কথাঃআবোলতাবোল -আমার স্কুটি

কথাঃ আবোলতাবোল   আমার স্কুটি     -‘একটা স্কুটি কিনলে কেমন হয়?’ -‘কেমন হয় মানে! বাইক-স্কুটি ছাড়া এযুগে চলে নাকি? রাতবিরেতে কত দরকার পড়ে! বাইক এই বয়সে চালনো শিখতে পারবেন না। কিন্তু স্কুটি চালানো খুব সহজ।’ -‘আমি পারব চালাতে?’ -‘পারবেন না কেন? মেয়েরা চালাচ্ছে-’ -‘মেয়েরা চালাতে পারলেই আমি পারব তার কী গ্যারান্টি! ছেলেরা পারে,এমন কোন কাজটা না   আজকাল মেয়েরা পারছে!’ -‘পারবেন,পারবেন। সাইকেল যখন চালাতে পারেন স্কুটিও পারবেন।’ স্কুটি কেনার আগে এই জাতীয় কথোপকথন আমার কার সঙ্গে না হয়েছে! কিন্তু মনস্থির করেও করতে পারছিলাম না। স্কুটি কেনার কথা মনে হলেই নানা ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার ছবি আমার মনের মধ্যে এসে হাজির হচ্ছিল।…

0 Comments

কথাঃমিথ্যুক(Mitthuk)

কথাঃ মিথ্যুক মিথ্যা কথা বলার জায়গা পাসনি? এত মিথ্যা কথা বল কেন? মিথ্যা বলা আপনার স্বভাব। এই হল, ‘তুই’, ‘তুমি’ আর ‘আপনি’ বেলায় আমার সম্পর্কে লোকের মূল্যায়ন। একটুও ভুল নয় কিন্তু। একেবারে সঠিক এই মূল্যায়ন। ছোটবেলা থেকেই আমি খুব মিথ্যে কথা বলি। আর এখন তো মিথ্যে বলাটা বেড়ে বেড়ে এমন জায়গায় গিয়েছে,যে আমাকে মিথ্যেবাদী বললে মিথ্যেবাদীদেরও রাগ হবে। মিথ্যে কথা বলা খারাপ সে আমিও জানি। কিন্তু কী করব? স্বভাব যায় না ম’লে। আমার মিথ্যে বলা প্রথম শুরু হয় স্কুলে। অমর,বিনয়,শমিত,অরুণেশ,বাবু,সুব্রত আমার স্কুলের প্রিয় সহপাঠী এদের কাছে। কারণে,অকারণে। ‘মিথ্যে বলার জায়গা পাসনি?’ ওদেরই কথা। সেসময়, একটা মিথ্যে বলার ঘটনা এখনও খুব…

0 Comments

কথাঃবাংলাসাহিত্যে ভূত (Bangla sahitye bhut)

কথা বাংলাসাহিত্যে ভূত ‘ভূতের গল্প’র শুরুতে উপেন্দ্রকিশোর লিখেছেন, ‘আমি ভূতের গল্প ভালবাসি। তোমরা পাঁচজনে মিলিয়া ভূতের গল্প কর,সেখানে আমি পাঁচ ঘন্টা বসিয়া থাকিতে পারি।’ শুধু লেখক উপেন্দ্রকিশোর নন,ভূতের গল্প বিষয়ে সকলেরই বোধহয় কমবেশি একই বক্তব্য। সেজন্য বাংলাসাহিত্যে আজও প্রচুর ভূতের গল্প লেখা হয়। ভূত আছে না নেই,সে তর্ক বৃথা। প্রমথনাথ বিশী একটা সুন্দর শব্দযুগ্ম উপহার দিয়েছেন, ‘সুখকর ভীতিবোধ।’ বিশ্বাস বা অবিশ্বাস নয়,ভূতের গল্পে সবাই বোধহয় এটাই পেতে চায়। অন্য গল্প পড়া বা শোনার ক্ষেত্রে হয়তো অনুষঙ্গ লাগে না। কিন্তু ভূতের গল্পের ক্ষেত্রে টিমটিমে আলো,ঘুটঘুটে অন্ধকার আর বর্ষা বা শীতের আবহাওয়া থাকলে বেশ জমে যায়। ভূতের গল্পের শুরুটা করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। তবে…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল-এই সব ঠকদের কাছে ঠকেও সুখ (ei sob thokder kache thokeo sukh)

কথাঃ আবোলতাবোল এইসব ঠকদের কাছে ঠকেও সুখ ‘কত করে নিল মাছটা?’ -‘তিনশো।’ - -‘ব্যাপক ঠকিয়েছে। বাজার ঘুরে দ্যাখো গে, এ মাছ হয়ত দুশোটাকা কেজিতে সেধে সেধে দিচ্ছে। আরও তুমি রোজ একজনের কাছ থেকে কেনো! দিনের সব লাভটা সন্দীপ মনে হয় তোমার কাছ থেকেই করে নেয়।’ বাজার থেকে ফেরার পর এ হল বাড়ির নিত্যকার কথোপকথন। সন্দীপ আমাকে ঠকায় কিনা জানার উপায়ও নেই। কারণ বাজারে আমাকে দেখতে পেলেই সন্দীপের ডাক-‘তাড়াতাড়ি আসুন,টাটকা রেখেছি আপনার জন্য।’ এত আন্তরিক ডাক কি এড়ানো যায়? আমি যথারীতি ওর কাছে হাজির হই,এবং ঠকি (সত্যি ঠকি কিনা আমি জানিনা, এটা বাড়ির ভারসন) সন্দীপের আহ্বান আমি এড়াতে পারি না আরও…

0 Comments

কথাঃ গরুর গাড়ির ক’টি চাকা

Gurur Garir Kota chaka কথাগরুর গাড়ির ক'টি চাকা আলাপনের বিয়েতে বরযাত্রী যাচ্ছি। পিচঢালা মসৃন রাস্তা। চারচাকা এসিতে আলাপন। পাশে আমরা ক'জন।-'আমার বিয়েতে সবাই গিয়েছিলাম বাসে।'  কিছুটা যেতেই বললেন এক বয়স্ক সহকর্মী।সমবয়সী সহকর্মী বন্ধু  তমাল এক বয়স্ক সহযাত্রীকে শুধোল-'কাকু আপনিও কি বাসে গিয়েছিলেন বিয়ে করতে?' বরবেশী আলাপন রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল-'কাকুর বিয়ের গাড়ির কথা শুধোচ্ছিস? আমি জানি। বাবার মুখে শোনা। কাকু বিয়ে করতে গিয়েছিল দশচাকার গাড়িতে।'-'দশচাকার গাড়ি!' তমাল শহুরে ছেলে,বুঝতে না পেরে তাকাল আলাপনের দিকে।আমি হেসে বললাম-'দশচাকার গাড়ি মানে হল গরুর গাড়ি।'দশচাকার গাড়ির রসিকতা  তমাল বোঝেনি।   এখনকার শহুরে ছেলেরা তো আরও বুঝবে না!  গ্রামের ছেলেরাও কি বুঝবে? সেদিন গ্রামের বাড়িতে শরৎচন্দ্রের…

1 Comment

কথাঃ পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছিল শেরফুলের মা (pisima k ata ene diyechilo sherfuler ma)

