প্রিয় লেখকঃ পাঁচনম্বর বাড়ির সেই গুণী মানুষটি

প্রিয় লেখক পাঁচনম্বর বাড়ির সেই গুণী  মানুষটি পাঁচনম্বর বাড়ির উত্তরের বারান্দায় ঠায় বসে আছেন তিনি। দৃষ্টি ছ'নম্বর বাড়ির দিকে নিবদ্ধ। পাঁচনম্বর আর ছ'নম্বর বাড়ির মাঝখানে সেদিন অগণিত লোক। এক মহাবিপদের আশঙ্কায় তারা প্রহর গুনছে। একসময় কে একজন এসে বলল-'স্নান করে নিন,খেয়ে নিন।'ফিরে তাকালেন তার দিকে। বললেন-'এই বাড়িতে বসে অনেক মৃত্যু দেখেছি,অনেক শোক পেয়েছি। আমার জন্য ভাবিস না,তোরা যা। আমি ঠিক সময়ে নাইব,খাব।'মুখে যতই বলুন,তবু বসে রইলেন অনেকক্ষণ। একসময় উঠলেন। স্নান-খাওয়াও সারলেন। কিন্তু এরপর আবার বেতের চেয়ারটায় বসে যেই পান মুখে দিতে যাবেন,ভেসে এল খবর। সব শেষ,রবি অস্তমিত। পান খাওয়া আর হল না।তাঁর প্রিয় রবিকা আর নেই! একটুকরো কাগজ আর রঙ…

Continue Reading প্রিয় লেখকঃ পাঁচনম্বর বাড়ির সেই গুণী মানুষটি

প্রিয় লেখকঃ কিরীটী ও নীহাররঞ্জন

প্রিয় লেখক কিরীটী ও নীহাররঞ্জন 'প্রীতিভোজ উৎসব সুব্রতর বাড়িতে। আমহার্স্ট স্ট্রিটে প্রকান্ড বাড়ি কিনেছে সুব্রতরা। সে বাড়িতেই গৃহপ্রবেশ উপলক্ষে এই প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান। অনেক আমন্ত্রিতরাই এসেছেন। তাঁদের মধ্যে এসেছেন বিশেষ একজন। কিরীটী রায়।'এভাবেই রহস্যভেদী কিরীটী রায়ের আবির্ভাব। মোবাইল-কম্পিউটার পূর্ব যুগে যাঁর কার্যকলাপ পড়বার জন্য বাঙালির আগ্রহের অন্ত ছিল না।সে সময় শহর-গ্রামবাংলার লাইব্রেরিগুলো এখনকার মত নিষ্প্রাণ হয়ে যায়নি। প্রচুর পাঠক সমাগম হত। এইসব পাঠকদের একটা বিরাট অংশই ছিলেন ডিটেকটিভ উপন্যাসের পোকা। আর পছন্দের ডিটেকটিভ উপন্যাসের মধ্যে নীহাররঞ্জন গুপ্তের কিরীটী অমনিবাস ছিল এক নম্বরে।গোয়েন্দা কিরীটীর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণ, সমসাময়িক গোয়েন্দাদের মধ্যে  তিনি ছিলেন অনেকটাই আলাদা। কিরীটী বাঙালি।,কিন্তু মধ্যবিত্ত ঘেরাটোপের বাইরে তাঁর অবস্থান। নীহাররঞ্জন…

Continue Reading প্রিয় লেখকঃ কিরীটী ও নীহাররঞ্জন

প্রিয় লেখকঃ কবি ও সমালোচক মোহিতলাল

প্রিয় লেখক কবি ও সমালোচক মোহিতলাল  হার্টের ্ যন্ত্রণা। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। কিন্তু দৃঢ়চেতা মানুষটি যন্ত্রণা নিয়েও অবিচল। চোখেমুখে নেই কোনও ভয়ের চিহ্ন। সেদিন সকালে আকাশ ছেয়ে গিয়েছিল কালো মেঘে। তা দেখে অসুস্থ শরীরেও উঠে বসেছেন। গুনগুন করে গেয়েছেন,'বহুযুগের ওপার থেকে আষাঢ় এল আমার মনে।' মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে নার্স এলেন নাড়ি দেখতে। হাতটা নার্সের হাতে তুলে দিতে দিতে বললেন,'মজেসে চল রহে।' তাঁর শেষ কথা। অকুতোভয়,দৃঢ়চেতা এই মানুষটির নাম মোহিতলাল। মোহিতলাল মজুমদার। ১৮৮৮-এর ২৬ অক্টোবর থেকে ১৯৫২ এর ২৬ জুলাই,মোটামুটি চৌষট্টি বছরের নাতিদীর্ঘ এক জীবন।মোহিতলালের প্রথম পরিচয়,তিনি কবি। দ্বিতীয় পরিচয়,সাহিত্য সমালোচক। দুই ক্ষেত্রেই তিনি কীর্তিমান। তাঁর কবিতা নিয়ে সমসময়ে,পরবর্তীকালে অনেক আলোচনা হয়েছে।…

Continue Reading প্রিয় লেখকঃ কবি ও সমালোচক মোহিতলাল

End of content

No more pages to load