গল্পঃ ভদ্র অভদ্র,Bhodro Abhodro
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

গল্পঃ ভদ্র অভদ্র,Bhodro Abhodro

গল্প  গল্প ভদ্র অভদ্র   ভদ্র হবার অনেক জ্বালা। রাগ হলেও খারাপ কথা বলা যায় না। সারাদিনে ক্রমাগত রাগ গিলে যেতে হয়। তারপর রাত্রে বিছানায় শুয়ে শুধু ছটফট আর ছটফট। সত্যি কী

পুরো পড়ুন>>

প্রিয় লেখক (শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়)

 সাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আমি যত্ন করিয়া লিখি,লেখাকে চিত্তাকর্ষক করিবার চেষ্টা করি। তাই প্রথম পাঠে বোধহয় লেখার চাকচিক্যই চোখে পড়ে। চাকচিক্য ছাড়া তাহাতে যে আর কিছু আছে তাহা কেহ লক্ষ্য করেন না। অনেকে পরে আবার লেখাটি পড়িলে তাহার অন্তর্নিহিত বস্তুটি চোখে পড়ে।‘ নিজের লেখা সম্পর্কে ডায়েরিতে একথা লিখেছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। তারিখ ৪ঠা জানুয়ারি,১৯৫২। ওই একই লেখায় তিনি জানিয়েছিলেন,তাঁর লেখা পাঠকদের আকৃষ্ট করার কারণ,তাতে রয়েছে একটা immediate appeal যা মোহিতলালের ভাষায় ‘ত্বরিতানন্দ’। আসলে একজন লেখক টিকে থাকেন লেখার মধ্যে দিয়ে নিজের বিশ্বাস,আদর্শকে সঠিক ও সুন্দরভাবে প্রতিফলিত করার মাধ্যমে। একেই হয়ত শরদিন্দু বলতে চেয়েছেন লেখার ‘অন্তর্নিহিত বস্তু’। এই ‘অন্তর্নিহিত বস্তু’ গোয়েন্দা  কাহিনি বা ভৌতিক কাহিনিতে সেভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় না। এরজন্য দরকার পড়ে অন্যধরণের লেখা। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে এই অন্য ধরণের লেখা হল ইতিহাসের কাহিনি। এর  মধ্যেই তিনি তাঁর জীবনচেতনা পরিস্ফুট করার চেষ্টা করেছেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখালেখি শুরু হয়েছিল ১৯২৯ সালে। আর তাঁর জন্ম সেই বাংলাসাহিত্যের জন্য খুব পয়মন্ত সাল ১৮৯৯ এ। ১৮৯৯ সালটি পয়মন্ত কেননা এই সাল  ধারণ করে আছে শরদিন্দুর সঙ্গে  জীবনানন্দ ও নজরুলের জন্মতারিখ। শরদিন্দু জন্মেছিলেন ৩০ মার্চ,উত্তর প্রদেশের জৌনপুর শহরে। বাবা তারাভূষন বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মুঙ্গেরের ডাকসাইটে উকিল। ম্যাট্রিক পাশ করেই শরদিন্দু চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতায় কেটেছে ১৯১৫ থেকে ১৯১৯ সাল অব্দি। বিএ পাশ করেন কলকাতা থেকে, ল তেও ভর্তি হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইন পাশ করেন পাটনা থেকে। কবিতা দিয়ে সাহিত্যের যাত্রাপথ শুরু। একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশ করেন-‘যৌবন স্মৃতি’। পাকাপাকিভাবে লেখায় আসেন ১৯২৯ সালে। ছোটবেলা থেকেই ডিটেকটিভ গল্পের পোকা ছিলেন। দেশি বিদেশি গোয়েন্দা কাহিনি গিলতেন গোগ্রাসে। কলকাতায় পড়াকালীন শহুরে