কথাঃ পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছিল শেরফুলের মা (pisima k ata ene diyechilo sherfuler ma) কথাঃ  পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছিল শেরফুলের মা পরীক্ষার খাতায় পিছনের দিকের ছাত্রদের হাবিজাবি উত্তরের সঙ্গে আমরা শিক্ষকেরা কমবেশি সকলেই পরিচিত।সেই হাবিজাবি উত্তরের মধ্যে এবার একটা ভিন্ন রকম কথা পাওয়া গেল। সহকর্মী শিক্ষকবন্ধু  ক্লাস নাইনের ভৌত বিজ্ঞানের শেষ মূল্যায়নের খাতা দেখছিলেন। কথাটা দেখালেন উনিই। প্রশ্ন ছিল,ব্লেড জলে ভাসে কোন ধর্মের জন্য। উত্তরে একটি ছেলে লিখেছে,হিন্দু ধর্মের জন্য। এটা সংশ্লিষ্ট ধর্মের গরিমা না নিন্দা,নাকি কোনওকিছুই না ভেবে লেখা,তা ছাত্রটিই জানে। কিন্তু   পারিপার্শ্বিক ঘটনা যে কোমলমতি ছাত্রদের মনেও প্রভাব ফেলছে,এটা পরিষ্কার। আমি জন্মেছি এই দেশে। কিন্তু আমার পূর্বপুরুষ দেশভাগের ক্ষত নিয়ে একদা উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিলেন এখানে। শুনেছি, দেশ পরিবর্তনের কারণে ধনী থেকে রাতারাতি গরিব হয়ে গিয়েছিলাম আমরা। আমাদের  মানুষ করে তুলতে  সীমাহীন শ্রম এবং অশেষ কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল বাবা মাকে। কিন্তু তার জন্য তাঁদের কখনও বলতে শুনিনি, এর জন্য দায়ী মুসলিমেরা।  যে কষ্ট,দুর্গতি এদেশে এসে প্রথমদিকে তাঁরা পেয়েছিলেন,তা তাঁদের প্রাপ্য ছিল না,কিন্তু দেশ যে সাধারণ মানুষ ভাগ করে না,এ বোধবুদ্ধি তাঁদের ছিল। তাই কখনও প্রতিবেশী ধর্মের মানুষদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে দেখিনি তাঁদের। উল্টে চিন্তায় আচরণে তাঁদের মধ্যে দেখেছি মিলনের,মানিয়ে চলার মানসিকতা। মানুষকে ভালবাসতে গেলে ধর্মপরিচয়কে পাত্তা দিতে হবে এমন হীন প্রবৃত্তি তাঁদের ছিল না। এদেশে এসে বাবা প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতার কাজ পেয়েছিলেন। মনে আছে, সেসময় ক্লাস ফোর থেকে  ফাইভে যেতে  পাস করতে হত যে ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষা তার জন্য গরিব প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকটির বাড়ির মাটির দাওয়ায় খেজুর পাতার মাদুর বিছিয়ে চলত পরীক্ষার আগে ফ্রি কোচিং।  সেখানে এসে বসত যেমন পুষ্কর,সাধনে্রা তেমনই থাকত আজাহার,ইমরান হাবিবের মত গরিবেরাও।  একটা দহের উপর কাঠের স্ল্যাব-পাতা ব্রিজ পেরিয়ে বাবা স্কুলে যেতেন। কাঠের স্ক্যাবগুলো বেশ কিছুটা   ফাঁক দিয়ে দিয়ে পাতা। ফলে একটু অসাবধান হলেই ফাঁক গলে নিচে পড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকত। বাবা যখন পঁয়ষট্টির কোঠায় এসেও আর্থিক কারণে এক্সটেনশন নিয়ে রয়ে গেছেন শিক্ষকতায়, চোখে  ছানি, কানেও শোনেন কম,তখন কোনওদিন উল্টো দিক থেকে ব্রিজ পার হয়ে এসেও দাঁড়িয়ে যেতেন  শরিফদা বা সালামদা কিম্বা সিরাজ সেখের মত কেউ। হাত ধরে বাবাকে আবার ব্রিজটা পার করে দিয়ে  আসতেন। সিরাজ সেখ ছিলেন বাবার অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। হঠাৎ একদিন,বলা নেই,কওয়া নেই হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন তিনি। সেদিন বাবারও স্কুল কামাই, এবং তিনি বেপাত্তা। পরে শুনেছিলাম,ত্রিসন্ধ্যা আহ্নিক না করে জলস্পর্শ না-করা প্রবল ধার্মিক মানুষটি  বেলা তিনটে অব্দি ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিলেন বন্ধুর কবরে ধূপকাঠি গুঁজবেন বলে। বাবা যেদিন মারা গেলেন আমাদের প্রাক্তন অঞ্চলপ্রধান আশরাফ মুন্সী,বার্ধক্যের বাধা নিয়ে তিন কিলোমিটার হেঁটে আমাদের বাড়িতে এসে এমন ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন যে শোকের বাড়িতে আমরা ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম তাঁকে সামলাতেই।   ধর্মপরিচয়কে দূরে রেখে পরস্পরের মধ্যে এই প্রীতির বন্ধন,কিন্তু মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। ছিন্নমূল হয়ে এদেশে আসা পরিবার আমাদের ছোট্ট গ্রামটায় একেবারে কম ছিল না। কিন্তু কোথাও ধর্ম এসে পরস্পরের মধ্যে দেওয়াল তুলেছে,এরকম দেখিনি। বরং উল্টোটাই দেখেছি। পাতানো কাকির প্রতি ভালবাসায় দূর গ্রাম থেকে প্রতিবেশি পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছেন শেরফুলের মা। খেলতে গিয়ে পা ভেঙে যাওয়া বাবলুদাকে দু মাইল রাস্তা কাঁধে করে বাড়ি নিয়ে এসেছেন রহিম রাজমিস্ত্রি। প্রফুল্ল স্যারের গাছের বড় কাঁঠালটা বরাবর দেওয়া হয়েছে বস্তর আলির বাড়িতে। দেশভাগের দগদগে ঘা নিয়ে এদেশে এসেও বিদ্বেষবিষ থেকে  পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন আমাদের বাবা মায়েরা এবং চারপাশের বহু মানুষ। আমরা দেশভাগের দুঃখ না পেলেও ফল ভোগ করেছি বিস্তর। কিন্তু কই তার জন্য তো আমাদেরও কখনও মনে হয়নি হাসানুলের সঙ্গে হারাধনের বন্ধুত্ব হতে পারবে না। যে জাতি-জটিলতা কখনও মনেই আসেনি এতবছর পরে  নিশ্চয় অন্য কারও প্ররোচনায় নতুন করে তাকে ফিরিয়ে আনব না। আর এড়িয়েও যাব তাঁদেরকে যাঁদের মধ্যে রয়েছে এই জাতি-জটিলতা।   এর সঙ্গে ধর্মাচারণকে গুলিয়ে ফেলার কোনও কারণ নেই। আমার জামার তলায়ও পৈতে রয়েছে। ছিঁড়ে যাবার মুহূর্তে এখনও ব্যস্ত হয়ে যাই আর একটা…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্যিক/সাহিত্যিক (ছবির রবীন্দ্রনাথ ) chobir rabindranath

  গল্পঃ সাহিত্য/ সাহিত্যিক  ছবির রবীন্দ্রনাথ পরমাণুবাদের জনক জন ডালটনের নাম আমরা সবাই জানি। চিকিৎসাবিজ্ঞানেও ডালটন দিয়ে একটি শব্দ আছে। ডালটনিজম। এটিরও মূলে ওই বিজ্ঞানীই। ডালটনিজম কিন্তু একটা রোগ। সাদা বাংলায় এর নাম লালকানা। অর্থাৎ লাল রং না দেখতে পারার রোগ। কেন এমন নাম? আঠারো-উনিশ শতকের বিজ্ঞানী জন ডালটন নাকি ছিলেন প্রবলভাবে লালকানা। শোনা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে তিনি সকলের রক্তবর্ণ গাউন পোশাকটিকে দেখেছিলেন বটল-গ্রিন বা বোতল-সবুজ। তাঁর নাম থেকেই রোগটির অমন নাম হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর আরও একটা নাম আছে। প্রোটানপ। প্রোটানপ-আক্রান্ত রোগীকে বলা হয় প্রোটানপিক।বিষয়,ছবির রবীন্দ্রনাথ। তবু বর্ণান্ধতা-সংক্রান্ত একটি রোগ নিয়ে দু চার কথা বলা কিন্তু একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক নয়।…

0 Comments

গল্পঃ ভদ্র অভদ্র,Bhodro Abhodro

গল্প  গল্প ভদ্র অভদ্র   ভদ্র হবার অনেক জ্বালা। রাগ হলেও খারাপ কথা বলা যায় না। সারাদিনে ক্রমাগত রাগ গিলে যেতে হয়। তারপর রাত্রে বিছানায় শুয়ে শুধু ছটফট আর ছটফট। সত্যি কী ভাবে এরা! সব প্রশ্নই করা যায়! সব থেকে পাজি ঐ গরুর ডাক্তারটা। কবে রিটায়ার করেছে , এখনও মরার নাম নেই। বিকেল হলেই হাঁটার নাম করে স্টেশন। কিন্তু হাঁটা তো গৌণ , চেনা অচেনা একটা লোক ও পাশ দিয়ে যাবার উপায় নেই। কৌতূহলী দৃষ্টি একেবারে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। অনেক সময় অচেনা লোক নিজের থেকেই নাম ধাম গন্তব্য বলে চলে যায়। কানাই যেহেতু মাসে বেশ কয়েকবার বাড়ি আসে। আর ফেরে এই সন্ধের ট্রেনে , তাই এই হাঁটুরেদের পাল্লায়…

0 Comments

কথাঃজাতীয় শিক্ষানীতি২০২০

কথাঃজাতীয় শিক্ষানীতি২০২০(National Educational Policy 2020 কথাঃ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ -‘সবচেয়ে ভাল লাগে কোন বিষয়গুলো?’ আজকাল এই প্রশ্নের জবাব ভাল ছাত্রদের কাছ থেকেও পাওয়া কঠিন। ফলে প্রশ্নটাকে আরও ভেঙে ভেঙে করতে হয়। -‘অঙ্ক কেমন লাগে?’ -‘খুব ভাল স্যার।’ -‘ইংরেজি?’ -‘ভাল। তবে বাংলাটা বেশি ভাল।’ -‘আচ্ছা। -ইতিহাস?’ -‘ভাল না।’ -‘ভূগোল?’ -‘খুব ভাল স্যার।’ -ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রির মধ্যে কোনটা অঙ্ক,ইংরেজি,ভূগোলের মত ভাল লাগে?’ -‘ফিজিক্স,ফিজিক্স স্যার।’ -‘আর বায়োলজি?’ -‘দারুণ লাগে,দারুণ স্যার।’ মনে মনে ছাত্রের খুব ভাল লাগা বিষয়গুলো জড়ো করি এক জায়গায়। অঙ্ক, বাংলা,ভূগোল,ফিজিক্স, বায়োলজি। বিচিত্র এক পাঁচের সংকলন। চলতি নিয়মে, এইচ এসে  বাংলা বাদে বাকি চারের অবস্থান একই গ্রুপে। যেখান থেকে মোট চারটে সাবজেক্ট নেওয়া যাবে না তা নয়। তবে একটিকে থাকতে হবে গুরুত্বহীনের কোঠায়।  পরীক্ষায়  অন্য তিনের কেউ বিপাকে পড়লে, সে যদি সুবিধাজনক জায়গায় থাকে তবে বিপাকে  পড়াকে     মিউট করে তার বাটন জ্বলে উঠবে। আর বাংলার মত ইংরেজি কম্পালসারি বিষয়, বাদ দেওয়া যাবে না কিছুতেই। এ গেল নিয়মের কথা। নিয়মের বাইরে আরও কিছু নিজেদের নিয়ম থাকে। যেমন এমনিতে অঙ্কের বিপরীত শব্দের নাম বায়োলজি। কিন্তু তবু সে থাকবে, এইচ এসের পর কেরিয়ারের নৌকোটাকে ডাক্তারি ইঞ্জিনিয়ারিং যে কোনও দিকেই যাতে চালনা করা যায়।  আবার ওই একই জয়েন্টের কারণে কেমিস্ট্রির কেরামতি অসহ্য লাগলেও তার তর্জন গর্জন মেনে নিতে হবে মুখ বুজে। এই পাঁচের দলে ভূগোল বড়ই বেমানান। চলতি নিয়মে এই দলে তার থাকাটা নীতিতে না আটকালেও  লাভালাভের হিসেবনিকেশ করতে গিয়ে সে বেচারাকে  মুখ নিচু করে বাইরেই দাঁড়াতে হবে ।…

0 Comments

কথাঃ সেই বাঁশি ফিরে আর আসবে কি?

