কথা আবোলতাবোল( লিপইয়ারের গল্প,গল্প গ্রহণেরও)

কথাঃআবোলতাবোল লিপইয়ারের গল্প,গল্প গ্রহণেরও ১৯৭৭ সালে মোরারজি দেশাই যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন  তখন আমার ক্লাস এইট। রাজনৈতিক কাজকর্ম  বোঝার তখন  বয়স নয়। খবরের কাগজ পড়াতেও অভ্যস্থ ছিলাম না। নানাজনের মুখবাহিত হয়ে চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে দুটো খবর তখন

পুরো পড়ুন>>

কথাঃআবোলতাবোল (বক্তা প্রচুর,শ্রোতা কম)

কথাঃআবোলতাবোল  এক স্নেহভাজন তাঁর একটা ভ্রমণকাহিনিতে এক জায়গার গুরুত্ব বোঝাতে লিখেছিল,’ অনেকেই হয়ত জানেন না…’ জাতীয়  শব্দবন্ধ। ওকে বলেছিলাম,তুমি লেখার আগেই কীভাবে ধরে নিলে,যা লিখছ তা অনেকে জানে না? তুমি

পুরো পড়ুন>>

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (অভিনব পাওনাদার…)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক অভিনব পাওনাদার সেদিন কলেজস্ট্রিটে এক অভিনব পাওনাদারকে দেখা গেল। সাধারণত পাওনাদারের ভয়ে ঋণী ব্যক্তিকে  গা ঢাকা দিতে দেখা যায়। কলেজস্ট্রিটে সেদিন উল্টো দৃশ্য। ঋণী ব্যক্তিকে দেখে পাওনাদারই ছাতা দিয়ে নিজের মুখ আড়াল করার চেষ্টা করছেন। পাওনা টাকার পরিমাণও কম নয়। গত শতকের তিনের দশকের শেষ দিক সেটা। পাওনা টাকা পাঁচশোর মূল্য তাই অনেকটাই। পাওনাদার ব্যক্তিটি আর কেউ নন। বিভূতিভূষণ। ঋণী ব্যক্তিটিও উচ্চশিক্ষিত,আদর্শবাদী,বিলাতফেরত। নাম অশোক গুপ্ত। বিকলাঙ্গ,অপরিণতবুদ্ধি শিশুদের নিয়ে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল অশোক  গুপ্ত ও তাঁর স্ত্রীর। এজন্য দরকার গ্রাম্য নির্জন একটা পরিবেশ। পছন্দ হয়েছিল ঘাটশিলার এক জনহীন স্থান। তৈরি করেছিলেন ছোট্ট একটা বাড়ি। অশোক গুপ্তের সঙ্গে বিভূতিভূষণের পরিচয় ওই সময়েই। বিভূতিভূষণ তাঁদের সাধনার কথা শুনে শুধু তাঁদের উৎসাহই দেননি। আর্থিক দুরবস্থা তখন লেখার দৌলতে অনেকটাই তাঁর ঘুচেছে। অশোক গুপ্তকে তাঁদের আর্থিক অসুবিধার জন্য পাঁচশো টাকা ধারও দিয়েছিলেন। এই ধার গুপ্তসাহেবের মনে না থাকার কথা নয়। কিন্তু তিনি নানাভাবে জড়িয়ে পড়লেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানও  একসময় নিঃশেষ হয়ে গেল। স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়ল তাঁর।   ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিভূতিভূষণ গুপ্তসাহেবের খোঁজ নিতে পারলেন না। পাছে গুপ্তসাহেব ভাবেন,টাকার  জন্যই এই খোঁজ। এরপরের ঘটনা ওই কলেজ স্ট্রিটের। কিন্তু ছাতা দিয়ে মুখ আড়াল করার আগেই সেদিন অশোক গুপ্ত  দেখে ফেলেছিলেন বিভূতিভূষণকে। -‘বিভূতি না!’ বলেই এগিয়ে এসে বিভূতিভূষণের হাতটা ধরে ফেললেন তিনি। বললেন-‘আমার একটা উপকার করতে হবে। না বললে হবে না। বল করবে!’ মানুষটির উপর বিভূতিভূষণের প্রগাঢ় শ্রদ্ধা। বললেন-‘নিশ্চয় করব। বলুন দাদা।’   -‘আমাকে ঋণমুক্ত করতে হবে। তোমার পাওনা টাকার বিনিময়ে ঘাটশিলার ওই বাড়ি নিয়ে।’ বিভূতিভূষণ প্রচন্ড আপত্তি জানালেন।-‘তা কেমন করে হবে? একখানা বাড়ির দাম পাঁচশো টাকার অনেক  বেশি!’ অশোক গুপ্ত নাছোড়। বিভূতিভূষণ বললেন,-‘বেশ। কিন্তু পাঁচশোতে নয়। আর কত টাকা আপনাকে দিতে হবে বলুন।’ গুপ্তসাহেব বললেন, -‘না, আর কিছুই তোমাকে দিতে হবে না।’ এরপরে গুপ্তসাহেব রেজিস্ট্রি করে বাড়িটা দিয়ে দিলেন বিভূতিভূষণকে। বিভূতিভূষণ বাড়ির নাম রাখলেন-‘গৌরীকুঞ্জ’। প্রয়াত স্ত্রীর নামে। বিভূতিভূষণের অনেক অসামান্য সৃষ্টির সঙ্গে এই ‘গৌরীকুঞ্জ’ জড়িয়ে আছে। ছুটি পেলেই বিভূতিভূষণ ছুটে যেতেন ওখানে। সপরিবারে ওখানে থাকতেন ভাই নুটুবিহারীও। এখানেই ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রয়াত হয়েছিলেন বিভূতিভূষণ।   তর্কযুদ্ধ তর্ক