মানুষজনকে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছেন। লিখতে এসে  ভাবলেন,গোয়েন্দা কাহিনি লিখলে কেমন হয়। লিখতে পারবেন,এ বিশ্বাস ছিল। ১৯৩৩ এ শুরু করলেন প্রথম গল্প ‘পথের কাঁটা’ দিয়ে। ‘পথের কাঁটা’ সহ প্রথম তিনটি গল্প ছাপা হল ‘মাসিক বসুমতী’তে। বাংলা সাহিত্যের পাঠক সাদরে গ্রহণ করল গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সীকে। নিজে বন্দ্যোপাধ্যায়,কিন্তু গোয়েন্দা বক্সী,এ নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মজা করে বলেছিলেন-‘আমার ধারণা কায়স্থরা ব্রাহ্মণদের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধি ধরে।’ শরদিন্দুর গোয়েন্দা কাহিনি তাঁর লেখার প্রসাদগুণে নিছক গোয়েন্দা-কাহিনি হয়ে থাকল না। হয়ে উঠল সামাজিক উপন্যাস। কিন্তু তবু,শুধু গোয়েন্দা কাহিনি নিয়ে শরদিন্দুর মত শক্তিশালী লেখক এগিয়ে যাবেন,তা হতে পারে না। গোয়েন্দা কাহিনির পাশে ছোটবেলা থেকেই শরদিন্দুর প্রিয় ছিল ঐতিহাসিক কাহিনি।  রমেশচন্দ্র দত্তের ‘রাজপুত জীবন সন্ধ্যা’, ‘মহারাষ্ট্র জীবন প্রভাত’ পড়েছিলেন মুগ্ধ হয়ে। এরপর   বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে অভিভূত হয়ে গেলেন। গোয়েন্দা কাহিনির পাশাপাশি এবারে চলল পুরোদমে ঐতিহাসিক উপন্যাস,গল্প লেখা। শরদিন্দুশরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন-‘ইতিহাসের গল্প লিখেই বেশি তৃপ্তি পেয়েছি। মনে কেমন একটা সেন্স অব ফুলফিমেন্ট হয়।’  কিন্তু কেমন হল তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস? সুকুমার সেন লিখেছেন-‘আগেকার লেখকদের মতো  শরদিন্দুবাবু দূরবীনের চোঙার মধ্য দিয়ে কিম্বা নাকে দূরদৃষ্টির চশমা এঁটে ইতিহাস হাতড়াননি বা খোঁজ  চালাননি। ইনি যেন চোখে কন্ট্যাকট লেন্স লাগিয়ে ইতিহাসকে হাতের নাগালে পেয়েছিলেন। …দূরের দৃশ্যপটকে নিকটে এনে দূরের মানুষকে কাছের করতে পেরেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।’  সত্যিই তাই। যেজন্য যে ঐতিহাসিক কাহিনি বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে একদা বর্ণময় হয়েছিল,শরদিন্দুর হাতে তা হল গল্পময়। স্বাভাবিকভাবেই গল্পপ্রিয় বাঙালি তাঁর ঐতিহাসিক রচনা গ্রহণ করল পরম সমাদরে। শুধু সেদিন নয়। ব্যোমকেশ- কাহিনির পাশে বাঙালি আজও পড়ে তাঁর ‘গৌড়মল্লার’ ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’ ইত্যাদি ঐতিহাসিক রচনা। সাধারণত গোয়েন্দা-কাহিনির লেখকদের গোয়েন্দার জনপ্রিয়তায় চাপা পড়ে যায় তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকীর্তি। যেমনটা হয়েছিল দীনেন্দ্রকুমার রায়ের ক্ষেত্রে।  দীনেন্দ্রকুমারের রবার্ট ব্লেকের গোয়েন্দা কাহিনির জনপ্রিয়তার আড়ালে তাঁর জীবদ্দশাতেই লোকে বিষ্মৃত হয়েছিল তাঁর অনুপম সাহিত্যকীর্তি-‘পল্লীচিত্র’,