কথাঃ সেই বাঁশি ফিরে আর আসবে কি?(sei bnasnhi fire ar asbe ki?) কথাঃ সেই বাঁশি ফিরে আর আসবে কি?    একটা জলের বোতল তোবড়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে ড্রেনটায়। একটা টিফিনকৌটোর ঢাকনা  ওয়ার্কশপের সামনের পেয়ারাগাছটার নিচে শুয়ে আছে কাত হয়ে। একটা ঝুলকালি লাগা পোশাক ঝুলছে গোডাউনের কাছের বিবর্ণ দড়িটায়। কিন্তু টাইম অফিসের সামনের ধাপিটার নিচে প্রায়-জীবাশ্ম অবস্থায় পড়ে কী ওগুলো? তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। অনেককষ্টে উদ্ধার হয়, একদা ওগুলো ছিল কারও  খাদ্যাবশেষ।  এতবছরের প্রাকৃতিক ক্রিয়াবিক্রিয়া সামলে কীকরে ওরা আজও টিকে থাকল,সেই বিষ্ময়ে ওখানে কিছুক্ষণ  দাঁড়িয়ে যাই চুপচাপ। কলরব মুখরিত সেইসব অতীত দিন হঠাৎই ছুটে আসে হু হু করে। কত মানুষ,কত মেশিন,কত কর্মব্যস্ততা! ওই তো নন্দীবাবু শেডে ঢুকছেন  চার নম্বর রিংফ্রেমে আগুন লাগার খবর পেয়ে। ক্যান্টিনে ও কীসের সোরগোল? নিশ্চয় ওয়ার্কারদের  ঠিকমত খাবার দেয়নি  ভেন্ডার। এদিকে কুন্ডুবাবু টাইমফিসে দাঁড়িয়ে আছেন চিন্তিত মুখে। ব্লোরুম চালাবার লোক আসেনি।   ভাবছেন ‘বদলি’ থেকে কাউকে নেওয়া যায় কি না। এসময় দোতালা থেকে নেমে সামনে হীরা পূজারকে চলে যেতে দেখে প্রধানবাবু চেঁচান-‘ও হীরা,হীরা,এই নোটিশবইটা ম্যানেজারের টেবিলে দিয়ে এসো তো!’ ‘অনেক ফুলগাছ লাগিয়েছি মিলের নানা জায়গায়। এসো দেখাই তোমাকে।’ সম্বিত ফেরে,বন্ধ মিলের  এখনও রয়ে যাওয়া এক অফিসারের কথায়। ওঁর সঙ্গে যন্ত্রের মত এগিয়ে চলি,মিলের নানা কোনে জিনিয়া ডালিয়ার সৌন্দর্য অবলোকন করতে।   জঙ্গলে ভরা বিশাল মিলটাকে অতীতের প্রেতচ্ছবি লাগে। শেডের সামনের রাস্তাটায় দেখি ঘুঘু চরছে  একজোড়া। ভিটেতে ঘুঘু চরার পিছনে আস্ফালনের একটা গল্প থাকে অনেকসময়। এই ঘুঘু চরে বেড়ানোর পিছনে আর  যাই হোক কোনও আস্ফালন ছিল না। অথচ আজ বাস্তব এটাই যে সব কলরব থেমে গেছে। মিলের ভোঁ  বাজে না আর। বিটি রোডের ধারের গল্প লেখার জন্য সমরেশ বসু ছিলেন। কিন্তু রায়গঞ্জ থেকে বালুরঘাটগামী রাজ্য সড়কের ধারে এই  সুতো মিলের গল্প লিখবে কে?   শিল্পে অনগ্রসর উত্তরবঙ্গ যথেষ্ট আশা নিয়েই তাকিয়েছিল সেদিন সদ্য চালু হওয়া ঝাঁ-চকচকে এই   মিলখানার দিকে। ১৯৮৫ সালের ২ ডিসেম্বর কমার্শিয়াল প্রোডাকশন চালু হতে এলাকার কর্মী মানুষজনেদের  দিনযাপনেও মিশে গিয়েছিল মিলের আওয়াজ। মিলের নানা বিভাগ আর  সেখানকার মেশিনারি ঘিরে নানা অচেনা শব্দ ধীরে ধীরে পাকাপাকি প্রবেশ করেছিল তাঁদের শব্দভান্ডারে। ‘ববিন’ ‘পিসিং’ ,স্ল্যাইভার’ ‘ডফ’, ‘হ্যাঙ্ক’ এসব শব্দ শেষঅব্দি হয়ে উঠেছিল তাঁদের জীবনেরও শব্দ। ২০০০ সালের গোড়া থেকেই নানা কারণে মিলের অবস্থা টালমাটাল।তবু চলছিল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সবাই ভাবছিল সেই গানের কথার মতই,we shall overcome some days.কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানো আর হয়নি।  সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক ছিল মেশিনপত্রের অনাধুনিকতা। অন্য কারণ আজ আর কাটাছেঁড়া না করাই ভাল। ২০১১ সালের ১১ জুলাই। পাকাপাকি বন্ধ হয়ে গেল প্রোডাকশন।‘ মিল না চললে,কী হবে আমাদের’ এই হাহুতাশ কর্মীদের মধ্যে ২০০৬ থেকেই শুরু হয়েছিল। প্রোডাকশন পাকাপাকি বন্ধ হতে,বেতন চালু থাকলেও,বাতাস ক্রমেই ভারী উঠেছিল দুশ্চিন্তায়।   বসে বসে বেতন কেউ বেশদিন দেয় না। বন্ধ মিলের কর্মীদের দুর্গতির গল্পটা সকলেরই জানা। কলকাতার  আশেপাশে বন্ধ হয়ে যাওয়া  বেসরকারি,আধা  সরকারি মিলের কর্মীদের ঋণভারে জর্জরিত হয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নেবার নানা গল্প উড়ে এসে তখন জুড়ে বসছে কর্মীমানুষগুলোর চিন্তার দাঁড়ে। তেমন ভবিতব্যই কি তবে অপেক্ষা করে আছে তাঁদের জন্যও! ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হল সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের সরকারি নানা বিভাগে বদলি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কর্মীরা। অনিশ্চিতের জীবন এসে নোঙ্গর ফেলল নিশ্চিন্ততার ঘাটে। কিন্তু মনের সুখ কি অতই সোজা! মিল থেকে রায়গঞ্জ বিডিও অফিসে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন রিংফ্রেমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিটার অমিত রায়। তিনি আজও মিলের সেই দিনগুলোকে দারুণভাবে ‘মিস’ করেন। একমাস আগে পেনসন সংক্রান্ত কাজে গিয়েছিলেন মিলে। বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। যে মিলে কেটেছে তাঁর যৌবনের রঙীন দিনগুলো কখনও আনন্দে কখনও বেদনায়,যেখানে বন্ধুত্বের উষ্ণতায় খুঁজে পেয়েছেন বাকি জীবনের রসদ,  এ কী অবস্থা হয়েছে তার! সেদিনের কথা স্মরণ করে ফোনের অপর প্রান্তে শ্রীরায়ের কণ্ঠস্বরে আজও বিষণ্নতার ছোঁয়া।   রায়গঞ্জের বছর একত্রিশের যুবক অরিজিৎ যখন নবম দশমের ছাত্র,বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়ই যেতেন মিলের  দিকে ঘুরতে। দেখতেন মিলের গেটে ‘শিফট চেঞ্জ’এর সময় কর্মীদের জমায়েত। মিলের ভোঁ পড়লে,  রাস্তায় ভিড়ের জন্য দাঁড়িয়েও যেতেন অনেকসময়। তিনি আজও,তাঁর শিক্ষকতার পেশায় অবসর পেলে, বিকেলের দিকে যান ওদিকে। মিলের তিনি সে অর্থে কেউ নন,কিন্তু আলোকিত চত্বরের জমাট আঁধারটা বুকে এসে ঝাপটা দেয় তাঁর। নীরব হয়ে যাওয়া ওইটুকু রাস্তা পার হতে বেশ কষ্ট হয় অরিজিতের। আর চলে গিয়েও ফিরে ফিরে একসময়ের কর্মস্থানটা দেখতে আসা সেদিনের সুপারভাইজার? ‘আমি যন্ত্রের  মতো এ মেশিন থেকে সে মেশিন ঘুরে বেড়াই…আনমনে রিংফ্রেমের স্পিন্ডিল থেকে ববিন  তুলে ছেঁড়া সুতো জোড়া দিই। আনমনে স্পিডফ্রেমের তৈরি রোভিং রিংফ্রেমে লাগাই। আনমনে ড্রফ্রেমের স্ল্যাইভার জুড়ি। আনমনে কার্ডিং মেশিনে কটন ফাইবারের ওয়েব নিরীক্ষণ করি। আনমনে ঘুরে বেড়াই  ব্লোরুম। আবার শুরু থেকে যখন একেবারে শেষ ডিপার্টমেন্ট রিলিংএ পৌঁছাই তখনও আমার অন্যমনস্কতা  কাটে না।…মনে হয় সুতো  তৈরির এ কারখানায় যেন আমি আনপড়…’, জীবনের ট্রাজেডি এটাই সেদিনের সেই আনপড় সুপারভাইজারের ক্লান্তিতে ভিজে যাওয়া ডায়েরির পাতা আজও কিন্তু রাত্রি গভীর হলে বাজিয়ে দেয় মিলেরই বাঁশি। বাস্তবে সে বাঁশি কি বেজে উঠতে পারে না আবার? বিশাল জমি আটকে পড়ে আছে মিলখানা। সুতো গেছে হতেই পারে অন্যকিছু। শিল্পদীন উত্তরবঙ্গে নতুন একটা শিল্পের স্বপ্ন কিন্তু এই মিল ঘিরে আজও রয়েছে সেখানকার মানুষজনের মধ্যে।

0 Comments

গল্পঃ অণুগল্প (গোপাল, রাখাল)

 অণুগল্প      গোপাল    -শুনছেন,কলকাতায় আপনার একটা মূর্তি ভাঙা হয়েছে?    -কে ভাঙল? রাখাল না গোপাল? -গোপাল। -আমিও সেটাই ভেবেছিলাম। -কেন কেন? আপনার বর্ণপরিচয়ে তো রাখালই মন্দ ছেলে ছিল আর  গোপাল  ছিল অতি সুবোধ বালক। -আমার উপর গোপালের রাগের কারণ তো সেটাই। তোদের এক বাঙালি কবি  অনেক কাল পরে লিখেছিল না, ‘রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি।’ গোপালকেও বর্ণ পরিচয়ে সেটাই করে রেখেছিলাম। ছোটবেলায় কার না রাখাল হতে ইচ্ছে হয়?  গোপালেরও হয়েছিল।  হতে পারেনি আমার জন্য। -আপনি যা ভাবছেন তা কিন্তু নয়? এ গোপাল আপনার গোপাল নয়। -কীরকম? -এ গোপাল হল gopal,gang of party approved lumpens.-কী, চমকে গেলেন? -না চমকাইনি। চমকানোর রোগ তো মর্ত্যেই চলে গিয়েছিল। -কিছু বলবেন না,এত বড় ঘটনা! - ঘটনাটা খুব বড় মনে হচ্ছে তোর কাছে? তোদের  যারা  ওখানে লাফালাফি করছে তাদের মুখের বচনের যা বাহার,বছরভর কাজকর্মের যা ছিরি তাতে আমার আসল মূর্তিটা ওখানে তৈরিই তো হয়নি  কোনওদিন- বাইরেরটা তা সে আমার গোপাল ভাঙুক বা তোদের gopal, আমার কিন্তু কিছু এসে যায় না। -তাহলে? -আমার আর একটা মূর্তি বানিয়ে নিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। আমাকে না হলেও ওদের চলবে,কিন্তু আমার মূর্তি ছাড়া…   -আপনাকে একটা খবর দিই। মূর্তি বানানো হয়ে গেছে। -তাই! কিন্তু পাথর না পঞ্চধাতু? রাখাল -হঠাৎ কী মনে করে? -এলাম,কেন আমার আসাটাও কি দোষের?  -না,দোষের নয়। তবে অস্বস্তির। বল কী বলবি? -বলছি, বাঙালিকে তো আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এত করেও আমার দোষগুলো কমাতে পেরেছেন কি? চেয়ে দেখুন,চারদিকে এগুলোরই বাড়বাড়ন্ত। আর যাকে আপনি গোপাল ভেবেছিলেন, সেও কম যায় না। হয়ত পড়াটা ঠিক করত। মা বাবার সামনে ওদের বিরুদ্ধে যেত না। কিন্তু সেটাকে সত্যি…