পুরো পড়ুন>>
কথাঃ আবোলতাবোল (আমার বাংলাদেশ)
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

কথাঃ আবোলতাবোল (আমার বাংলাদেশ)

  কথাঃ আবোলতাবোল আমার বাংলাদেশ মৈমনসিংহ,কিশোরগঞ্জ,নেত্রকোনা,পূর্বধলা ,কালদুয়ার – নামগুলো ছোটবেলাতে আমাদের চারপাশে ঘুরত,পাক খেত। কখনও বাবা সান্ধ্য মজলিসে বসে হারিয়ে যেতেন ফেলে আসা ওইসব জায়গায় , আবার কখনও ঘুম না

পুরো পড়ুন>>
কথাঃ গরুর গাড়ির ক’টি চাকা
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

কথাঃ গরুর গাড়ির ক’টি চাকা

Gurur Garir Kota chaka কথাগরুর গাড়ির ক’টি চাকা আলাপনের বিয়েতে বরযাত্রী যাচ্ছি। পিচঢালা মসৃন রাস্তা। চারচাকা এসিতে আলাপন। পাশে আমরা ক’জন।-‘আমার বিয়েতে সবাই গিয়েছিলাম বাসে।’  কিছুটা যেতেই বললেন এক বয়স্ক

পুরো পড়ুন>>

চল পানসি (অক্ষয়বট দর্শন)

ভ্রমণঃ    অক্ষয়বট দর্শন যে গাছের নিচে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে গীতার অমৃতবাণী শ্রবণ করান,সেই গাছের উত্তরপুরুষকে চাক্ষুষ করব,এ ইচ্ছা বহুদিনের।সেবার পুজোর ছুটিতে বেরিয়ে পড়লাম কুরুক্ষেত্রের উদ্দেশে।হাওড়া থেকে অমৃতসর এক্সপ্রেসে এসে নামলাম

পুরো পড়ুন>>
গল্পঃ সাহিত্যিক/সাহিত্যিক (ছবির রবীন্দ্রনাথ ) chobir rabindranath
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

গল্পঃ সাহিত্যিক/সাহিত্যিক (ছবির রবীন্দ্রনাথ ) chobir rabindranath

গল্পঃ সাহিত্য/ সাহিত্যিক  ছবির রবীন্দ্রনাথchobir rabindranath পরমাণুবাদের জনক জন ডালটনের নাম আমরা সবাই জানি। চিকিৎসাবিজ্ঞানেও ডালটন দিয়ে একটি শব্দ আছে। ডালটনিজম। এটিরও মূলে ওই বিজ্ঞানীই। ডালটনিজম কিন্তু একটা রোগ। সাদা

