গল্পঃ অণু গল্প (অন্ধকার,আলো)/Anugolpo(ondhokar,alo)

অণুগল্প   অন্ধকার খেজুরগাছের নিচে কীসের একটা আওয়াজ হল। খড়মড়। চারদিকে জমাট অন্ধকার। কৃষ্ণপক্ষ চলছে। স্বদেশ  টর্চটা জ্বালাল। দেখতে পেল না কিছুই। তবু সাবধান হল। সিতুদের বাড়ির পুরো রাস্তা টর্চটা জ্বালিয়েই রাখল। -মামিমা! সিতুদের ঊঠানে এসেই হাঁকল স্বদেশ। -সোদেশ আইসস নাকি ? আয় আয়।    -আজ কী অন্ধকার মামিমা! আর আপনাদের রাস্তাটাও খুব জঙ্গলে ভরে গেছে। -তোর মামা তো লুক খুঁজতাসে কাটনের লেইগ্যা। আজকাল লুক মেলাই দুষ্কর। পূজা আইতাসে। ঝুপঝাড় একটু না কাটলে পোলাপানেরা রাইতে ঠাকুর দেখতে বাইর হইব কুন সাহসে! সিতু ইত্যবসরে চা বানিয়ে হাজির ।– স্বদেশদা চা। -আবার চা করলি কেন? - লবানকে দেখছি না! স্বদেশ তাকাল এদিক সেদিক। -লবানরে একটু দুকানে পাঠাইসি। তেল আনতে। এই সিতু একটু যা তো হ্যারিকেনডা লইয়া। অন্ধকারে নিমগাছটার তলে ও খুব…

0 Comments

গল্পঃ ছোটদের ছোট ছোটগল্প (মিস ইউ কাঠঠোকরা)

 ছোটদের ছোট ছোটগল্প  মিস ইউ কাঠঠোকরা সারাদিন শুধু ঠকঠক আর ঠকঠক। কাঁহাতক সহ্য হয়! চোখের দুপাতা কিছুতেই এক করতে পারছি না। আর আমার চোখের দুপাতা এক না হওয়ায় বাড়ির সবার কী সমস্যা,কী সমস্যা!  আমাকে নিয়ে সবাই যাকে বলে একেবারে তটস্থ। এই বুঝি খোকা খাট থেকে পড়ে যায়। এই বুঝি বিছানায় গড়াতে গড়াতে  গিয়ে কোনের আলমারিটায় ঠোক্কর খায়। এই বুঝি হাত বাড়িয়ে জলের জগটা উলটে দিয়ে চারপাশ ভিজিয়ে দেয়। ওদের এরকম ভাবনা অকারণে নয়।সবগুলোই একাধিকবার হয়ে গিয়েছে আমার দ্বারা। এসব কিছু না হতে দেবার একটাই রাস্তা। আমার ঘুম। কিন্তু ঘুমোব কী,সারাদিন শুধু জানলার পাশের তালগাছে ঠকঠক আর ঠকঠক। বাবা বলে-‘কাঠঠোকরাটার এখনও বাসা…