0 Comments

কথাঃ পার্থেনিয়ামের সংসার

কথাঃ  পার্থেনিয়ামের সংসার                                                         মুর্শিদাবাদ লাইনে তেমন ঘেঁটুফুল না দেখলেও রেলরাস্তার দুধারে অনেক জায়গাতেই ঘেঁটুফুলের সৌন্দর্য সেদিন দু চোখ ভরে উপভোগ করেছিলেন বিভূতিভূষণ। গত শতকের ত্রিশের দশকের শেষে বেলডাঙায় কর্মসূত্রে আসা ভাইয়ের কাছ থেকে ঘুরে গিয়ে দিনলিপিতে সেই রেলযাত্রার কথা তিনি লিখেওছিলেন।    বিভূতিভূষণ এখন এলে তিনি হয়ত লিখতেন রেললাইনের দু ধারে ফুটে থাকা আর একটি ফুলের কথাও। সেটি পার্থেনিয়ামের ফুল। এই ফুল দেখে বিভূতিভূষণ সাময়িক মুগ্ধতা কাটিয়ে হয়ত চিন্তিতই হতেন। কেননা, এই ফুলের যা গুণপনা তাতে এ-ফুল নিয়ে যে কারও প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক হওয়া অসম্ভব। তবে এই কল্পিত রেলযাত্রার আগে পার্থেনিয়াম বিভূতিভূষণের অভিজ্ঞতার বাইরে থাকাটাও অসম্ভব হত।  কেননা এই বিদেশি আগাছার আগ্রাসন এখন এই রাজ্য তথা দেশের প্রায় সর্বত্রই। আর সত্যি বলতে কী ,গত শতকের পঞ্চাশের  দশকের মাঝামাঝি আমেরিকার গমের সঙ্গে এদেশে পা রাখা ‘কংগ্রেস ঘাস’ পার্থেনিয়াম এখন যেভাবে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে তাতে কীভাবে এর সাম্রাজ্যবিস্তার  আটকানো যায়, আমাদের মত হয়ত সে-চিন্তার শরিক হতেন তিনিও । এক থেকে দেড় মিটার লম্বা এই গাছের সাদা সাদা খুদে ফুলগুলোকে দেখলে কিন্তু প্রথম দৃষ্টিতে খারাপ কিছু মনেই হবে না। এবং হয়ত ধনে গাছের ফুলের কথা মনে পড়ে যাবে। আর মাথাতেও কি আসবে, ফুলগুলো ধারণ করে আছে যে গাছ সেটি বিশ্বের ভয়ানক সাতটা আগাছার মধ্যে একটি! এক-একটা গাছ বাঁচে তিন থেকে চার মাস। এর মধ্যেই ধরাধামে সে-গাছ অনেক ‘কীর্তি’ রেখে যায়।  সামান্য এই সময়ের মধ্যেই তিনবার ফুল ও বীজ দিয়ে দেয় । একটা গাছ থেকে উৎপন্ন বীজের সংখ্যাও প্রচুর। ১০ থেকে ২০ হাজার। আর এই বীজ এত ছোট যে হাওয়াতেই ছড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া তো রয়েছেই গবাদি পশুর গোবর,গাড়ির চাকার কাদামাটি পথচারীদের জুতো-স্যান্ডেলের তলা। এসবে আটকে বীজের এদিক সেদিক ছড়িয়ে যাওয়া খুবই  স্বাভাবিক ব্যাপার। পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকারক দিক একটা নয় অসংখ্য।  এই গাছের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শে এলে চর্মরোগ,হাঁপানি,শ্বাসকষ্ট,অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা ঢুকে যেতে পারে আমাদের  শরীরে। চর্মরোগের শিকার হতে পারে মনুষ্যেতর প্রাণীরাও। সাধরণত এই গাছ খাদ্য হিসাবে গবাদি পশুরা গ্রহণ করে না। কিন্তু এর তো আরেক নাম ‘দুর্ভিক্ষের আগাছা’। ঘাসের অভাবে যদি গবাদি পশুরা এই গাছ খাদ্য হিসাবে নিয়ে ফেলে, বদহজম,পেট ফুলে যাওয়ার মত নানা উপসর্গ দেখা দেয় তাদের। এছাড়া হতে পারে তীব্র জ্বর সহ অন্যান্য রোগও। পার্থেনিয়াম পেটে গেলে তার প্রভাব তাদের দুধেও এসে যায়। আর কৃষিজমিতে পার্থেনিয়াম একবার প্রবেশ করে গেলে ফসলের বিশাল ক্ষতি করে দেয়। পার্থেনিয়াম মাটির ভৌত ও  রাসায়নিক ধর্মেই কামড় দিয়ে বসে। ধান,ছোলা,সরষে, গম,বেগুন,লঙ্কার ক্ষেত্রে বীজের অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় উল্লেখযোগ্য ভাবে। ইতিমধ্যেই আমাদের দেশের কৃষিতে পার্থেনিয়ামের প্রভাব পড়ে গেছে অনেকটা। পার্থেনিয়াম দমন করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষির ক্ষেত্রে বলা যায় বিপর্যয়ই ঘটে যাবে। পার্থেনিয়াম নিয়ে সচেতনতা যেমন জরুরী তেমনই জরুরী পার্থেনিয়াম দমনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এ রাজ্যে বিচ্ছিন্নভাবে কোনও পুরসভা অথবা কোনও  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাঝে সাঝে পার্থেনিয়াম দমনে এগিয়ে আসে না তা নয়। পত্র-পত্রিকায় দেখাও যায় এই আগাছা দমনে তাদের অভিযানের বিবরণ। ছবিও ছাপা হয়,পার্থেনিয়াম কাটা এবং পোড়ানো,মাটিতে পুঁতে ফেলার। কিন্তু এ তো রক্তবীজের ঝাড়। প্রতিনিয়ত এর আগ্রাসনের যে হার,তাতে এইসব অভিযান প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।    আর এভাবে পার্থেনিয়াম পুরোপুরি দমন করা সম্ভবও নয়। একে তো গাছ কাটতে গেলেও গাছের সংস্পর্শে আসার একটা ব্যাপার থাকবেই,যাতে যাঁরা এই কাজটি করবেন তাঁদের শারীরিক ক্ষতির একটা সম্ভাবনা থাকবে; তার উপর এই কর্মসূচিতে ক্ষতিকারক এই আগাছা সমূলে বিনষ্টও হবে না। সুতরাং এর মোকাবিলায় অন্য পথ অবলম্বন করা ছাড়া গতি নেই। বেশ কিছু রাসায়নিক জলে গুলে স্প্রে করলে এই আগাছা দমন করা যায়। কিন্তু  পার্থেনিয়ামের যে বিপুল বিস্তার তাতে এটা যেমন খরচসাপেক্ষ তেমনি এই প্রক্রিয়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীনও নয়। সবচেয়ে ভালো জৈবিক পদ্ধতি। নানা ধরণের পাতাখেকো,ঘাসখেকো পোকার মাধ্যমে পার্থেনিয়াম দমন করা যায় বলে জানা গেছে। কিন্তু এসব এখনও রয়েছে,গবেষণার স্তরে এবং সীমিত প্রয়োগের মধ্যেই। কবে এই জৈবিক পদ্ধতিকে সর্বাত্মক করা যাবে,সে উত্তর অজানা। সব মিলিয়ে পার্থেনিয়াম নির্মূলীকরণ চিত্রটা এখনও অনেকটা ‘করা যায়’, ‘করা উচিত’এর স্তরেই। নেই সেভাবে সরকারি উদ্যোগ বা এই মর্মে গণজাগরণ। এরই মধ্যে পার্থেনিয়াম নিয়ে সাম্প্রতিক খবরাখবরও বেশ হতাশার। জানা গেছে এই গাছের পরিবেশের সঙ্গে  মানিয়ে চলা এবং বংশবিস্তারের ক্ষমতা এতই প্রখর যে এখনকার এই পরিবর্তিত জলবায়ুতেও তার হেরফের হবার সম্ভাবনা কম। ইতিমধ্যেই দেশের ৪.২৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি পার্থেনিয়ামের কবলে। আর বর্তমানকালের উষ্ণ জলবায়ুতেও দেশের ৬৫ শতাংশ জমিই নাকি পার্থেনিয়ামের জন্য অনুকূল। তবে এসব তথ্যও এখন বাস্তবের অনেকটা দূরে। কেননা, ‘করছি’, ‘করা উচিত’ করেও এই আগাছার নির্মূলীকরণ যেটুক হচ্ছিল সেটুকুও আজ অনুপস্থিত। তার উপর, মানুষ ও যানের…

0 Comments

গল্পঃ অণুগল্প (নাথিং,সামথিং)