পুরো পড়ুন>>

কথাঃআবোলতাবোলঃ তালগাছ

কথাঃআবোলতাবোল তালগাছ               চাষের জমির মাঝে তালগাছ। লাঙল দিয়ে চষতে গেলে আশপাশ মিলিয়ে অনেকটা জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। ভাগচাষী গজগজ করে।.গজগজ করে বাবাও,-‘আর জায়গা পাইলি না,এক্কেরে আমার জমির মইধ্যে  খাড়াইয়া পড়লি!’ প্রথমে আগাছার মত উপড়ে ফেললেই হত। কিন্তু কেন কে জানে তা হয়নি।  এখন বড় হবার পর গজগজ ছাড়া আর উপায় কী! এই অবস্থায় কেটে ফেলার কথা তো বাবার কল্পনাতেও আসবে  না। এক বৈশাখে তাল গজাল গাছটায়। আমরা তালশাঁস খেলাম। সে  ভাদ্রে তালও পাকল। আমরা তাল কুড়োলাম। পাকা তালের রস দিয়ে বড়া হল বাড়িতে। তারপর রস নিংড়ানো তালাআঁটি ফেলা হল দূরে। দূরে,কিন্তু অজানা নিরুদ্দেশে ভাসিয়ে দেওয়া নয়। কারণ ভাদ্র গেলেই আসবে আশ্বিন। তখন এই তালআঁটি গুলোই মাটি থেকে তোলা হবে। কাটা হবে। ভিতর থেকে বেরোবে তালকুসুম। যার ডাক নাম, তালফোঁপরা। সে তালফোঁপরা কোজাগরির সামনে দেওয়া ফলের মধ্যে মিশে যাবে আর একটা ফল হয়েই। একদিন তালপাটালি নিয়ে এল আমাদের বহুদূরের এক ভাগচাষী। খেলাম। চুরিও করলাম। সে কী অপূর্ব স্বাদ! কোথায় লাগে খেজুর গুড়ের পাটালি! দিদি বলল, ‘আমাদের তালগাছের রস দিয়ে  করা যায় না  এমন?’ দাদা বলল, ‘যাবে না কেন?করলেই যাবে,কিন্তু তালগাছ কাটানো, ঠিলি পাতা,রস নামানো,জ্বাল দেওয়া  অনেক হ্যাপা। আর তাছাড়া, একটা গাছের রস আর কতটুকু হবে?’ তালপাটালি করার ভাবনা  তাই শেষ হয়ে গেল আলোচনাতেই । দেখতে দেখতে আমরা ভাইবোনেরা বড় হলাম। তালগাছের বুড়ো হবার কথা নয়,কিন্তু তবু দেখে ওকে বুড়োই মনে হতে লাগল। কেমন একটা শুকনো শুকনো ভাব। তালের কাঁদিও সেভাবে হয় না। পরিচিতরা পরামর্শ দিল,বেচে দিন। বাবা গত। বেঁচে থাকলে একথা ভাবাও যেত না। এখনও বাড়ির অভিভাবকদের মধ্যে একটু দোনামনা যে হল না তা নয়। তবে শেষ অব্দি বেচে দেবার সিদ্ধান্তই নেওয়া হল। খবর পাঠানো হল তালগাছ যারা বেচাকেনা করে তাঁদের কাছে। গ্রামের দিকে তালগাছের তখন বিরাট  চাহিদা। মাটির বাড়ির জুৎসই কড়িবরগার জন্য তখন বাছা হয় ,তালকাঠই। কিন্তু তালগাছ বিক্রি অত সহজ নয়। প্রথমে একদিন এলেন এক সুবেশ ভদ্রলোক। আমরা ভাবলাম,আসল ক্রেতা বোধহয় তিনি। কিন্তু শুনলাম উনি কাঠব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আসছেন গাছ পরীক্ষা করতে। ওঁর কাজ হল তালগাছে কতটা সার আছে দেখা। দেখে,ব্যবসায়ীদের  রিপোর্ট দেওয়া। সেই রিপোর্ট দেখে এবার দরদাম করতে এগিয়ে আসবেন ওঁরা। এমন পেশার লোকও তাহলে আছেন! আমরা তালগাছের সার-টেস্টারের পিছু পিছু চললাম গাছের কাছে। উনি একটা লোহার সরু শলাকা তালগাছে কিছুটা ঢুকিয়ে আবার টেনে নিলেন। বললেন-‘আমার কাজ শেষ।’আমরা তো অবাক। এরপর একদিন এলেন ব্যবসায়ীরা। বললেন, ‘গাছের সার ভালো নেই।’  তবু দাম একটা স্থির হল। কিন্তু কাটা পড়ার আগেই জ্যৈষ্ঠমাসের এক বিকেলে ঝড়ে ভেঙে পড়ল তালগাছটা। সব হিসেব উল্টে গেল আমাদের। আমাদের কারও কারও অবশ্য এও মনে হল যে এতদিনের পুরোনো পিতৃসম গাছ ঝড়ের আশ্রয়ে বিক্রির অপমান থেকে নিজেকে বাঁচাল। এবং আমাদেরও বাঁচাল অপরাধের হাত থেকে।   তালগাছটা থেকেও নেই হয়েছিল বহুদিন। এখন একেবারে নেই হয়ে বোঝা গেল আমার কাছে সে কতটা ছিল। মনে পড়ল, ছোটবেলায় ওই তালগাছের দিকে তাকিয়েই পড়েছি,‘তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে…।’ উদ্বুদ্ধও  হয়েছি। ভেবেছি,একপায়ে ও যদি পারে আকাশ ছুঁতে,দুপায়ে আমি পারবনা কেন! ফাঁকা জায়গাটার দিকে তাকিয়ে লম্বা শ্বাস পড়ে আমার। আর এখন? গ্রামে গিয়ে দেখি কাঁচাবাড়ির চিহ্নও আর নেই। তালগাছের একটা ব্যবহার তার মানে বিলুপ্ত। আমাদের জমিটা অবশ্য আছে। ওদিকে তাকালে কিন্তু মনে পড়ে যায় তালগাছটার কথা। শুধু কি তাই? গ্রীষ্মের দুপুরে গ্রামের বাড়ির বারান্দায় বসে চোখ বুজলে আজও শুনতে পাই, সেই একপায়ে দাঁড়ানো,সব গাছ ছাড়ানো তালগাছটায় একটা কাঠঠোকরা আওয়াজ করে চলেছে-ঠক,ঠক,ঠক…  