পুরো পড়ুন>>
কথাঃআবোলতাবোল (সাতেপাঁচে)
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

কথাঃআবোলতাবোল (সাতেপাঁচে)

কথাঃআবোলতাবোল (সাতেপাঁচে) কথাঃ আবোলতাবোল সাতেপাঁচে আজ সকালে একটা সাতেপাঁচে থাকা লোক দেখলাম।  মুখে এন পঁচানব্বই সেঁটে চিনি কিনতে গিয়েছিলাম। দূরে নয়,পাড়ারই মুদির দোকানে।  গিয়ে মুদির দোকানের কাঠের টেবিলটায় সবে ভর দিয়ে

পুরো পড়ুন>>

কথাঃআবোলতাবোলঃ তালগাছ

কথাঃআবোলতাবোল তালগাছ               চাষের জমির মাঝে তালগাছ। লাঙল দিয়ে চষতে গেলে আশপাশ মিলিয়ে অনেকটা জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। ভাগচাষী গজগজ করে।.গজগজ করে বাবাও,-‘আর জায়গা পাইলি না,এক্কেরে আমার জমির মইধ্যে  খাড়াইয়া পড়লি!’ প্রথমে আগাছার মত উপড়ে ফেললেই হত। কিন্তু কেন কে জানে তা হয়নি।  এখন বড় হবার পর গজগজ ছাড়া আর উপায় কী! এই অবস্থায় কেটে ফেলার কথা তো বাবার কল্পনাতেও আসবে  না। এক বৈশাখে তাল গজাল গাছটায়। আমরা তালশাঁস খেলাম। সে  ভাদ্রে তালও পাকল। আমরা তাল কুড়োলাম। পাকা তালের রস দিয়ে বড়া হল বাড়িতে। তারপর রস নিংড়ানো তালাআঁটি ফেলা হল দূরে। দূরে,কিন্তু অজানা নিরুদ্দেশে ভাসিয়ে দেওয়া নয়। কারণ ভাদ্র গেলেই আসবে আশ্বিন। তখন এই তালআঁটি গুলোই মাটি থেকে তোলা হবে। কাটা হবে। ভিতর থেকে বেরোবে তালকুসুম। যার ডাক নাম, তালফোঁপরা। সে তালফোঁপরা কোজাগরির সামনে দেওয়া ফলের মধ্যে মিশে যাবে আর একটা ফল হয়েই। একদিন তালপাটালি নিয়ে এল আমাদের বহুদূরের এক ভাগচাষী। খেলাম। চুরিও করলাম। সে কী অপূর্ব স্বাদ! কোথায় লাগে খেজুর গুড়ের পাটালি! দিদি বলল, ‘আমাদের তালগাছের রস দিয়ে  করা যায় না  এমন?’ দাদা বলল, ‘যাবে না কেন?করলেই যাবে,কিন্তু তালগাছ কাটানো, ঠিলি পাতা,রস নামানো,জ্বাল দেওয়া  অনেক হ্যাপা। আর তাছাড়া, একটা গাছের রস আর কতটুকু হবে?’ তালপাটালি করার ভাবনা  তাই শেষ হয়ে গেল আলোচনাতেই । দেখতে দেখতে আমরা ভাইবোনেরা বড় হলাম। তালগাছের বুড়ো হবার কথা নয়,কিন্তু তবু দেখে ওকে বুড়োই মনে হতে লাগল। কেমন একটা শুকনো শুকনো ভাব। তালের কাঁদিও সেভাবে হয় না। পরিচিতরা পরামর্শ দিল,বেচে দিন। বাবা গত। বেঁচে থাকলে একথা ভাবাও যেত না। এখনও বাড়ির অভিভাবকদের মধ্যে একটু দোনামনা যে হল না তা নয়। তবে শেষ অব্দি বেচে দেবার সিদ্ধান্তই নেওয়া হল। খবর পাঠানো হল তালগাছ যারা বেচাকেনা