গল্পঃঅণুগল্প (নাথিং,সামথিং)নাথিং ছাব্বিশ জনের মধ্যে এসেছে একুশ জন। বাকি পাঁচ জন দেশের বাইরে। যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি কলেজ। ছাব্বিশে একুশ,বেশ ভালো উপস্থিতি। মঞ্চ একেবারে ভরে গিয়েছে।একেবারে প্রথমে ডক্টর বিনয় সাক্সেনা,তারপর প্রফেসর কুশল বোস,তৃতীয় স্থানে বিজ্ঞানী আশিস তলাপাত্র...। এইভাবে দলের নামী দামিদের একেবারে শেষে দাঁড়িয়ে রয়েছে একজন অ-নামী,অ-দামি ব্যক্তি,নিত্যানন্দ। নিত্যানন্দ দাস। একটা বেসরকারি সংস্থার করণিক। বাদবাকি কুড়ি জনের পাশে যে, নিত্যানন্দের ভাষায়, 'নাথিং'।দলের মধ্যে নিজেকে কেমন বেমানান লাগে নিত্যানন্দের। এরকম ব্যাচ অনুযায়ী পরিচিতির পাঠ থাকবে জানলে এই পুনর্মিলন উৎসবে ও কিছুতেই আসত না।বিনয় নিজের কথা শুরু করেছে। ও বাবা,সামনের পর্দাতে  ফুটে উঠছে ওর কর্মক্ষেত্র,দৈনন্দিনের টুকরো। এসব বিনয় নিশ্চয়ই নিজের পেনড্রাইভে ভরে,সাপ্লাই…

0 Comments

গল্পঃঅণুগল্প (হার,জিত)

অণুগল্পহার -স্যার,সব কটা প্রশ্নেরই ভুল উত্তর দিতে হবে কিন্তু।না হলেই--ঠিক আছে।-বেশ বলুন,পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কী?-দিল্লি।-ধান থেকে কী পাওয়া যায়?-আটা।-সূর্য কোনদিকে ওঠে?-পশ্চিমে।-কটা প্রশ্ন হয়েছে স্যার?-তিনটে।সারা ক্লাস জুড়ে হইহই। কেননা শেষ প্রশ্নের উত্তরটা সঠিক দিয়ে ফেলেছেন।ওটা যে প্রশ্নেরই মধ্যে তা সদানন্দবাবু খেয়াল করেননি।অতএব হার।থার্ড পিরিয়ডে সেভেন সি তে কর্মশিক্ষার ক্লাসে মুখোশ দেখাচ্ছে ছেলেরা। হঠাৎ একজনের প্রশ্ন-স্যার,বলুন তো কোন জিনিস রাম পারে,রাবণ পারে না?ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সদানন্দবাবু বলেন-কেন জেতা।রাম জিততে পারে,রাবণ পারে না।-হল না স্যার। ওসব উত্তর নয়।  উত্তরটা হল,রাম গেঞ্জি পরতে পারে,রাবণ পারে না।হো হো হাসির রোল।মানে আবার হার।পঞ্চম পিরিয়ডে এইট এ তে  থার্ড বেঞ্চ থেকে সাত্যকি শুধোয়-স্যার,কোন জিনিস দেশেবিদেশে ঘুরে বেড়ায়,কিন্তু সে নিজের…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (ন্যাড়া নজর,nyara nojor)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(ন্যাড়া নজর) ন্যাড়া নজরদেখার যে নানান রকমফের আছে,এটা কোনও নতুন  কথা নয়। গানের লাইনেই তো আছে-'তুমি দ্যাখো নারীপুরুষ/আমি দেখি শুধুই মানুষ।' তবে ন্যাড়া নজরের ব্যাপারটাই আলাদা। এখানে দেখার স্বচ্ছতা আর বক্রতা  মিলেমিশে একাকার। সেজন্য এখানে যেমন কষ থাকে,তেমনি থাকে রসও।ন্যাড়া নজরের লোকদের কথাবার্তা স্বাভাবিকভাবেই বেশ মজাদার। যেমন প্যাঁচানো,তেমনি উইটের ছড়াছড়ি। অনেকটা মিছরির ছুরির মত অন্তরে সেঁধিয়ে যায়।আমাদের সাহিত্য মানে বাংলা সাহিত্য তো ন্যাড়া নজরের কারখানা। দীনবন্ধু,বঙ্কিম,কালীপ্রসন্ন,প্যারীচাঁদ তো বটেই অন্যান্য অনেকেই যখনই সুযোগ পেয়েছেন,নজরের সামনে থেকে কাব্যি কল্পনা সরিয়ে একেবারে ন্যাড়া চোখে চারপাশে তাকিয়ে প্রচুর রস ও কষের উৎপাদন ঘটিয়ে কখনও আমাদের মনের,কখনও আমাদের সমাজের আবার কখনওবা যুগপৎ দুইয়েরই সন্তোষ…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল (বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম/কালকে আমার ওজন কম)

 কথাঃ আবোলতাবোল   বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম কালকে আমার ওজন কম কলিংবেল বাজলেই বুক ধড়াস করে ওঠে আজকাল। আবার কে? অতিথি হলেই বিপদ। ঘরে ঢুকতে দিতে হবে। একমাত্র দুধওয়ালা ছাড়া আর কারও আসার কথা নয়। সে এসে চলে গেছে বহুক্ষণ। কে এল তবে?  সকালের মত অপরিচিত কেউ? মুখে মাস্কটা পরে নিই চটজলদি। হাতে গ্লাভস। দরজা খুলি সন্তর্পনে। ও বাবা,পাশের ফ্ল্যাটের সঞ্জু! দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা লজেন্সের প্যাকেট। ভাইয়ের জন্মদিন। দিতে এসেছে। সকালের অপরিচিত মানুষটি ভুল করে বেল টিপেছিলেন। তাঁকে দূর থেকেই হটানো গিয়েছে। কিন্তু সঞ্জুকে! সঞ্জুর মুখেও মাস্ক। কিন্তু প্যাকেটটা নিতে গেলে তো হাত বাড়াতে হবে। আমার বাড়ানো হাত আর সঞ্জুর বাড়ানো হাত মিলে কি এক মিটার দূরত্ব হবে আমাদের মধ্যে? মনে মনে চটপট ছেলের বারো ইঞ্চির লম্বা স্কেলটাকে আমার হাতের গোড়া থেকে সঞ্জুর হাতের গোড়া অব্দি দূরত্বের উপর বসিয়ে যাই। ক’  স্কেল হবে? তি্ন না সাড়ে তি্ন? এক মিটার হতে তো প্রায় চল্লিশ ইঞ্চি লাগবে। আর একটু দূরে সরে যাব কি? দূরে সরলে তো প্যাকেটটাই নিতে পারব না। হঠাৎ খেয়াল হয়,লজেন্সের প্যাকেটটার দৈর্ঘ্য হিসাবে আনিনি। দুজনেই তো ছুঁয়ে আছি দু প্রান্ত। বেশ লম্বা প্যাকেট। সুতরাং… সঞ্জুও কি ভাবছে একই কথা! হয়ত। কারণ  ও-ও নিজের জায়গা ছেড়ে এক ইঞ্চি নড়ছে না। অথচ ভাইকে এমন দিনে লজেন্সের প্যাকেটটা না দিলেও ওর নয়। মনে হল বেশ বিড়ম্বনাতে পড়ে আছে সঞ্জুও।  সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন,মুখে বলা যতটা সহজ কাজে কি ততটাই!     কিন্তু লজেন্সের প্যাকেটটা রাখব কোথায়? কোন বস্তুতে কতক্ষণ ভাইরাস টিকে থাকে,এ তএ তথ্য আমাদের এখন সবার জানা। অতএব কাছেপিঠে তো রাখা মুশকিল। একটা সহজ সমাধান আছে,জানলা দিয়ে ছুঁড়ে  ফেলা । কিন্তু ভালবাসার দান। ওরকম করাটা শুধু অন্যায় নয়, অসভ্যতাও। চারিদিক দেখে নিয়ে দেখি একটাই  জায়গা রয়েছে। খাটের তলায় দেওয়ালের ধার ঘেঁষে রাখা।  তাহলে খাটের যেসব দিকে  দাঁড়ানো যায়,সেখান থেকে একমিটারের বেশিই হয়ে যাবে প্যাকেটটার দূরত্ব। লজেন্সের প্যাকেটকে আর যাই হোক বিশুদ্ধিকরণের জন্য সার্ফ সাবানের জলে বা স্যানিটাইজারে তো চোবানো যায় না! ছেলের এ নিয়ে বাতিকও বিস্তর।   লজেন্সের প্যাকেট সমস্যার সমাধান করে…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (আমার বাংলাদেশ)

কথাঃ আবোলতাবোল আমার বাংলাদেশ মৈমনসিংহ,কিশোরগঞ্জ,নেত্রকোনা,পূর্বধলা ,কালদুয়ার - নামগুলো ছোটবেলাতে আমাদের চারপাশে ঘুরত,পাক খেত। কখনও বাবা সান্ধ্য মজলিসে বসে হারিয়ে যেতেন ফেলে আসা ওইসব জায়গায় , আবার কখনও ঘুম না আসা ছুটির দুপুরে মার গলায় জলতরঙ্গ হয়ে বাজত  ওইসব জায়গার স্মৃতি।বাবা এদেশের আঞ্চলিক বা মান্য কোনও উপভাষাই  শেখার কথা ভাবেননি। মা শিখেছিলেন, তবু এদেশে আসার পর জীবনের পরবর্তী ষাটটি বছর পূর্ববঙ্গের আঞ্চলিক উপভাষাতেই  কথা বলে গিয়েছেন। আমাদের বাড়ি জুড়ে থাকত বাংলাদেশের সোঁদা গন্ধ,মিঠে সুর,সেখানকার আচার,ব্রত,ঘরকন্নার টুকিটাকি এবং অবশ্যই কিছুটা ঘটি-বিদ্বেষ। এত বাংলাদেশ নিয়ে বড় হলেও পিতৃপুরুষের বাংলাদেশের একটা ছবি আঁকা আমার পক্ষে কঠিন ছিল। কারণ মুখের স্মৃতিকথায় ভূগোল থাকে অস্পষ্ট। আর  সময় এত…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল (সাতেপাঁচে)

কথাঃআবোলতাবোল (সাতেপাঁচে) কথাঃ আবোলতাবোল সাতেপাঁচে আজ সকালে একটা সাতেপাঁচে থাকা লোক দেখলাম।  মুখে এন পঁচানব্বই সেঁটে চিনি কিনতে গিয়েছিলাম। দূরে নয়,পাড়ারই মুদির দোকানে।  গিয়ে মুদির দোকানের কাঠের টেবিলটায় সবে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছি। অমনি কোত্থেকে ছুটে এল ওই  সাতেপাঁচে।-'শুধু নিজের সেফটি হলেই হবে! যে ছেলেটা মাল দিচ্ছে,তার কথা ভাববেন না?'-'মানে?''মানে এত টেবিলের কাছে ঘেঁষে দাঁড়িয়েছেন কেন? সরে আসুন ফুট খানেক!''সরি সরি' বলে পিছু হটি। আমি সাতেপাঁচে না থাকা লোক। সাতসকালে এমন একটা সাতেপাঁচেকে পেয়ে মন ভালো হয়ে যায়।চিনি নিয়ে চলে আসছি,হঠাৎ সাতেপাঁচের গলা শুনি পিছন থেকে। দোকানের কর্মচারির উদ্দেশে।-'দে সঞ্জু,একটা সিগারেট দে। আজকাল তো আসলেই বিড়ি ধরিয়ে দিস। সাত সকালে তোদের হয়ে…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল ( আজও যাঁরা পাশে)