পুরো পড়ুন>>
প্রিয় লেখকঃ কিরীটী ও নীহাররঞ্জন
প্রিয় লেখক
Sudip Joarder

প্রিয় লেখকঃ কিরীটী ও নীহাররঞ্জন

  প্রিয় লেখক কিরীটী ও নীহাররঞ্জন ‘প্রীতিভোজ উৎসব সুব্রতর বাড়িতে। আমহার্স্ট স্ট্রিটে প্রকান্ড বাড়ি কিনেছে সুব্রতরা। সে বাড়িতেই গৃহপ্রবেশ উপলক্ষে এই প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান। অনেক আমন্ত্রিতরাই এসেছেন। তাঁদের মধ্যে এসেছেন বিশেষ

পুরো পড়ুন>>

কথাঃ আবোলতাবোল ( কলেজের দিন)

কথাঃআবোলতাবোল কলেজের দিন গোল আকারের বিস্কুট।অথচ নাম,লম্বু। কে না অবাক হবে! কল্পনা্র ঘোড়া ছুটিয়ে রীতিমত গবেষণায়  নামে সুব্রত। জয়দীপ তাল দেয়। আমি চুপ। স্কোয়ারফিল্ডের পাশে চিলতে চায়ের দোকান। শহুরে সহপাঠী জয়দীপ,সঙ্গে আমরা দুই পাড়গেঁয়ে ভূত। শীতের দুপুরে টিফিনে এসেছি তিনজনে। চা খাব,খাব লম্বু। খাওয়াবে জয়দীপই। জয়দীপ ছাড়া চা-লম্বুতে  টিফিন তখন সুব্রতর কিছুটা সীমার মধ্যে থাকলেও আমার পকেটের ভূগোলে ভাবাই যায় না। ডানহাতে লম্বু,বাঁ হাতে চায়ের কাপ এমনিতেই সঙ্কোচে থরথর। তার উপর ওরকম উটকো গবেষণায় ঢোকা- আমার কাছে বাড়াবাড়ি লাগে।    মুর্শিদাবাদের আঁচল ছোঁয়া নদীয়ার গ্রাম। সেখান থেকে সাতসকালে যখন কলেজের উদ্দেশে বের হই, চলনে বলনে লেগে থাকে বেশ একটা গর্বের ভাব। জয়েন্ট দিয়ে টেক্সটাইল কলেজে ঢুকেছি; জনরব,পাশ করার আগে প্রবেশও করে যাব চাকরিতে। গর্ব হবে না! গ্রামের সীমানা ছাড়ালেই গর্ব কিন্তু গা থেকে খুলে যায়। আর যত কলেজের কাছাকাছি আসি মিইয়ে যাই একেবারে। ভিতরে কে যেন বলে ওঠে-‘হিথায় তুকে  মানাইছে নাই গ’,ইক্কেবারেই মানাইছে নাই গ’।’ সত্যি বলতে কী,আমার বিবর্ণ পোশাক,ছেঁড়া জুতো দেখে এর সঙ্গে আমার কলেজের নাম ট্রেনের চেকারও  মেলাতে পারেন না। বিনা টিকিটের কৈফিয়ৎস্বরূপ, ছাত্র পরিচয় দাখিল করলে, এক আধদিন ওঁদের কেউ  জিজ্ঞেসও করে বসেন,  ‘ইঞ্জিনীয়ারিং’ শব্দের স্পেলিং। কলেজেও কোণঠাসা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কেতাদুরস্ত সহপাঠীরা মশকরা ছোঁড়ে,বন্ধুত্ব নয়। উঁচু ক্লাশের দাদারা আরও এককাঠি উপরে। এই  ফার্স্টইয়ারের ছাত্রের জন্য তারা ঘোষণা দিয়েছে-‘এ ব্যাটা র‍্যাগিংয়েরও অযোগ্য।’ তবু এরই মধ্যে   ব্যাচের সেরা ছাত্রটি আমার মধ্যে কী দেখেছে কেজানে,জুটেছে আমার সঙ্গেই। আর ওই জয়দীপের টানেই আমাদের দু-কামরার নির্জন ভুবনে যুক্ত হয়েছে সুব্রতর মত আরও এক আধটা খুপরি।   চা লম্বু খেতে খেতেই জয়দীপ হঠাৎ বলে বসে-‘১৯৪৭ সালের পনেরোই আগস্ট এই ব্যারাক স্কোয়ারের মাঠে কোন দেশের পতাকা উঠেছিল,জানিস?’ আর্থিক ভূগোলে তিনজনের মধ্যে যে সবচেয়ে দুর্বল,তার আবার ইতিহাস সঞ্চয়ে আগ্রহ প্রবল। মিইয়ে থাকা  অবয়ব ইতিহাসের গন্ধ পেয়ে নড়েচড়ে বসে। বলি, ‘কোন দেশের?’ জয়দীপ বলে-‘পাকিস্তানের।কারণ  সীমানা ভাগাভাগির নিয়মে মুর্শিদাবাদে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষ বেশি হওয়ায়,মুর্শিদাবাদ প্রথমে গিয়েছিল পাকিস্তানে, আর খুলনা এদেশে। পরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ব্যবস্থাটা উল্টো করা হয়। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে  এখানে ওঠানো হয় ভারতের পতাকা।’ এই চায়ের দোকানে বসেই জয়দীপ ওঁর বাবার কাছে শোনা ব্যারাক স্কোয়ার মাঠের আর