0 Comments

গল্পঃপাস্ট টেন্স

  গল্প        পাস্ট টেন্স                          সারাদিন টিপটিপ করে পড়ছিলই। সন্ধের পর সেটা বিশাল আকার ধারণ করল। একেবারে ‘বাদলের ধারাপাত’ বলতে যা বোঝায় তাই। পশ্চিমের জানলাটা দিয়ে সচরাচর বৃষ্টির ছাঁট ঘরে ঢোকে না। তাই বৃষ্টির সময় ওটা খোলাই থাকে। আজ কিন্তু বন্ধ করতে হল জানলাটা। পিকো পড়তে বসেই এ ঘর থেকে চেঁচাল-‘মা আজ রাত্রে ভাত রুটি কিচ্ছু নয়-আজ খিচুড়ি।’ অনিমেষ আজ অফিস থেকে ভিজে এসেছে। খিচুড়ির কথায় ওর মনটা নেচে উঠল। পিকোর পাশে বসে ল্যাপটপে কাজ করতে করতে বলল-‘এরকম দিনে খিচুড়ি হলে একেবারে জমে যাবে।’ -‘সঙ্গে ডিমভাজা,কী বলো বাবা!’ -‘ঠিক তাই। ছোটবেলায় এরকম ওয়েদার হলে তো বাড়িতে একেবারে বাঁধা ছিল খিচুড়ি ডিমভাজা। মা এর সঙ্গে অবশ্য আলু ভাজা,বেগুন ভাজাও করত। আর মার তৈরি খিচুড়ি-যেমন অপূর্ব তার গন্ধ,তেমনি চমৎকার তার স্বাদ। তুই তো খাবার সুযোগ পেলিনা। তোর জন্মানোর আগেই মা চলে গেল।…আর মা তো শুধু খিচুড়ি নয়,যে কোনও রান্নাতেই একেবারে তোদের ভাষায় ‘ফাটিয়ে’ দিত।’   ঠাকুমার রান্নার গল্প বাবার কাছে অনেকবার শোনা। অন্য সময় হলে পিকো আলাদা কোনও কথা পেড়ে বাবাকে থামাত।আজ ইচ্ছে হল না। বর্ষার দিনে পুরোনো কথা শুনতে বেশ ভালই লাগে। ঠাকুমার রান্নার গল্প আজ তাই পিকোর খারাপ লাগছিল না। অনিমেষ মায়ের রান্নার গল্পে ঢুকে গেলে একটু বেশি ইমোশোনাল হয়ে পড়ে।আজও তাই।অনিমেষ বলে চলে-‘একবার আমার জন্মদিনে মা ভাঁপা ইলিশ এমন রান্না করেছিল যে সবাই খেয়ে একেবারে মুগ্ধ।’ -‘বাপ মেয়েতে কী কথা হচ্ছে গো?’  সিরিয়ালের বিজ্ঞাপন বিরতিতে দীপিকা ও ঘর থেকে এসে দাঁড়ায় ওদের মাঝখানে। পিকো বলে-‘ঠাকুমার রান্নার কথা।’ পিকোর কথায় দীপিকার চোখেমুখে একটা নিস্পৃহ ভাব ফুটে ওঠে। বলে-‘তার মানে তোর বাবা এখন পাস্ট টেন্সে!’ আসলে শাশুড়ির সঙ্গে সদ্ভাব ছিল না দীপিকার।  কারণে অকারণে বড্ড কথা শোনাতেন মহিলা। মনে আছে,পিকো তখনও হয়নি। সেসময় এমনই এক বৃষ্টির দিনে শ্বশুর বাড়ির দেশের বিখ্যাত শ্রাবণীমেলা দেখতে গিয়ে দুজনে খুব ভিজে ফিরেছিল। ‘তুমি ছেলেটাকে ভিজিয়ে নিয়ে এলে’দিয়ে শুরু করে শাশুড়ি সেদিন দীপিকা্র বাপান্ত করে ছেড়েছিলেন। দীপিকা বলে-‘আমি প্রেসেন্ট টেন্সের লোক। হয়ত রসভঙ্গ করলাম।’ অনিমেষ দীপিকার শেষ কথাকে পাত্তা না সিয়ে আগের কথার খেই ধরেই বলে-‘ষাট হয়ে গেল,এখন কি আর সবসময় প্রেসেন্ট টেন্সে থাকা যায়? মন তো বয়সে একটু অতীতচারী হবেই-’ এবারে ঝাঁঝিয়ে উঠল দীপিকা।–‘এই বয়সে একটু অতীতচারী! তুমি তো বরাবরই অতীতের লোক।কতবার  বলেছি,একটা এ্সি কেনো-এত  গরমে টেকা যাচ্ছে না,রান্নাঘরটা কালি হয়ে যাচ্ছে-একটা চিমনি বসাও।বলেছি একটা ভাল টিভি কেনো-এই মান্ধাতা আমলের চোদ্দ ইঞ্চি টিভিতে আজকাল আর চলে না। কোনটাতে কান দিয়েছ তুমি? কোনও কিছু চাইলেই বলেছ,ওটা ছাড়াও তোমাদের কেমন সুখের ছিল আগেকার দিন! আর এখন ষাটে এসে বলছ-’ দীপিকার কথার ঝড়ে অনিমেষ মিইয়ে যায়। পিকো পরিবেশ সহজ করার চেষ্টা করে।-‘মা,খিচুড়িতে একটু ঘি দিয়ো,ভাল লাগবে।’ -‘ঘি আছে কি? তাছাড়া রাতের বেলা -তেলেই ভাল।’ একটু ওভার রিঅ্যাক্ট করে ফেলেছে,দীপিকা বোধহয় বোঝে। তাই আর আগের কথায় যায় না। একটু পরে রান্নাঘরে বাসনের টুংটাং শুরু হয়। মানে ওখানে শুরু হুয়ে গেছে খিচুড়ির আয়োজন। বাবা কি একটু মিইয়ে আছে? পিকো বাবাকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে। বলে-‘বাবা,ইউটিউবে রবীন্দ্রনাথের  ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’গানটা চালাও না!’ -‘শুনবি?’ -‘দুজনেই শুনব।’ অনিমেষ ইউটিউবে গানটা চালিয়ে চোখ বোজে। পিকো খুশি,ঠিক অস্ত্রই বেছেছে বাবার মুড ফেরানোর জন্য। গানটা শেষ হলে পিকো উঠে মাকে…

0 Comments

গল্পঃ ছোট ছোটগল্প (জন্মভূমি,jonmobhumi)

ছোট ছোটগল্প    জন্মভূমি রেণু,বেণু,কৃশানু। তিনজনের জন্যই জামাকাপড় কিনেছেন। দাদা,বৌদির জন্যও নিয়েছেন নতুন পোশাক।কত বছর হবে? কুড়ি?  না,সময়টা বোধহয় বাইশ। দেশে ফিরছেন বরদা সান্যাল।উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বি টেক। তারপর এদেশের নানা জায়গা ঘুরে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া থেকে ইংল্যান্ড। পিছন ফিরে দেখলে মনে হয়,সব এক লহমার ব্যাপার। অথচ দেখতে দেখতে এতগুলো বছর পার!গ্রামের জন্য বিদেশে মনটা যে টনটন  করত না তা নয়। কিন্তু কাজ বড় বালাই। আর তাছাড়া কাজ-পাগল মানুষ হিসাবে তিনি পরিচিতও হয়েছেন কর্মক্ষেত্রে।কিন্তু সেদিন যে কী হল! ঘুমের মধ্যে দেখলেন গ্রামের রেললাইনের একদিকের খেলার মাঠটায় চুটিয়ে ফুটবল খেলছেন বলাই, বেল্লাল,সাঈদ সুখেনদের সঙ্গে। ঘুম ভেঙে গেল। কিন্তু,ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে যে মাঠে খেলাটা…

0 Comments

গল্পঃসাহিত্য/সাহিত্যিক (সুরসিক বিদ্যাসাগর)