কথাঃআবোলতাবোল (আজও যাঁরা পাশে) আজও যাঁরা পাশে ওঁরা কেউ সুনীতি চাটুজ্যে বা রাধাকৃষ্ণণ নন। ওরা সাধারণ। তবু ওঁদের শিক্ষাকে পাথেয় করেই তো চলেছি আমরা লক্ষ কোটি জন। পড়া নিয়ে বা পড়ার বাইরে কত কথাই না রয়েছে তাঁদের! কিছু কিছু তো সারা জীবনের সঙ্গী। কারণে, অকারণেও।কার্তিক স্যারের কথাই ধরা যাক। পড়ানোয় তেমন নাম ছিল না স্যারের। একটু ভাবুক প্রকৃতির মানুষ। ক্লাসে এসে পড়ানোর চেয়ে জানলা দিয়ে চেয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন। 'কোলিয়ারীর বুকে' বলে একটা বইও লিখেছিলেন। বাংলার স্যার। মাঝে মাঝে নিচু ক্লাসে ইংরেজি নিতেও আসতেন। আমরা তখন এইট। একদিন ইংরেজির ক্লাসে স্যার 'অক্সিলিয়ারি ভার্ব' পড়াতে এসে বললেন,'একটা খোঁড়া লোক হাঁটতে…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (বানর কাহিনি)

কথাঃ আবোলতাবোল বানর কাহিনি  বানরের রূপ ধরে থাকা রাজপুত্র আর তার দুখিনী মায়ের  সেই রূপকথার গল্পটা শোনাচ্ছিলাম ছেলেকে। এ গল্প  আমার কাছে ওর বহুবার শোনা । তবু এ গল্প আমি বলতেও ভালবাসি,আর ও শুনতেও ভালবাসে। পঞ্চতন্ত্রের সেই বানরের  গল্পটা আবার ওর খুব অপছন্দের। যেখানে বানরটার নির্বুদ্ধিতায় প্রাণ দিতে হয়েছিল রাজাকে। বানর নিয়ে ওর শিশুমনে কৌতূহলও অপার।-'বাবা কত বছর আগে আমরা বানর ছিলাম?' এমন প্রশ্ন আমাকে অহরহই করে।আজও করল।  'আমার মা সব জানে' লিখেছেন অদ্রীশ বর্ধন। শিশুরা হয়ত এমনই ভাবে। এবং শুধু মা নয়। বাবা্র সম্পর্কেও। মানে,'আমার বাবা সব জানে'। কিন্তু সত্যি কি তাই! তবে এ প্রশ্নটার উত্তর আমার জানা। আগেও বলেছি ওকে।…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (স্কুল পরিদর্শন)

 স্কুল পরিদর্শন বিদ্যাসাগর গিয়েছেন এক গ্রামের স্কুলে। স্কুল-পরিদর্শনে। উঁচু ক্লাসের ছাত্রদের ভূগোলের বিদ্যা পরীক্ষা করতে তিনি একজন ছাত্রকে শুধোলেন-‘ বল তো,পৃথিবীর কত রকম গতি আছে? আর কোন গতির জন্য কত সময় লাগে? ছেলেটি জবাব দিল-‘পৃথিবীর তো কোনও গতি নেই।পৃথিবী স্থির হয়ে আছে।আর পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে সূর্য।’ এক এক করে সব ছেলেকে জিজ্ঞেস করে একই উত্তর পেলেন বিদ্যাসাগর। বিদ্যাসাগর ভাবলেন নিশ্চয় ,স্কুলের পন্ডিতমশাই এরকমই শিখিয়েছেন ছাত্রদের। তবু ব্যাপারটা যাচাই করার জন্য পন্ডিতমশাইকে ধরলেন।-‘ছেলেরা কী বলছে এসব? পৃথিবী নাকি স্থির,আর সূর্য ঘুরছে   পৃথিবীর চারদিকে!’  পন্ডিতমশাই বললেন-‘কেন কথাটা কি ভুল?’ -‘ভুল তো বটেই। পৃথিবী যে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে,আপনি জানেন না?’ যেন কোনও আশ্চর্য কথা শুনছেন,এমনিভাবে পন্ডিতমশাই তাকালেন বিদ্যাসাগরের দিকে।–‘সত্যি সত্যি পৃথিবী ঘোরে নাকি? আমি ভাবতাম পৃথিবী এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে।’ বিদ্যাসাগরের মতো ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও অনেকদিন স্কুল ইনেস্পেক্টারের দায়িত্ব সামলাতে হয়। স্কুল ইনেস্পেকশানের সময় তাঁর একটা মজার অভিজ্ঞতা হয়েছিল একবার। তবে এখানে শিক্ষককেন্দ্রিক ঘটনা  নয়। ঘটনাটি বই কেন্দ্রিক। এক স্কুলে গিয়েছেন ভূদেব। একটা ক্লাশে গিয়ে দেখলেন,পড়ানো হচ্ছে জ্যামিতি। বইটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখলেন ভূদেব। বইয়ের লেখকটি তাঁর চেনা। তাঁরই অধীনে তিনি একজন সাব ইনেসপেক্টার। ভূদেব বইটা দেখতে দেখতে এক জায়গায় একটা মারাত্মক ভুল পেলেন। ভুলটা  পেন দিয়ে কেটে সংশোধন করে দিলেন ভূদেব। ক্লাশের শিক্ষককে বললেন-‘সব ছাত্রকে ভুলটা সংশোধন করে নিতে  বলবেন।’ কিছুদিন পরে ওই জ্যামিতি বইয়ের লেখক সাব ইনেস্পেক্টার এলেন ওই স্কুল পরিদর্শন করতে। এসে…

0 Comments

গল্পঃ অণুগল্প (কালীপুজোর রাতে)

কালীপুজোর রাতে               কালীপুজোর রাতে ভূত দেখল বিনিপিসি। পিসিকে দেখে মনে হল,সাংঘাতিক ভয় পেয়েছে। শরীর কাঁপছে। চোখমুখও ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। কীভাবে এমন হল বলতে পারছে না কেউই। আমাদের বাড়িতেও পুজো। প্রায় সকলেরই উপোস। তবে কী কারণে জানিনা বিনিপিসি এবার উপোস করেনি। সন্ধেবেলায় পিসি বলল-‘তপু লাইটগুলোর এখনও তো কিছু করলি না!’   আমি বললাম-‘সে আর কতক্ষণ লাগবে। এই যাচ্ছি ছাদে।’ পিসি বলল-‘চল আমিও যাব।’ সেইমত এসে ছাদ থেকে এলইডি চেনগুলো ঝোলাচ্ছিলাম আমরা দুজন। হঠাৎ একটা চেন পিসির হাত ফস্কে  নীচে পড়ে গেল। পিসি বলল-‘দাঁড়া আমি নিয়ে আসছি।’ পিসি গেল। আর এল না। কিছুক্ষণ পরে নীচ থেকে চীৎকার। গিয়ে দেখি পিসিকে নিয়ে ব্যস্ত সব্বাই। কেউ হাওয়া করছে,কেউ মাথায় জল ঢালছে। শুনলাম,ঘরের পিছনে পিসি ভূত দেখেছে। বাবা বলল-‘ও ঘরের পিছনটায় গিয়েছিল কেন?’ উত্তরটা কেউ জানে না,আমি ছাড়া। -‘একটা এলইডি চেন পড়ে গিয়েছিল,পিসি ওটা আনতে গিয়েছিল পিছনে।’ বললাম আমি। ঘরের পিছনটা এমনিতেই আমাদের বেশ অন্ধকার থাকে। তার উপর আজ অমাবস্যা। বাবা বলল-‘চল তো সবাই আলো নিয়ে পিছনটায়। দেখি কী দেখে ভয় পেল বিনি। বিনিকেও তোল।ও-ও চলুক আমাদের সঙ্গে। নিজের চোখেই দেখে আসুক।’ বোঝাই যাচ্ছে যে বাবা নিশ্চিত পিসি অন্ধকারে ভূত দেখেনি। অন্য কোনও কিছুকে ভূত ভেবেছে। আলো নিয়ে সবাই বাড়ির পিছনে গেলাম। গিয়ে কিন্তু আমরা সত্যি সত্যি ভূত দেখলাম। তবে প্রেতাত্মা নয়,অন্য ভূত।  পড়শি রানীদির মেয়েটা বাড়ির পিছনটায় রান্নাবাটি খেলে আমরা জানতাম। কিন্তু সে-যে এ রাতে ওখানে  এমনকান্ড করেছে তা কে জানত! গিয়ে দেখি ওর খেলাঘরের চারদিকে জ্বলছে প্রদীপ। আর ও বাড়ির  ভিতরের এমন কান্ডে নিজেকে দায়ী ভেবে একপাশে কাঁপছে থরথর করে। কিন্তু এই প্রদীপ দেখে পিসি ভয় পেল কেন? এ তো ভয় পাবার জিনিস নয়! পিসি ততক্ষণে ধাতস্থ। বলল-‘আমি এই প্রদীপগুলো দেখে অতীতে ফিরে গিয়েছিলাম। ঠিক এভাবেই আমাদের বাড়িটাকে কালীপুজোর রাতে সাজাত মানুষটা। তোমরা বিশ্বাস কর,আমি যখন এইসব ভাবছি্‌, ঠিক সেমুহূর্তে নিজের কানে শুনেছি তপুর মৃত পিসেমশাইয়ের গলা।ও বলছে-‘বাড়িতে প্রদীপ দেবে না বিনি?’-দাদা,তুমি ব্যবস্থা করো,আমি ফিরতে চাই আমার স্বামীর ভিটেতে।’    অ্যাক্সিডেন্টে পিসেমশাই মারা যাবার পর থেকেই পিসি এখানে। আমি জন্ম থেকেই পিসিকে এ বাড়িতে দেখছি। বাবা পিসিকে অনেক বুঝিয়েছে, ওখানে পিসেমশাইয়ের বিশাল সম্পত্তি,একমাত্র ছেলেটার কথা ভেবেও পিসির ওখানে যাওয়া উচিত। পিসি রাজি হয়নি। তবে দাদার উপর নির্ভরশীল নয় পিসি। টিউশন,সেলাইয়ের কাজ করে নিজের আর ছেলের খরচ পিসিই চালায়। পিসির ছেলে,রাজুদা এবার মাধ্যমিক দেবে এখান থেকেই। পিসি বাড়ি ফিরতে চায়,এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আমাদের বাড়িতে আর কী হতে পারে! তার মানে ভূত দেখা মানে শুধু খারাপ কিছু তা নয়। ভূত দেখলে মানুষের অনেক ভুলও ভাঙে! এমন ভূত নামিয়ে আনার পিছনে রানীদির সেই ছোট্ট মেয়েটা। কালীপুজোর রাতে প্রসাদ খাবার সময় এবার একটু বেশিই নজর দেওয়া হয় ওর দিকে।