করে তাঁদের কাছে। গ্রামের দিকে তালগাছের তখন বিরাট  চাহিদা। মাটির বাড়ির জুৎসই কড়িবরগার জন্য তখন বাছা হয় ,তালকাঠই। কিন্তু তালগাছ বিক্রি অত সহজ নয়। প্রথমে একদিন এলেন এক সুবেশ ভদ্রলোক। আমরা ভাবলাম,আসল ক্রেতা বোধহয় তিনি। কিন্তু শুনলাম উনি কাঠব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আসছেন গাছ পরীক্ষা করতে। ওঁর কাজ হল তালগাছে কতটা সার আছে দেখা। দেখে,ব্যবসায়ীদের  রিপোর্ট দেওয়া। সেই রিপোর্ট দেখে এবার দরদাম করতে এগিয়ে আসবেন ওঁরা। এমন পেশার লোকও তাহলে আছেন! আমরা তালগাছের সার-টেস্টারের পিছু পিছু চললাম গাছের কাছে। উনি একটা লোহার সরু শলাকা তালগাছে কিছুটা ঢুকিয়ে আবার টেনে নিলেন। বললেন-‘আমার কাজ শেষ।’আমরা তো অবাক। এরপর একদিন এলেন ব্যবসায়ীরা। বললেন, ‘গাছের সার ভালো নেই।’  তবু দাম একটা স্থির হল। কিন্তু কাটা পড়ার আগেই জ্যৈষ্ঠমাসের এক বিকেলে ঝড়ে ভেঙে পড়ল তালগাছটা। সব হিসেব উল্টে গেল আমাদের। আমাদের কারও কারও অবশ্য এও মনে হল যে এতদিনের পুরোনো পিতৃসম গাছ ঝড়ের আশ্রয়ে বিক্রির অপমান থেকে নিজেকে বাঁচাল। এবং আমাদেরও বাঁচাল অপরাধের হাত থেকে।   তালগাছটা থেকেও নেই হয়েছিল বহুদিন। এখন একেবারে নেই হয়ে বোঝা গেল আমার কাছে সে কতটা ছিল। মনে পড়ল, ছোটবেলায় ওই তালগাছের দিকে তাকিয়েই পড়েছি,‘তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে…।’ উদ্বুদ্ধও  হয়েছি। ভেবেছি,একপায়ে ও যদি পারে আকাশ ছুঁতে,দুপায়ে আমি পারবনা কেন! ফাঁকা জায়গাটার দিকে তাকিয়ে লম্বা শ্বাস পড়ে আমার। আর এখন? গ্রামে গিয়ে দেখি কাঁচাবাড়ির চিহ্নও আর নেই। তালগাছের একটা ব্যবহার তার মানে বিলুপ্ত। আমাদের জমিটা অবশ্য আছে। ওদিকে তাকালে কিন্তু মনে পড়ে যায় তালগাছটার কথা। শুধু কি তাই? গ্রীষ্মের দুপুরে গ্রামের বাড়ির বারান্দায় বসে চোখ বুজলে আজও শুনতে পাই, সেই একপায়ে দাঁড়ানো,সব গাছ ছাড়ানো তালগাছটায় একটা কাঠঠোকরা আওয়াজ করে চলেছে-ঠক,ঠক,ঠক…  

পুরো পড়ুন>>

ক্যাডবেরি

(আজ কাজিন ডে। একটা গল্প। ছোটদের) ক্যাডবেরি এই পৃথিবীতে ঋতমের একটাই শত্রু। বাদল। বাদলকে দেখলেই ঋতমের মাথায় রক্ত চড়ে যায়। ওর চোখেমুখে এলোপাথারি ঘুষি চালাতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু শেষ অবধি

পুরো পড়ুন>>

কথাঃআবোলতাবোল (‘যতই নাগরিক হও,জীবনের কোথাও না কোথাও লুকিয়ে রাখ একটা গ্রাম’)