গল্পঃসাহিত্য/সাহিত্যিক (সুরসিক বিদ্যাসাগর) সুরসিক বিদ্যাসাগর একবার এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ সাহায্য চাইতে এসে বললেন,'আমার খুব দুরাবস্থা।' সুপন্ডিত,দয়ালু মানুষটির কাছে অভাবী কারও সাহায্য চাইতে আসা নতুন কিছু নয়। এদিকে পন্ডিত মানুষটি আবার সুরসিক খুব। সাহায্য তো করবেনই,কিন্তু ব্রাহ্মণের 'দুরাবস্থা'র ব্যাকরণগত ত্রুটি নিয়ে কৌতুক করার লোভ সামলাতে পারলেন না। ব্রাহ্মণের দৈন্যদশার ব্যাপারটা মাথায় রেখে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। 'আমার খুব দুরবস্থার' পিঠে পিঠেই বলে উঠলেন,'সে তো আকার দেখেই বোঝা যাচ্ছে।'সংস্কৃতের পন্ডিত মানেই যে শুষ্কং কাষ্ঠং নয়,সারাজীবন এরকম নানা রসিকতায় বুঝিয়ে গিয়েছেন তিনি। আসলে তাঁর জীবনটাই তো এক শিক্ষা। এমনকী রসিকতাতেও। কারণ,তিনি যে বিদ্যাসাগর!১৮২০ এর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮৯১ এর ২৯ জুলাই মোটামুটি…

0 Comments

গল্পঃসাহিত্য/সাহিত্যিক (প্রথম এন্ট্রান্স)

                                                                                 গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(প্রথম এন্ট্রান্স) প্রথম এন্ট্রান্স   এখন নাম উচ্চ মাধ্যমিক,একসময় এর সমতুল পরীক্ষা ছিল এন্ট্রান্স। বাংলায় বলা হত প্রবেশিকা। এই পরীক্ষা দিয়েই তখন স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া যেত।এ দেশে প্রথম এন্ট্রান্স বা প্রবেশিকা চালু হয়েছিল কবে? শুরু খুঁজতে গেলে আমাদের কিন্তু অনেকটাই পিছিয়ে যেতে হবে। সালটা ১৮৫৭। সিপাহী বিদ্রোহের বছর হিসাবে যে সালটা আমরা সবাই মনে রাখি। এই ১৮৫৭ সালেই  এন্ট্রান্স …

0 Comments

গল্পঃ ছোটদের গল্প (অপয়া)

ছোটদের গল্প অপয়া  আজ মাধ্যমিকের রেজাল্ট। অন্য আর পাঁচটা পরীক্ষার্থীর মত অপয়ারও বুক দুরু দুরু। সকাল থেকেই কোনও কাজে মন লাগছে না। এরই মধ্যে মা এসে দুবার শাসানি দিয়ে গেছে,'ধিঙ্গি মেয়ে,এই কটা বাসন নিয়ে এখনও বসে আছ,মেজে শেষ করতে পারছ না!'-'দিদি!' হঠাৎ চাপা স্বরে চেনা ডাক।অপয়া বাসন থেকে চোখ তোলে। রোজকার মত নিধি। হাজির দুধের গ্লাস নিয়ে। অপয়ার চোখে আজ দ্বিধার চেয়ে ভয় বেশি। বাড়িতে বাবাও রয়েছে। মানে দু'জোড়া চোখ। যদি ধরা পড়ে যায়! এই ছোট্ট ভাইটার কাছে ও রোজই হার মানে। ওকে গ্লাসের অর্ধেক দুধ না খাইয়ে ও খাবে না।কিন্তু আজ সেটা অসম্ভব। অপয়া চোখের ইশারায় ভাইকে চলে যেতে…

0 Comments

গল্পঃ একটা চুরি

গল্প    একটা চুরি               চোর ঢুকেছিল এটা স্পষ্ট। কিন্তু কী চুরি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।  তবে ঘর লন্ডভণ্ড।না,আলমারি খোলেনি কেউ।ড্রেসিং টেবিলের কাচ সরিয়েও কেউ দেখেনি ওখানে কী আছে। শোকেসের নিচের সেলফে দলিল-দস্তাবেজের মধ্যে লুকিয়ে রাখা মার গয়নার বাক্সটাও কেউ টেনে বের করেনি।  কিন্তু যা হয়েছে তাও কম নয়। টেবিলের উপর রাখা জলের জক উল্টে মেঝে জলমগ্ন হয়েছে। তরকারির ঝুড়ি উল্টে আলু পটল সব মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। গ্যাসের পাশে রাখা ভাতের খালি জায়গাটা কাত হয়ে গিয়েছে। ড্রইংরুমের সোফাটার অবস্থাও ভাল নয়।বেশ খানিকটা ছেঁড়া। মনে হচ্ছে কেউ বুঝি সোফাটার মধ্যেও কিছু খুঁজেছে।  আলু পটল যেভাবে ছড়ানো তাতে মনে হয় ওগুলোর জন্যই চোরের আগমন। কিন্তু…

