে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ আম ভালবাসতেন,   ভালবাসতেন এঁচোড়ের নানা পদ। কিন্তু কাঁঠালের সেভাবে গুণগ্রাহী না হলেও একেবারে অনাদর করতেন না ফলটিকে। শিলাইদহ থেকে জোড়াসাঁকোয় তিনি একবার কাঁঠাল পাঠিয়েছিলেন। ১২৯৮ বঙ্গাব্দে অভিজ্ঞা দেবীর কবিপত্নীকে লেখা এক চিঠিতে এরকমই এক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। ওদিকে ‘রূপসী বাংলা’র কবির তো সাধই ছিল,’কুয়াশার বুকে ভেসে আসিব এ কাঁঠাল ছায়ায়।’ মনে আছে,ছেলেবেলায় কাঁঠাল পাকলে তার খুশবুতে আমরা যেমন লাফিয়ে উঠতাম,তেমনই সাড়া পড়ে যেত পশুপাখিদের মধ্যেও। ভোঁদর,হোঁদর,হুড়ার,শেয়াল,হনুমান একে একে সকলেই হাজির হত মঞ্চে। আর এদের হাত থেকে পড়ে যাওয়া,ঝুলে থাকা পাকা-আধপাকা কাঁঠাল বাঁচাতে আমাদের কত কসরৎই না  করতে হত। এখনও নিশ্চয় এইসব প্রাণীদের মধ্যে একই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কাঁঠাল নিয়ে উৎসাহ নিভেছে,তাই খোঁজও রাখি না,কীভাবে এখন এদের তাড়ানো হয়।  

পুরো পড়ুন>>
গল্পঃ ভদ্র অভদ্র,Bhodro Abhodro
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

গল্পঃ ভদ্র অভদ্র,Bhodro Abhodro

গল্প  গল্প ভদ্র অভদ্র   ভদ্র হবার অনেক জ্বালা। রাগ হলেও খারাপ কথা বলা যায় না। সারাদিনে ক্রমাগত রাগ গিলে যেতে হয়। তারপর রাত্রে বিছানায় শুয়ে শুধু ছটফট আর ছটফট। সত্যি কী

পুরো পড়ুন>>
প্রিয় লেখকঃ সব্যসাচী লেখক বুদ্ধদেব বসু
General
Sudip Joarder

প্রিয় লেখকঃ সব্যসাচী লেখক বুদ্ধদেব বসু

প্রিয় লেখকঃ সব্যসাচী লেখক বুদ্ধদেব বসু প্রিয় লেখক সব্যসাচী লেখক বুদ্ধদেব বসু একটা নতুন ছেলে এসেছে স্কুলে। লাজুক। বেশি কথা বলে না। কেবল টিফিনের সময় বই পড়ে নানারকম। মাস্টারমশাইরা এর

পুরো পড়ুন>>

কথাঃআবোলতাবোল (ছাই)

কথাঃআবোলতাবোল  ছাই ‘আমি হচ্ছি,ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো।’ কে যেন কথাটা বলল সেদিন। তখন থেকেই দেখছি কথাটা কেমন কুনকুন করছে ভিতরে। বক্তার জন্য নয়(কেননা সে অর্থে আমরা অনেকেই তো সমাজে সংসারে তাই)। কুলোর জন্যও নয়। কুনকুনানিটা ছাই-এর জন্য। শহরে তো ছেড়েই দিলাম। গ্রামের অন্দরেও এখন ঢুকে গেছে এলপিজি। ফলে ওখানে কুলো এখনও যতটা আছে,ততটা নেই ছাই। প্রাক এলপিজি যুগে ছাই ছিল আমাদের নীরব সেবায়েত। নীরব,কেননা তাঁর সেবায় আমরা এতটাই অভ্যস্ত ছিলাম,যে তাকে চোখেই পড়ত না। ভাগ্যিস বিমল মিত্র রেলের চাকরিতে দুর্নীতি

পুরো পড়ুন>>