কথাঃ আবোলতাবোল  ‘যতই নাগরিক হও জীবনের কোথাও না কোথাও লুকিয়ে রাখ একটা গ্রাম।’পুরনো ডায়েরির পাতা ওল্টাতে  গিয়ে আজ হঠাৎ নজরে পড়ল লাইনটা।কী লিখতে গিয়েছিলাম? গদ্য না কবিতা? এক লাইনের পর

পুরো পড়ুন>>

কথাঃআবোলতাবোল (ছাই)

কথাঃআবোলতাবোল  ছাই ‘আমি হচ্ছি,ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো।’ কে যেন কথাটা বলল সেদিন। তখন থেকেই দেখছি কথাটা কেমন কুনকুন করছে ভিতরে। বক্তার জন্য নয়(কেননা সে অর্থে আমরা অনেকেই তো সমাজে সংসারে তাই)। কুলোর জন্যও নয়। কুনকুনানিটা ছাই-এর জন্য। শহরে তো ছেড়েই দিলাম। গ্রামের অন্দরেও এখন ঢুকে গেছে এলপিজি। ফলে ওখানে কুলো এখনও যতটা আছে,ততটা নেই ছাই। প্রাক এলপিজি যুগে ছাই ছিল আমাদের নীরব সেবায়েত। নীরব,কেননা তাঁর সেবায় আমরা এতটাই অভ্যস্ত ছিলাম,যে তাকে চোখেই পড়ত না। ভাগ্যিস বিমল মিত্র রেলের চাকরিতে দুর্নীতি

পুরো পড়ুন>>
গান নাটক নিয়েই থাকতে চান ঢাকার নিকসন
General
Sudip Joarder

গান নাটক নিয়েই থাকতে চান ঢাকার নিকসন

গান নাটক নিয়েই থাকতে চান ঢাকার নিকসন ঢাকার নিকসন রিজভী একজন স্বশিক্ষিত গায়ক। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ফিল্ম ও টেলিভিসন মিডিয়ার সঙ্গে নাটকের সহ পরিচালক হিসাবেও যুক্ত। ডাফোডিল ইন্টারন্যাশানাল ইউনিভার্সিটির

পুরো পড়ুন>>

গল্প (চোর)