0 Comments

গল্পঃ পদবি

গল্পঃ পদবি গল্প পদবি বছর পঁচিশের লম্বা ছেলেটি বলল-‘আপনার রহস্য উপন্যাস ‘মেজবাবুর প্রত্যাবর্তন’ এবার ‘পাঁচকড়ি দে’ পুরস্কার পেয়েছে,এজন্য অভিনন্দন।’ মুখে হাসি টেনে অনিমেষ বলল-‘ধন্যবাদ।’ ছেলেটি বলল-‘আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই,আমাদের ‘অনুসন্ধান’ পত্রিকার তরফ থেকে। পুরস্কারটা পাবার পর থেকেই সাক্ষাৎকার নেবার ধুম পড়েছে। অনিমেষ তাই সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর একটা কাগজে লিখে জেরক্স করিয়ে রেখেছে। ‘একটা লম্বা ছেলে দেখা করতে এসেছে’ ছেলের কাছে শুনে সেই জেরক্সের একটা কপি পাঞ্জাবির পকেটে নিয়েই দোতালা থেকে ও নেমেছিল। ‘কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই’ শুনে কপিটা পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করল অনিমেষ। ছেলেটির হাতে দিয়েই বলল-‘এতেই সব লেখা আছে,যদি ছাপতে চান এটাই-’ ছেলেটি প্রশ্ন-উত্তর লেখা কাগজটির দিকে এক নজর চোখ বুলিয়ে বলল-‘এটা দিলেন,নিশ্চয়ই কাজে লাগবে আমাদের। কিন্তু এর…

0 Comments

গল্পঃ পদবি

গল্পঃ পদবি গল্প পদবি বছর পঁচিশের লম্বা ছেলেটি বলল-‘আপনার রহস্য উপন্যাস ‘মেজবাবুর প্রত্যাবর্তন’ এবার ‘পাঁচকড়ি দে’ পুরস্কার পেয়েছে,এজন্য অভিনন্দন।’ মুখে হাসি টেনে অনিমেষ বলল-‘ধন্যবাদ।’ ছেলেটি বলল-‘আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই,আমাদের ‘অনুসন্ধান’ পত্রিকার তরফ থেকে। পুরস্কারটা পাবার পর থেকেই সাক্ষাৎকার নেবার ধুম পড়েছে। অনিমেষ তাই সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর একটা কাগজে লিখে জেরক্স করিয়ে রেখেছে। ‘একটা লম্বা ছেলে দেখা করতে এসেছে’ ছেলের কাছে শুনে সেই জেরক্সের একটা কপি পাঞ্জাবির পকেটে নিয়েই দোতালা থেকে ও নেমেছিল। ‘কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই’ শুনে কপিটা পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করল অনিমেষ। ছেলেটির হাতে দিয়েই বলল-‘এতেই সব লেখা আছে,যদি ছাপতে চান এটাই-’ ছেলেটি প্রশ্ন-উত্তর লেখা কাগজটির দিকে এক নজর চোখ বুলিয়ে বলল-‘এটা দিলেন,নিশ্চয়ই কাজে লাগবে আমাদের। কিন্তু এর…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (মানিক ও অন্য দুই বন্দ্যোপাধ্যায়)

গল্পঃসাহিত্য/সাহিত্যিক মানিক ও অন্য দুই বন্দ্যোপাধ্যায়       আপনার পছন্দের উপন্যাস কোনটি? এমন প্রশ্ন বইপ্রিয় পাঠকদের নানা ওয়েব গ্রুপে মাঝে মাঝেই ওঠে। বই পাঠকদের একটা বড় অংশ প্রিয় বই হিসাবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ অথবা ‘দিবারাত্রির কাব্য’এর নাম উল্লেখ করেন। বইদুটি বাংলাসাহিত্যের ইতিহাসে যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জীবিতকালে মানিক তেমন পাঠকপ্রিয় লেখক ছিলেন না। এখন হয়েছেন এটা সুখের কথা। প্রসঙ্গত বাংলা সাহিত্যের তিন দিকপাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের অবস্থানটা ঠিক কোন জায়গায়, একবার দেখে নেওয়া যেতে পারে। শুধু সাহিত্যিক মানিক নন,ব্যক্তি মানিকেরও। তিনজনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ বিভূতিভূষণ জন্মেছিলেন ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা জন্মপত্রিকায় এই তারিখটাই লেখা রয়েছে। তারাশংকরের জন্ম ২৩ জুলাই ১৮৯৮ এ । আর মানিক…

0 Comments

গল্পঃঅণুগল্প (ডালপুরি আর গজা)

অণুগল্প ডালপুরি তিন মাস পরে ছেলেটা আবার বসেছে। তেতালায় বসেও জানলা দিয়ে শোভন আওয়াজ পাচ্ছেন ওর ডালপুরি ভাজার। ষাট পেরিয়েছে, কিন্তু দোকানের ডালপুরির ব্যাপারে দুর্বলতা যায়নি। আগে মাঝে মাঝেই জানলা দিয়ে একটা ব্যাগ দড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে দিতেন। ডালপুরি ভেজে,প্যাক করে ছেলেটা ঢুকিয়ে দিত ঝোলায়। দাম মেটানো হত পরে। যখন দূরের কোনও দোকানে কিছু কিনতে নামতেন। ছেলেটার ডালপুরির স্বাদই আলাদা। অনেকদিন পরে ওকে ডালপুরি ভাজতে দেখে মনটা আজ আবার আনচান করে  উঠল শোভনের। কিন্তু খাওয়াটা কি ঠিক হবে? হাত দিয়েই তো সব করছে। খাচ্ছে অবশ্য অনেক লোক। সাতপাঁচ ভেবে শেষ পর্যন্ত দড়ি লাগানো ঝোলাটা নিচে পাঠিয়েই  দেন শোভন। তারপর উপর থেকে…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(বরণীয়দের না-ক্রিয়া)

 গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক বরণীয়দের না-ক্রিয়া বিদ্যাসাগর তখন চন্দননগরে অবস্থান করছেন।  হিতবাদীর সহ সম্পাদক চন্দননগর নিবাসী যোগেন্দ্রকুমার চট্টোপাধ্যায় গিয়েছেন বিদ্যাসাগরের কাছে। যোগেন্দ্রকুমারের তখন যুবক বয়স। পিতার সূত্রে বিদ্যাসাগরের সঙ্গে পরিচয়। প্রায় প্রায়ই চলে যান বিদ্যাসাগরের কাছে। খুঁটিয়ে দেখেন বিদ্যাসাগরের ঘর গেরস্তালি । এর মধ্যে সবচেয়ে  অবাক লাগে বিদ্যাসাগরের বসার চেয়ারটাকে  দেখে ।   বাড়িতে তো সারাদিন খালি গায়েই থাকেন। আবার প্রতিদিন তেলও মাখেন সারা গায়ে। অথচ বসার চেয়ারের পৃষ্ঠদেশের বার্নিশ মলিন না হয়ে কীভাবে এমন অটুট থাকে!\সেদিন প্রশ্নটা করেই ফেললেন বিদ্যাসাগরকে।যোগেন্দ্রকুমারের প্রশ্ন শুনে বিদ্যাসাগর হেসে বললেন-'হেলান দিয়ে বসলে তবে তো রং চটবে। আমি কখনও চেয়ারে হেলান দিয়ে বসি না। এতদিন আসছিস,দেখিসনি!'চিরকাল শিরদাঁড়া সোজা করা…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (সিনেমা ও বিভূতিভূষণ)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক সিনেমা ও বিভূতিভূষণ যে চলচ্চিত্র শিল্পমাধ্যমটি বিভূতিভূষণের বেশ কিছু অমর সৃষ্টির সঙ্গে সারা বিশ্বের পরিচিতি ঘটায়, সেই শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে বিভূতিভূষণের যোগ কতটুকু? শুনলে অবাক লাগবে। চলচ্চিত্রের সঙ্গে বিভূতিভূষণের যোগ এদেশে চলচ্চিত্রের শুরুর সময়টাতেও ছিল  অত্যন্ত নিবিড়। দেশি বিদেশি দুই ধরণের চলচ্চিত্রেরই রীতিমত ভক্ত ছিলেন তিনি। বিভূতিভূষণের দিনলিপির পাতা ওল্টালে দেখা যাবে কলকাতার মেসজীবনে তাঁর যাতায়াত শুধু ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি, বন্ধুবান্ধবদের আড্ডা,আর ‘বঙ্গশ্রী’র অফিসে সীমাবদ্ধ ছিল না। রীতিমত যাতায়াত ছিল থিয়েটার  সিনেমাতেও। থিয়েটার সিনেমার মধ্যে পছন্দ বেশি করতেন সিনেমাই। তাঁর দিনলিপিতে উঁকি দিলে দেখা যাবে,কখনও নীরদবাবুর (নীরদ সি চৌধুরী) সঙ্গে তিনি রূপবাণীতে ইংরেজি সিনেমা দেখছেন,কখনও রাত্রিতে বঙ্গশ্রীর  অফিস থেকে ফেরার পথে film দেখতে ঢুকছেন…

0 Comments

গল্পঃ ছোটদের ছোট ছোটগল্প ( শেষ ধুতি)

ছোটদের ছোট ছোটগল্প  শেষ ধুতি পন্ডিতমশাই টুকলি ধরেছেন। ঘরে ঘরে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে। রটবারই অবশ্য কথা। পন্ডিতমশাই টুকলি ধরেছেন এমন তথ্য এ ইস্কুলে কেউ দিতে পারবে না। একটু ভুল হল। এমন অঘটন এই ইস্কুলে কেউ ভাবতেও পারবে না।পরীক্ষার লাস্ট বেল পড়ার পরে খাতা নিয়ে বেরিয়েছি সবাই। দেখি পন্ডিত মশাই চলেছেন হনহন করে। একহাতে ঘরের সব খাতা,আর একহাতে সেই টুকলির বান্ডিল। আমরা কয়েকজন ছোকরা শিক্ষক দৌড়ে ধরে ফেললাম পন্ডিতমশাইকে। দেখি, এই প্রথম টুকলি ধরেই পন্ডিতমশাইয়ের চোখে,'আমার কাছে চালাকি!' জাতীয় অহঙ্কার।-'কীভাবে ধরলেন?' সাত্যকি টুকলিটার দিকে তাকিয়ে শুধোয়।রেগে ওঠেন পন্ডিতমশাই।-'কীভাবে মানে! যেভাবে তোমরা ধরো সেভাবেই-'-'তাহলে এতদিন...',মুখ ফসকে বেরিয়ে যায় আমার।-'এতদিন! ওই…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (অটোগ্রাফের রবি)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক অটোগ্রাফের রবি ‘বাজে কথার ঝুলি/যতই কেন ভর্তি কর/ধুলিতে হবে ধুলি’। কিছু-কথা চেয়ে পাঠানো এক ভক্তের অটোগ্রাফ খাতায় রবীন্দ্রনাথ সেদিন খানিকটা রাগত হয়েই লিখেছিলেন লাইন ক’টি। তার আগে পার্শ্ববর্তিনীকেও জানিয়েছিলেন উষ্মা-‘কি হবে রে কথা দিয়ে? কেবল কথা,কথা,কথা।’ করোনা আতঙ্কে  কাঁপছে আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্ব। এরই মাঝে রবীন্দ্রনাথ দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের বুকের বলভরসা হয়ে। কখনও ‘বিপদে মোরে রক্ষা কর’,কখনও ‘দুবেলা মরার আগে মরব না’ উচ্চারণে। অটোগ্রাফের কবিতাটিও কিছুটা যেন স্পর্শ করে গেল এই ক্রান্তিকালে পালনীয় ধর্মটিকে। কথা  নয়, নয় অযথা কলরব,চাই শুধু কাজ।  অটোগ্রাফের খাতায় কবিতা অবশ্য এটাই একমাত্র নয়। ‘ডেস্কেতে দেখিলাম,মাতা/রেখেছেন অটোগ্রাফ-খাতা।’ রবীন্দ্রনাথ নিজেই লিখেছেন এমন লাইন(‘অটোগ্রাফ’/রবীন্দ্রনাথ)। রানী চন্দের লেখা থেকে জানা যায়  ভক্তের আবেদনে সাড়া দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে কখনও শুধু অটোগ্রাফ,কখনও বা দু এক ছত্র কবিতা সহ স্বাক্ষর রোজই…