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (অভিনব পাওনাদার…)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক অভিনব পাওনাদার সেদিন কলেজস্ট্রিটে এক অভিনব পাওনাদারকে দেখা গেল। সাধারণত পাওনাদারের ভয়ে ঋণী ব্যক্তিকে  গা ঢাকা দিতে দেখা যায়। কলেজস্ট্রিটে সেদিন উল্টো দৃশ্য। ঋণী ব্যক্তিকে দেখে পাওনাদারই ছাতা দিয়ে নিজের মুখ আড়াল করার চেষ্টা করছেন। পাওনা টাকার পরিমাণও কম নয়। গত শতকের তিনের দশকের শেষ দিক সেটা। পাওনা টাকা পাঁচশোর মূল্য তাই অনেকটাই। পাওনাদার ব্যক্তিটি আর কেউ নন। বিভূতিভূষণ। ঋণী ব্যক্তিটিও উচ্চশিক্ষিত,আদর্শবাদী,বিলাতফেরত। নাম অশোক গুপ্ত। বিকলাঙ্গ,অপরিণতবুদ্ধি শিশুদের নিয়ে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল অশোক  গুপ্ত ও তাঁর স্ত্রীর। এজন্য দরকার গ্রাম্য নির্জন একটা পরিবেশ। পছন্দ হয়েছিল ঘাটশিলার এক জনহীন স্থান। তৈরি করেছিলেন ছোট্ট একটা বাড়ি। অশোক গুপ্তের সঙ্গে বিভূতিভূষণের পরিচয় ওই সময়েই। বিভূতিভূষণ তাঁদের সাধনার কথা শুনে শুধু তাঁদের উৎসাহই দেননি। আর্থিক দুরবস্থা তখন লেখার দৌলতে অনেকটাই তাঁর ঘুচেছে। অশোক গুপ্তকে তাঁদের আর্থিক অসুবিধার জন্য পাঁচশো টাকা ধারও দিয়েছিলেন। এই ধার গুপ্তসাহেবের মনে না থাকার কথা নয়। কিন্তু তিনি নানাভাবে জড়িয়ে পড়লেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানও  একসময় নিঃশেষ হয়ে গেল। স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়ল তাঁর।   ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিভূতিভূষণ গুপ্তসাহেবের খোঁজ নিতে পারলেন না। পাছে গুপ্তসাহেব ভাবেন,টাকার  জন্যই এই খোঁজ। এরপরের ঘটনা ওই কলেজ স্ট্রিটের। কিন্তু ছাতা দিয়ে মুখ আড়াল করার আগেই সেদিন অশোক গুপ্ত  দেখে ফেলেছিলেন বিভূতিভূষণকে। -‘বিভূতি না!’ বলেই এগিয়ে এসে বিভূতিভূষণের হাতটা ধরে ফেললেন তিনি। বললেন-‘আমার একটা উপকার করতে হবে। না বললে হবে না। বল করবে!’ মানুষটির উপর বিভূতিভূষণের প্রগাঢ় শ্রদ্ধা। বললেন-‘নিশ্চয় করব। বলুন দাদা।’   -‘আমাকে ঋণমুক্ত করতে হবে। তোমার পাওনা টাকার বিনিময়ে ঘাটশিলার ওই বাড়ি নিয়ে।’ বিভূতিভূষণ প্রচন্ড আপত্তি জানালেন।-‘তা কেমন করে হবে? একখানা বাড়ির দাম পাঁচশো টাকার অনেক  বেশি!’ অশোক গুপ্ত নাছোড়। বিভূতিভূষণ বললেন,-‘বেশ। কিন্তু পাঁচশোতে নয়। আর কত টাকা আপনাকে দিতে হবে বলুন।’ গুপ্তসাহেব বললেন, -‘না, আর কিছুই তোমাকে দিতে হবে না।’ এরপরে গুপ্তসাহেব রেজিস্ট্রি করে বাড়িটা দিয়ে দিলেন বিভূতিভূষণকে। বিভূতিভূষণ বাড়ির নাম রাখলেন-‘গৌরীকুঞ্জ’। প্রয়াত স্ত্রীর নামে। বিভূতিভূষণের অনেক অসামান্য সৃষ্টির সঙ্গে এই ‘গৌরীকুঞ্জ’ জড়িয়ে আছে। ছুটি পেলেই বিভূতিভূষণ ছুটে যেতেন ওখানে। সপরিবারে ওখানে থাকতেন ভাই নুটুবিহারীও। এখানেই ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রয়াত হয়েছিলেন বিভূতিভূষণ।   তর্কযুদ্ধ তর্ক বেঁধেছে তিন সাহিত্যিক বন্ধুর মধ্যে। একদিকে দুজন।  অন্যদিকে একজন। একজনকে কিন্তু দুজন কিছুতেই পেরে উঠছেন না। তর্কে পেরে না ওঠার সেই একজন ঘোরতর রবীন্দ্রবিরোধী। অন্য দুজন আবার উল্টো। প্রবল রবীন্দ্রভক্ত। রবীন্দ্রভক্ত দুজনের চেষ্টা রবীন্দ্র-বিরোধী বন্ধুটির মন থেকে তাঁদের প্রিয় মানুষটি সম্পর্কে সব বিদ্বেষ দূর করা। ফলে শুরু হয়েছিল আলোচনা। রবীন্দ্রবিরোধী বন্ধুটির আরাধ্য দেবতা বঙ্কিম,রবীন্দ্রনাথের নামটাও তিনি শুনতে পারেন না,বাড়িতেও রবীন্দ্রনাথের প্রবেশ নিষেধ।  তাঁর এক আত্মীয় রবীন্দ্রনাথকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে বই লিখেছেন,‘রবিয়ানা’। সেই বইয়ের  কথা,তাঁরও কথা। ফলে তাঁর সঙ্গে দুই বন্ধুর আলোচনা রূপ নিয়েছে তর্কে।  তর্কটা চলছে…

0 Comments

কথা আবোলতাবোল( লিপইয়ারের গল্প,গল্প গ্রহণেরও)

কথাঃআবোলতাবোল লিপইয়ারের গল্প,গল্প গ্রহণেরও ১৯৭৭ সালে মোরারজি দেশাই যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন  তখন আমার ক্লাস এইট। রাজনৈতিক কাজকর্ম  বোঝার তখন  বয়স নয়। খবরের কাগজ পড়াতেও অভ্যস্থ ছিলাম না। নানাজনের মুখবাহিত হয়ে চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে দুটো খবর তখন মনে বেশ দাগ কেটেছিল। একটা ঘুম থেকে উঠে স্ব-মূত্র পান। আর একটা তাঁর জন্মদিন। কুইজে জেনেছিলাম সুপারম্যান চরিত্রটির জন্মদিন উনত্রিশে ফেব্রুয়ারি,এবার শুনলাম মোরারজি দেশাইয়েরও নাকি তাই। পরে মোরারাজি দেশাই এর জন্মদিন নিয়ে আরও মজার তথ্য জানা গেল। এমনিতে উনত্রিশে ফেব্রুয়ারি জন্মদিন হবার কারণে জীবনে জন্মদিন পালন দীর্ঘজীবনের সুবাদেও সীমিত,তার উপর জন্মসালটি ১৮৯৬ হওয়াতে প্রথম জন্মদিনটিই তিনি পান চার নয়,আটবছর বাদে। কারণটা জানতে গেলে লিপইয়ারের গল্পটা একবার ফিরে দেখা যেতে পারে। এই লিপইয়ারে দাঁড়িয়ে সে গল্প…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল ( ধন)

একটা রংচটা টিনের বাক্স। বাক্সের সঙ্গে ডালার সংযোগ কবে ছিন্ন হয়েছে কেউ জানে না। তবে ডালাটা  আছে। বাক্সের উপর বসানো অবস্থাতেই। বাক্সের ডালাটা একটু তুললেই...

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল ( কলেজের দিন)