পুরো পড়ুন>>
প্রিয় লেখকঃ প্রকাশক সজনীকান্ত
প্রিয় লেখক
Sudip Joarder

প্রিয় লেখকঃ প্রকাশক সজনীকান্ত

প্রিয় লেখকঃ প্রকাশক সজনীকান্ত প্রিয় লেখক  প্রকাশক সজনীকান্ত               স্ত্রী আসন্নপ্রসবা। তিনি নিশ্চিত, সংসারে যুক্ত হতে চলেছে যে নতুন অতিথি,সে হবে পুত্র। অনাগত সন্তানকে পুত্র ধরে নামও ঠিক করে ফেললেন তার। রঞ্জন। এসব এত তাড়াতাড়ি করার কারণ আছে। নীরদচন্দ্রকে তিনি কথা দিয়েছেন, বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’র তিনিই হবেন প্রকাশক। কিন্তু প্রকাশক হলেই তো হল না। একটা প্রকাশালয় তো দরকার। দরকার তার একটা জুৎসই নামও। কী নাম দেবেন? যে আসছে,তার নামটা ছাড়া! প্রকাশালয়ের নাম দিলেন-রঞ্জন প্রকাশালয়। নীরদচন্দ্র সজনীকান্তের মুখে কথাটা শুনে প্রথটায় কিন্তু একটু অবাকই হয়ে গিয়েছিলেন। বই প্রকাশ করা সহজ কাজ নয়। অনেক টাকাকড়ির ব্যাপার। সজনীকান্তের মাস মাইনে তখন দেড়শো। ভাড়া বাড়িতে নতুন সংসার। অন্য কোনও জায়গা থেকে হঠাৎ টাকা এসে হাজির হবে তাও নয়। কিন্তু তিনি সজনীকান্ত। প্রবল আত্মবিশ্বাস তাঁর চরিত্রে। তাই অবাক হয়েও নীরদচন্দ্র তাঁর কথায় ভরসা রাখলেন। ছুটলেন তাঁদের মির্জাপুর স্ট্রিটের মেসে, বিভূতিভূষণকে আনতে।  এ দিনের ঘটনার আগে একটু অন্য ইতিহাস আছে। ‘বিচিত্রা’য়

পুরো পড়ুন>>