0 Comments

গল্পঃ ঘুড়ি

ঘুড়ি                                           ঘুড়িটা কাটা পড়েছে। তিনদিন হল।কাটা ঘুড়িটা ঝুলছে পবনদের শ্যাওড়া গাছে। কিন্তু কাটা ঘুড়িটা নিয়ে আসায় কোনও গা নেই তিলুর। বিকেলবেলায় বাড়ির সামনের ছোট্ট মাঠটায় তিলুর ঘুড়ি আজ তিনদিন নেই। তবু ঘুড়ি-অন্ত প্রাণ ছেলেটা চুপচাপ। কাটা ঘুড়িটা এমনকিছু উপরে নেই শ্যাওড়াগাছের। ইচ্ছে করলে ওটা নামিয়ে আনাই যায়। নামিয়ে এনে আবার মেরামত করে বিকেলে ওড়ানোই যায়। কিন্তু মেরামতের জন্য খরচ আছে। সুতো সব ছিঁড়েখুড়ে একশা। কে দেবে মেরামতের খরচ! দাদু থাকলে ভাবতে হত না। কিন্তু দাদু এখন আকাশে তারা। বাবার কীই বা রোজগার! দাদুর পেনশনের টাকাতেই সংসার চলত। এখন সংসারটাই চলছে না,তো ঘুড়ি! পবনের ঠাকুমা মাঠে বসে ছেলেদের খেলা দেখে। দেখে তিলুর ঘুড়ি ওড়ানোও। পবনের মত তিলুও তাঁকে ঠাকুমাই ডাকে। ঠাকুমা আজ বিকেলে তিলুকে চুপচাপ মাঠে বসে…

0 Comments

গল্পঃ অণুগল্প-‘টিকটিকি’ আর ‘প্যাঁচা’

অণুগল্প  টিকটিকি    ফ্ল্যাটের নিচেই সব্জি নিয়ে বসেছে একজন। ভিড় নেই। তবু ক্রেতা একেবারে শূন্য হলে,মুখে মাস্ক বেঁধে  তেতালা থেকে নামল তমাল। হাতে ঝোলা। আগে নিজে বেছে সবজি কিনত। এখন প্রশ্নই ওঠে না। বাজারে দরদাম বলে যে কোনও একটা ব্যাপার আছে,সেটাও যেন ভুলে গেছে। করোনা পালটে দিয়েছে সব। মানুষ এখন সবচেয়ে ভয়ের জীব। যদি কোনও ক্রেতা এক্ষুনি এসে জুটে যায় সে ভয়ে যতটা তাড়াতাড়ি পারল  তমাল সবজি কিনল। তারপর প্রায় দৌড়ে ফিরল ফ্ল্যাটের দরজায়। সবজিগুলো ধোয়ার জন্য তৃণাকে ঝোলাটা দিয়ে তমাল ঢুকে গেল বাথরুমে। মাস্ক ফেলে ,হাত পা সাবান  দিয়ে ধুচ্ছে এমন সময় দেখল মোটা টিকটিকিটা বাথরুমের দেওয়ালে। আগে হলে ওটাকে তাড়িয়ে ছাড়ত  তমাল। এখন…

0 Comments

গল্প (চোর)