কথাঃআবোলতাবোল কলেজের দিন গোল আকারের বিস্কুট।অথচ নাম,লম্বু। কে না অবাক হবে! কল্পনা্র ঘোড়া ছুটিয়ে রীতিমত গবেষণায়  নামে সুব্রত। জয়দীপ তাল দেয়। আমি চুপ। স্কোয়ারফিল্ডের পাশে চিলতে চায়ের দোকান। শহুরে সহপাঠী জয়দীপ,সঙ্গে আমরা দুই পাড়গেঁয়ে ভূত। শীতের দুপুরে টিফিনে এসেছি তিনজনে। চা খাব,খাব লম্বু। খাওয়াবে জয়দীপই। জয়দীপ ছাড়া চা-লম্বুতে  টিফিন তখন সুব্রতর কিছুটা সীমার মধ্যে থাকলেও আমার পকেটের ভূগোলে ভাবাই যায় না। ডানহাতে লম্বু,বাঁ হাতে চায়ের কাপ এমনিতেই সঙ্কোচে থরথর। তার উপর ওরকম উটকো গবেষণায় ঢোকা- আমার কাছে বাড়াবাড়ি লাগে।    মুর্শিদাবাদের আঁচল ছোঁয়া নদীয়ার গ্রাম। সেখান থেকে সাতসকালে যখন কলেজের উদ্দেশে বের হই, চলনে বলনে লেগে থাকে বেশ একটা গর্বের ভাব। জয়েন্ট দিয়ে টেক্সটাইল কলেজে ঢুকেছি; জনরব,পাশ করার আগে প্রবেশও করে যাব চাকরিতে। গর্ব হবে না! গ্রামের সীমানা ছাড়ালেই গর্ব কিন্তু গা থেকে খুলে যায়। আর যত কলেজের কাছাকাছি আসি মিইয়ে যাই একেবারে। ভিতরে কে যেন বলে ওঠে-‘হিথায় তুকে  মানাইছে নাই গ’,ইক্কেবারেই মানাইছে নাই গ’।’ সত্যি বলতে কী,আমার বিবর্ণ পোশাক,ছেঁড়া জুতো দেখে এর সঙ্গে আমার কলেজের নাম ট্রেনের চেকারও  মেলাতে পারেন না। বিনা টিকিটের কৈফিয়ৎস্বরূপ, ছাত্র পরিচয় দাখিল করলে, এক আধদিন ওঁদের কেউ  জিজ্ঞেসও করে বসেন,  ‘ইঞ্জিনীয়ারিং’ শব্দের স্পেলিং। কলেজেও কোণঠাসা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কেতাদুরস্ত সহপাঠীরা মশকরা ছোঁড়ে,বন্ধুত্ব নয়। উঁচু ক্লাশের দাদারা আরও এককাঠি উপরে। এই  ফার্স্টইয়ারের ছাত্রের জন্য তারা ঘোষণা দিয়েছে-‘এ ব্যাটা র‍্যাগিংয়েরও অযোগ্য।’ তবু এরই মধ্যে   ব্যাচের সেরা ছাত্রটি আমার মধ্যে কী দেখেছে কেজানে,জুটেছে আমার সঙ্গেই। আর ওই জয়দীপের টানেই আমাদের দু-কামরার নির্জন ভুবনে যুক্ত হয়েছে সুব্রতর মত আরও এক আধটা খুপরি।   চা লম্বু খেতে খেতেই জয়দীপ হঠাৎ বলে বসে-‘১৯৪৭ সালের পনেরোই আগস্ট এই ব্যারাক স্কোয়ারের মাঠে কোন দেশের পতাকা উঠেছিল,জানিস?’ আর্থিক ভূগোলে তিনজনের মধ্যে যে সবচেয়ে দুর্বল,তার আবার ইতিহাস সঞ্চয়ে আগ্রহ প্রবল। মিইয়ে থাকা  অবয়ব ইতিহাসের গন্ধ পেয়ে নড়েচড়ে বসে। বলি, ‘কোন দেশের?’ জয়দীপ বলে-‘পাকিস্তানের।কারণ  সীমানা ভাগাভাগির নিয়মে মুর্শিদাবাদে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষ বেশি হওয়ায়,মুর্শিদাবাদ প্রথমে গিয়েছিল পাকিস্তানে, আর খুলনা এদেশে। পরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ব্যবস্থাটা উল্টো করা হয়। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে  এখানে ওঠানো হয় ভারতের পতাকা।’ এই চায়ের দোকানে বসেই জয়দীপ ওঁর বাবার কাছে শোনা ব্যারাক স্কোয়ার মাঠের আর এক গল্প বলে একদিন। গল্পটা বঙ্কিমচন্দ্রকে নিয়ে। -‘বঙ্কিম তখন বহরমপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। একদিন পাল্কিতে করে কোর্ট থেকে ফিরছিলেন এই ব্যারাকের মাঠের পাশ দিয়ে। এই মাঠে ক্রিকেট খেলছিল গোরা সৈন্যরা। বঙ্কিমের পাল্কির একদিকে বন্ধ  ছিল।সেনাদলের অধ্যক্ষ কর্ণেল ডফিন মাঠ থেকে এসে সেই বন্ধ দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলেন। বঙ্কিম  পাল্কি থেকে লাফিয়ে নেমে ডফিনকে দেখে চেঁচিয়ে উঠলেন-‘কে রে তুই বর্বর?’ ডফিন কোনও কথা না বলে বঙ্কিমের হাত ধরে দূরে সরিয়ে দিলেন। পরদিন বঙ্কিম কোর্টে গিয়ে ডফিনের নামে মানহানির মামলা  করলেন। বঙ্কিম মামলা করলে…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল (ছাই)

কথাঃআবোলতাবোল  ছাই ‘আমি হচ্ছি,ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো।’ কে যেন কথাটা বলল সেদিন। তখন থেকেই দেখছি কথাটা কেমন কুনকুন করছে ভিতরে। বক্তার জন্য নয়(কেননা সে অর্থে আমরা অনেকেই তো সমাজে সংসারে তাই)। কুলোর জন্যও নয়। কুনকুনানিটা ছাই-এর জন্য। শহরে তো ছেড়েই দিলাম। গ্রামের অন্দরেও এখন ঢুকে গেছে এলপিজি। ফলে ওখানে কুলো এখনও যতটা আছে,ততটা নেই ছাই। প্রাক এলপিজি যুগে ছাই ছিল আমাদের নীরব সেবায়েত। নীরব,কেননা তাঁর সেবায় আমরা এতটাই অভ্যস্ত ছিলাম,যে তাকে চোখেই পড়ত না। ভাগ্যিস বিমল মিত্র রেলের চাকরিতে দুর্নীতি দমনে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে নিজেকে ছাই-এর মত মূল্যহীন ভাবতে শুরু করেছিলেন। নাহলে  তো ‘ছাই’ নামে বড় কোনও লেখাও আমরা পেতাম না। ছাই নামে বিখ্যাত কলমচিরাই যখন বিশেষ কিছু লেখেননি,তখন অখ্যাতজনেরা আর কীভাবে সাহস দেখান! এমনিতেই তো লেখা একটু খারাপ হলে,লেখা আর তখন তাদের লেখা থাকে না,লোকের চোখে হয়ে যায়, ‘ছাইপাঁশ’!   নাগরিক জীবনে ছাইএর অস্তিত্ব এখন কিছু চায়ের দোকানে আর রুটি তরকারি বিক্রির কিছু মিনি রেস্টুরেন্টে। মাছ কুটতে এখন ছাই লাগে না। কারণ মাছ বাজারে কোটাকুটি হয়েই এখন বাড়িতে ঢোকে। আর বাসন মাজার ক্ষেত্রে তো বিপ্লব ঘটে গেছে। রকমারি তরল সাবান, নানান কিসিমের স্কচ…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল(ছাগল তাড়ানো বৃষ্টি)

কথাঃআবোলতাবোল ছাগল তাড়ানো বৃষ্টি বর্ষাকাল এলে আমার সবার আগে মনে পড়ে আমাদের সেই ছাগলগুলোর কথা। কেন না,ওই ছাগলগুলোর সূত্রে ছেলেবেলায় আমরা একটা আলাদা বৃষ্টি দেখতে পেতাম। বৃষ্টিটা হঠাৎ আসত এবং এসে ঝমঝম করে  মিনিটখানেক হয়েই থেমে যেত। আমরা বলতাম,ছাগল তাড়ানো বৃষ্টি। তখন বাড়ির সামনের জমিটায় ছাগলগুলোকে গোঁজ পুঁতে দিয়ে আসতাম। লম্বা দড়ি নিয়ে বৃত্তাকারে ঘাস খেত ওরা। অঘটন ঘটাত বৃষ্টিটা।। দু’এক ফোঁটা পড়তে না পড়তেই শুরু হয়ে যেত ওদের তুমুল চিৎকার । মা দৌড়ত অথবা আমরা কেউ। গোঁজ তোলার জন্য মুগুরটা থাকত কাছেপিঠেই। ওটা দিয়ে তখন তাড়াতাড়ি গোঁজের একবার এপাশে ঘা একবার ওপাশে ঘা। কিন্তু ছাগলগুলোকে মাটির দাওয়ায় তোলা হতে না…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল (ভালো থাকুক শিশুরা)

কথাঃআবোলতাবোল        ভালো থাকুক শিশুরা       খবরে প্রকাশ, শিগগির খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।  ছাত্রছাত্রীদের বন্দী জীবন বহাল থাকছে জুনের পরেও  অনির্দিষ্টকাল। এ অবস্থায় পরিবার তথা জাতির ভবিষ্যতদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বয়সে যারা একটু বড়,তারা হয়ত কিছুটা মানিয়ে নিতে পারে এই অবস্থার সঙ্গে। কিন্তু এই দীর্ঘ বন্দীজীবন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী-শিশুদের কাছে বেশ কষ্টের।  এমনিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক পরিবার এখনও কর্মসহায়িকার সাহায্য থেকে বঞ্চিত। সেখানে, একে তো করোনায় কী হবে তাই  নিয়ে দুশ্চিন্তা,তার উপর বাবা মা দুজনেই জেরবার ঘরের কাজ  করতে গিয়ে। তাঁদের বিরক্তির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী, নিজেদের মধ্যে ঝগড়া,অশান্তিও কমবেশি লেগেই রয়েছে। এর উপর বাড়ির শিশুর চাঞ্চল্য, দুষ্টুমি। সামলানো সহজ কথা নয়। বাড়িতে শিশুদের সামলাতে  এইসব পরিবারে এখন তাই তিনটিই প্রধান রাস্তা। এক, শাসন  (যার   মধ্যে প্রহার…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল( ‘ও বক বকম বকম পায়রা…’)

  কথাঃআবোলতাবোল ‘ও বক বক্ বকম পায়রা…’ ‘ঝিনেদার জমিদার কালাচাঁদ রায়রা/সে-বছর পুষেছিল একপাল পায়রা।’ ছেলে পড়ছে। পাশে বসে আমি ছেলের পড়া শুনছি আর আমার সামনে ভেসে উঠছে একটা ছবি। শুধু ছবি নয়,সঙ্গে ‘আও,আও,আও’ শব্দও। পঞ্জাবের সবুজ শস্য প্রান্তরের মাঝখানে এক চিলতে খালি জায়গা। সেখানে ভিড় করে আছে অজস্র পায়রা। তাদের ‘আও আও’ শব্দে দানা খাওয়াচ্ছেন চৌধুরী বলদেব সিংহ,আর ঠিক তাঁর পাশেই একই  ভঙ্গিতে পারিবারিক বন্ধুর ছদ্মবেশে সিমরণের প্রেমিক রাজ। ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছবি দেখেছি আজকে নয়। কিন্তু  এক ঝাঁক পায়রার কথা  শুনলে ওমরেশপুরি আর শাহরুখের এই দানা খাওয়ানোর দৃশ্যটা আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। জগদানন্দ রায়ের ‘বাংলার পাখি’ বইতে কপোত প্রজাতির পাখির প্রথমেই রয়েছে পায়রা। তবে লেখক শুরুতেই বলে দিয়েছেন,পায়রা যেহেতু বাড়িতে আমরা অনেকে পুষি,তাই এই পাখি নিয়ে বেশি কথা  বলবেন না। শুধু পোষা নয়,মানুষের সঙ্গ প্রিয়…

0 Comments

End of content

No more pages to load