গল্পচোর                পালান সেখ চেঁচাচ্ছে।–‘স্যাররা নিচে আসুন,নিচে আসুন। চোর ধরা পড়েছে,সাইকেল চোর।’ আজ স্কুলে পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান। ক্লাস নেই। অনুষ্ঠান হবে স্কুলের হলঘরে। স্যারেরা তাই  ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। কয়েকজন স্টাফরুমে  গল্পগুজব করছিলেন। কয়েকজন চায়ের ঘরে,চা  খাচ্ছিলেন। আর কয়েকজন স্কুলের  হলঘরে স্টেজের তদারকি করছিলেন। হেডস্যার নিজের চেম্বারে বসেছিলেন জরুরী কিছু কাগজপত্র  নিয়ে।   পালান সেখের চীৎকারে সবাই দোতালার ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ান। এই স্কুলের স্যারদের বসার ঘর,  হেডস্যারের চেম্বার, অনুষ্ঠানের হল,সবই দোতালায়। স্যারেরা ব্যালকনিতে আসতে পালান আবার  উপরের দিকে তাকিয়ে চীৎকার করে-‘সাইকেল চোর ধরা পড়েছে,সাইকেল চোর।’  সাইকেল চোর ধরা পড়ার খবর  হলঘরে সমবেত হওয়া ছেলেদের কানেও গিয়েছে। ওরা হল থেকে বেরিয়ে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামে। হেডস্যারকে নিয়ে স্যারেরাও নিচে নেমে আসেন। অনেক কটা গ্রামের মাঝখানে এই স্কুল। সাইকেল নিয়ে প্রচুর ছাত্রছাত্রী আসে। আগে সাইকেল রাখার গ্যারেজ ছিল না। এখন গ্যারেজ হয়েছে। কিন্তু গ্যারেজ হলে কী হবে? গার্ডের ব্যবস্থা এখনও করা যায়নি। গ্যারেজের একটা দিকে আবার প্রাচীরের অনেকটা  কিছুদিন আগে ঝড়ে ভেঙে গেছে। এখনও  সারানো হয়ে ওঠেনি। সাইকেলগুলো তাই গ্যারেজে থাকলেও খুব সুরক্ষিত থাকে না। স্কুলগেটের পাহারাদার পালান সেখ। গেটের সঙ্গে গ্যারেজটা দেখার দায়িত্বও পালানের উপর চাপানো হয়েছে।  কিন্তু তারও তো দুটোই চোখ। গেট সামলে অনেক সময়ই গ্যারেজের দিকটা দেখায় ফাঁকি থেকে যায়। ফলে উটকো লোক গ্যারেজে মাঝেমধ্যেই ঢুকে পড়ে। ঘটে সাইকেল চুরির ঘটনাও। সাইকেল চোর  কিন্তু একটাকেও এখনও ধরা যায়নি। আজ সাইকেল চোর ধড়া পড়ায় ছাত্রেরা সকলেই উত্তেজিত। কিছু ছাত্র নিচে ছিল,তখনও হলঘরে যায়নি। চোরকে ধরেছে তারাই। তবে গেমসের অর্ণবস্যার কাছেপিঠেই ছিলেন। তাই চোরের উপর ওদের মারটা দু একটা কিল চড়ের বেশি এগোয়নি। সাইকেল চোরকে গ্যারেজের কাছের শিমুলগাছটার তলায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। বেড় দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছাত্রেরা।  স্যারেদের নিয়ে হেডস্যার ওখানে পৌঁছতেই উঁচুক্লাসের কয়েকজন ছাত্র আওয়াজ তুলল-‘ওকে আমাদের হাতে ছেড়ে দিন স্যার। এতদিন যত সাইকেল চুরি গেছে সব কটার শোধ তুলব ওর পিঠে।’ হেডস্যার ছেলেদের কথার জবাব দেবেন কি  সাইকেল চোরকে দেখেই তো চক্ষু চড়কগাছ। এতটুকু  ছেলে সাইকেল চুরি করছিল! বয়স খুব বেশি হলে তেরো হবে। বাংলার রফিকুল স্যার প্রস্তাব দেন-‘থানায় দিয়ে দিন,যা করার ওরাই করবে।’    ছেলেটার একেবারে কাছে দাঁড়িয়েছিলেন অর্ণবস্যার। ছাত্রদের

পুরো পড়ুন>>
কথাঃ গরুর গাড়ির ক’টি চাকা
Kotha Abol Tabol
Sudip Joarder

কথাঃ গরুর গাড়ির ক’টি চাকা

Gurur Garir Kota chaka কথাগরুর গাড়ির ক’টি চাকা আলাপনের বিয়েতে বরযাত্রী যাচ্ছি। পিচঢালা মসৃন রাস্তা। চারচাকা এসিতে আলাপন। পাশে আমরা ক’জন।-‘আমার বিয়েতে সবাই গিয়েছিলাম বাসে।’  কিছুটা যেতেই বললেন এক বয়স্ক

পুরো পড়ুন>>
চল পানসিঃ মায়াপুর ভ্রমণ
Chol Pansi
Sudip Joarder

চল পানসিঃ মায়াপুর ভ্রমণ

  চল পানসি মায়াপুর ভ্রমণ           নদিয়া জেলার লোক হয়েও এখনও মায়াপুর দেখনি! বয়স্ক সহকর্মীর এই শ্লেষ সেদিন এতটাই তাতিয়ে দিল যে ঠিক করলাম,আর দেরি নয়। সামনে যে কোনও একটা ছুটির দিন

পুরো পড়ুন>>