গল্পচোর                পালান সেখ চেঁচাচ্ছে।–‘স্যাররা নিচে আসুন,নিচে আসুন। চোর ধরা পড়েছে,সাইকেল চোর।’ আজ স্কুলে পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান। ক্লাস নেই। অনুষ্ঠান হবে স্কুলের হলঘরে। স্যারেরা তাই  ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। কয়েকজন স্টাফরুমে  গল্পগুজব করছিলেন। কয়েকজন চায়ের ঘরে,চা  খাচ্ছিলেন। আর কয়েকজন স্কুলের  হলঘরে স্টেজের তদারকি করছিলেন। হেডস্যার নিজের চেম্বারে বসেছিলেন জরুরী কিছু কাগজপত্র  নিয়ে।   পালান সেখের চীৎকারে সবাই দোতালার ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ান। এই স্কুলের স্যারদের বসার ঘর,  হেডস্যারের চেম্বার, অনুষ্ঠানের হল,সবই দোতালায়। স্যারেরা ব্যালকনিতে আসতে পালান আবার  উপরের দিকে তাকিয়ে চীৎকার করে-‘সাইকেল চোর ধরা পড়েছে,সাইকেল চোর।’  সাইকেল চোর ধরা পড়ার খবর  হলঘরে সমবেত হওয়া ছেলেদের কানেও গিয়েছে। ওরা হল থেকে বেরিয়ে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামে। হেডস্যারকে নিয়ে স্যারেরাও নিচে নেমে আসেন। অনেক কটা গ্রামের মাঝখানে এই স্কুল। সাইকেল নিয়ে প্রচুর ছাত্রছাত্রী আসে। আগে সাইকেল রাখার গ্যারেজ ছিল না। এখন গ্যারেজ হয়েছে। কিন্তু গ্যারেজ হলে কী হবে? গার্ডের ব্যবস্থা এখনও করা যায়নি। গ্যারেজের একটা দিকে আবার প্রাচীরের অনেকটা  কিছুদিন আগে ঝড়ে ভেঙে গেছে। এখনও  সারানো হয়ে ওঠেনি। সাইকেলগুলো তাই গ্যারেজে থাকলেও খুব সুরক্ষিত থাকে না। স্কুলগেটের পাহারাদার পালান সেখ। গেটের সঙ্গে গ্যারেজটা দেখার দায়িত্বও পালানের উপর চাপানো হয়েছে।  কিন্তু তারও তো দুটোই চোখ। গেট সামলে অনেক সময়ই গ্যারেজের দিকটা দেখায় ফাঁকি থেকে যায়। ফলে উটকো লোক গ্যারেজে মাঝেমধ্যেই ঢুকে পড়ে। ঘটে সাইকেল চুরির ঘটনাও। সাইকেল চোর  কিন্তু একটাকেও এখনও ধরা যায়নি। আজ সাইকেল চোর ধড়া পড়ায় ছাত্রেরা সকলেই উত্তেজিত। কিছু ছাত্র নিচে ছিল,তখনও হলঘরে যায়নি। চোরকে ধরেছে তারাই। তবে গেমসের অর্ণবস্যার কাছেপিঠেই ছিলেন। তাই চোরের উপর ওদের মারটা দু একটা কিল চড়ের বেশি এগোয়নি। সাইকেল চোরকে গ্যারেজের কাছের শিমুলগাছটার তলায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। বেড় দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছাত্রেরা।  স্যারেদের নিয়ে হেডস্যার ওখানে পৌঁছতেই উঁচুক্লাসের কয়েকজন ছাত্র আওয়াজ তুলল-‘ওকে আমাদের হাতে ছেড়ে দিন স্যার। এতদিন যত সাইকেল চুরি গেছে সব কটার শোধ তুলব ওর পিঠে।’ হেডস্যার ছেলেদের কথার জবাব দেবেন কি  সাইকেল চোরকে দেখেই তো চক্ষু চড়কগাছ। এতটুকু  ছেলে সাইকেল চুরি করছিল! বয়স খুব বেশি হলে তেরো হবে। বাংলার রফিকুল স্যার প্রস্তাব দেন-‘থানায় দিয়ে দিন,যা করার ওরাই করবে।’    ছেলেটার একেবারে কাছে দাঁড়িয়েছিলেন অর্ণবস্যার। ছাত্রদের কিলচড়ের এক-আধটা ছেলেটার মুখে পড়েছে। একটু ফুলেও গেছে মুখটা। সেদিকে একবার তাকিয়ে হেডস্যারকে উনিও বলেন-‘থানায়ই দিয়ে দিন ওকে।’ হেডস্যার কিন্তু কোনও কথা বলছেন না। বোঝা যাচ্ছে না তিনি ছেলেটাকে নিয়ে কী করবেন। -‘কী নাম তোর?’ বেশ কিছুক্ষণ পরে নীরবতা ভাঙলেন হেডস্যার। -‘পুষ্কর।’ মৃদুস্বরে জবাব দিল সাইকেল চোর। -‘তুই গ্যারেজে কী করছিলি একটু বলবি?’ হেডস্যার তাকান পুষ্করের দিকে। হেডস্যারের প্রশ্নে মাস্টারমশাইদের মধ্যে চাপা হাসি খেলা করে। একজন বলেই বসেন-‘গ্যারেজে সাইকেল  চোর সাইকেল চুরি করছিল এটা আবার শুধোনোর কী আছে।’  চোর কিন্তু মাথা নিচু করে জবাব দেয় -‘গ্যারেজে ঢুকে সাইকেল চুরি করছিলাম। একেবারে কোনার সাইকেলটা নিয়ে প্রাচীর টপকাচ্ছিলাম। একটা বড় ছেলে গিয়ে ধরে ফেলল।’ -‘এর আগে এখান থেকে আর কটা সাইকেল সরিয়েছিস?’ হেডস্যারের গলা এবার বেশ তীক্ষ্ণ। -‘আজই প্রথম। বিশ্বাস করুন।’ -‘চোরকে আবার বিশ্বাস!’ ইতিহাসের মৃদুলা ম্যাম গজগজ করেন।   -‘বাড়িতে কে আছে তোর?’ শুধোন হেডস্যার। -‘কেউ না।’  -‘তাই হয় নাকি? মিথ্যে বলছিস। বাড়িটা কোথায় বল তো! খোঁজ নিচ্ছি আমরা।’ এবার ছেলেটা ফিক করে হেসে দেয়। সবাই তাজ্জব।–‘হাসছিস যে!’ পিছন থেকে এগিয়ে এসে অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড ধমকে ওঠেন। ছেলেটার মুখে তবু হাসি। বলে-‘বাড়িই তো নেই। স্টেশনে থাকি।’ -‘কী করিস স্টেশনে?’ -‘লোকের মাল বয়ে দিই,পয়সা নিই। আর যেদিন কিছু না হয়, সেদিন টুকিটাকি চুরি। আজ স্কুলের পাশ  দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভাবলাম যদি একটা সাইকেল…।’ -‘কেমনভাবে নিজের কথা বলছে,দ্যাখো! একটুও ভয়ডর নেই!’ভূগোলের দীপ্তি ম্যাম  চোখ বড় বড়  করেন। -‘তাহলে আর কী, চল তোকে থানায় দিয়ে আসি,ওরাই তোর বিচার করুক।’ হেডস্যার বলে ওঠেন।  থানাটা কাছে।উঁচু ক্লাশের ছাত্রেরা বলে-‘স্যার থানায় আমরাও যাব। সবাই মিলে থানায় গেলে থানা চট করে ওকে ছাড়বে না। নাহলে নাবালক বলে ছেড়ে দিতে পারে।’ -‘কথাটা ঠিক। তা বেশ যাস তোরা। এখন সবাই অনুষ্টানের ঘরে চল। ভুলে যাসনি তো সবাই যে আজ পঁচিশে বৈশাখ!’ ছেলেরা কিছু বলার আগে অ্যাসিস্ট্যান্ট হে্ড বলেন-‘এই ব্যাপারটা চুকিয়ে গেলে হতনা?’   হেডস্যার বলেন –‘না,না আগে অনুষ্টানটা সেরে নিই।’ আর কথা চলে না। সবাই হলঘরে উঠে আসে। সাইকেল চোরকেও আনা হয়েছে। একেবারে সামনের একটা বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে হেডস্যার রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে দু-চার কথা বলেন। তারপর শুরু হয় অন্যকিছু।  ফাইভ সিক্সের ছেলেরা ‘সহজপাঠ’ অভিনয় করে। থার্মোকলের অ আ নিয়ে এক এক করে মঞ্চে ঢোকে। আর নিজের নিজের ছড়াটা নেচে নেচে বলে দিয়ে যায়। সবারটা শেষ হলে আবার একসাথে বলে ও অভিনয় করে ‘কুমোরপাড়ার গরুর গাড়ি’, ‘নাম তার মোতিবিল’, ‘অঞ্জনা নদীতীরে চন্দনী গাঁয়ে’, এই তিনটি ছড়া। বেশ  সুন্দর পরিবেশনা। সকলেই হাততালি দেয়। এমনকী সামনের বেঞ্চে বসা সাইকেল চোর পুষ্করও। এবার রবীন্দ্রনাথের গান ,আবৃত্তি পরিবেশন করে ছাত্রছাত্রীরা। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে হেডস্যার পুষ্করের দিকে তাকিয়ে একটু অবজ্ঞার সুরে বলেন-‘তুই কিছু করবি নাকি?’ সবাই দেখে,পুষ্কর ঘাড় নাড়ছে।–‘কী করবি?’ হেডস্যার বেজায় অবাক। -‘গান।’ -‘গান! রবীন্দ্রনাথের গান তুই জানিস?’ আবার ঘাড় নাড়ে পুষ্কর। -‘বেশ আয়।’ হেডস্যার মাইকের সামনে ডেকে নেন পুষ্করকে। সুরঞ্জনস্যার সামনের বেঞ্চে বসে টিপ্পনি ছোড়েন-‘থানায় যাবার আগে প্রাণ খুলে গেয়ে নে।’  প্রাণ খুলেই…

0 Comments

গল্প ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান

-‘বাপি,ওই যে মোটাটা আন্টির সঙ্গে এদিকে আসছে ,ওর নাম লাল । ’-‘চিনিস ওকে !`পরমেশের গলায় ছদ্ম-বিষ্ময়।-‘চিনব না?আমাদের ক্লাসেই তো পড়ে। এক নম্বরের পাজি ।’দুলে দুলে বলে হলুদ ।-‘ও ভাবে কারও সম্পর্কে বলতে নেই মামণি!’পরমেশ হলুদের মাথায় হাত বোলায়।-‘তুমি জান না বাপি ,ও সবার টিফিন কেড়ে খায়।আমারও খেয়েছে দুদিন

0 Comments

গল্প (হারমোনিয়াম)

ছোটদের গল্প     হারমোনিয়াম ·           ঘরে চোর ঢুকেছে। আওয়াজ হচ্ছে খুটখাট। ঘরে রাস্তার আলো এসে পড়ে। তাই চোরকে দেখা কঠিন নয়। কিন্তু ডুগডুগি আর খঞ্জনী ঘুমে কাদা। হঠাৎ বইয়ের তাকটায় হোঁচট খায় চোরটা। অমনি হুড়মুড় করে পড়ে যায় ওটা। এত জোর আওয়াজ,খঞ্জনী ডুগডুগি দুজনেরই ঘুম ভেঙে যায়। চোরটাকে দেখে ডুগডুগি চেঁচাতে যাবে এমন সময় চোরটার করুণ গলা-‘চেঁচিয়ো না।আমি কিছু নিচ্ছি না তোমাদের। কিছু নেবার নেইও। যাচ্ছি-’ -‘আরে দিদি,চোর তো বাচ্চা ছেলে একটা।’ -‘তাইতো মনে হচ্ছে।’ বলে খঞ্জনী। ডুগডুগি ছোট হলেও সাহসী বেশ। উঠে বসে বিছানার উপর। চোরটা তখন জানলা দিয়ে বের হতে যাচ্ছে। ওদের কোনও জানলাতেই শিক নেই। আগে মাটির বাড়ি ছিল।এখন কোনওরকমে…

0 Comments

End of content

No more pages to load