গান নাটক নিয়েই থাকতে চান ঢাকার নিকসন

ঢাকার নিকসন রিজভী একজন স্বশিক্ষিত গায়ক। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ফিল্ম ও টেলিভিসন মিডিয়ার সঙ্গে নাটকের সহ পরিচালক হিসাবেও যুক্ত। ডাফোডিল ইন্টারন্যাশানাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র নিকসন রিজভীর সঙ্গে তাঁর গান ও নাটক নিয়ে কথা বললেন সাদাকালোর পক্ষে সুদীপ জোয়ারদার।
সাদাকালোঃ ইউটিউবে আপনার গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘এই করেছ ভালো নিঠুর,এই করেছ ভালো’ শুনছিলাম। জীবনকেও কি এভাবেই দেখে থাকেন?
রিজভীঃ একদম। কারণ আমি চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু কোনও কিছু পাল্টানোর ক্ষমতা তো আমার হাতে নেই। কাজেই যা হচ্ছে তাকে নত মস্তকে স্বীকার করে,আবার ঝাঁপিয়ে পড়া। সে কারণে আমি খুব ব্যালান্সড থাকি সবসময়।
সাদাকালোঃ আপনার গানের জার্নিটা একটু বলুন।
রিজভীঃ ছোট থেকেই গান করি গুনগুন করে। শিখিনি কোথাও। কিন্তু একটা গান শুনলে সে গান গাইতে পারতাম। এই করতে করতে ২০১৪ তে সিরিয়াসলি গান গাইতে থাকি। বিভিন্ন গান কভার করে ফেসবুক ও ইউটিউবে দিই। ভালই সাড়া পাই। এইসময় একটা ঘটনা ঘটে।জাগো এফ এম ৯৪.৪ এ একটা মিউজিক কম্পিটিশনে ‘সিঙ্গার অফ দি মান্থ’ হয়ে যাই। শুরু হয় আমার গান-জীবন।
সাদাকালোঃ কী ধরণের গান আপনি গেয়ে থাকেন।
রিজভীঃ আমি মূলত আধুনিক গানের শিল্পী।
সাদাকালোঃ আধুনিক গানে অনুপ্রেরণা?
রিজভীঃ আপনাদের ওখানকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য। আর আমাদের এখানকার আসিফ আকবর,বাপ্পা মজুমদার প্রমুখ।
সাদাকালোঃ আর গানের পাশে নাটক কীভাবে এল?
রিজভীঃ আমি থিয়েটার করেছি দু বছর,মঞ্চ নাটকও করেছি। নাটক আমার কাছে গানের মতই ভালবাসার। এখন আমাদের নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস আছে। এর আগে অনেক বিখ্যাত পরিচালকদের নাটকে আমি গান গেয়েছি। ব্যঞ্জনবর্ণ, স্বপ্নচারিণী ইত্যাদি। এখন সহ পরিচালনার পাশাপাশি আমি আমাদের নাটকে গানের দিকটা সামলাই।
সাদাকালোঃ গানের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত স্মরণীয় মুহূর্ত?
রিজভীঃ ৯৪.৪ এফ এমে যখন আমি ‘সিঙ্গার অফ দি মান্থ’ হিসাবে নির্বাচিত হলাম, সেই মুহূর্তটা ভোলার নয়।
সাদাকালোঃ আর নাটকের ক্ষেত্রে ?
রিজভীঃ আমাদের প্রোডাকশনের নাটক ‘ওভার অ্যান্ড আউট’ যখন টেলিভিশনে দেখানো হয়,সেই সময়টা আজও মনে করতে ভাল লাগে। নিঃসন্দেহে এটাই নাটকের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত সেরা অভিজ্ঞতা। ওই নাটকে আমার কথা ও সুরে আমার নিজের গাওয়া গান রয়েছে। টেলিভিশনে সেটা শোনাও এক বেশ একটা অন্যরকম ফিলিংস।
সাদাকালোঃ ইঞ্জিনিয়ারিং এ আপনার এটা কোন ইয়ার?
রিজভীঃ লাস্ট ইয়ার চলছে। আর একটা সেমিস্টার বাকি।
সাদাকালোঃ পড়াশোনার পাশে গান নাটক কীভাবে সামলাচ্ছেন?
রিজভীঃ সমস্যা হয় না। কাজের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা আছে। তাই হয়ে যাচ্ছে।
সাদাকালোঃ এরপর যে জব পাবেন তাতে তো নাটক গানের জন্য এত সময় পাবেন না।
রিজভীঃ আমার এদিকেই কেরিয়ার গড়ার ইচ্ছে।
সাদাকালোঃ এতে বাড়ির দিক দিয়ে সহযোগিতা নিশ্চয় পাবেন?
রিজভীঃ পুরোমাত্রায় পাব। আমার বাবা প্রয়াত হয়েছেন বছর কয়েক আগে। তিনিও ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। কিন্তু খুবই সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর অনুপ্রেরণা,দোয়া আমি পেয়েছি। এখনও তিনি আমার সঙ্গেই রয়েছেন বলে মনে হয়। আর আমার আপুও গানের জগতের মানুষ। তাই এসব নিয়ে থাকতে পারিবারিক দিক দিয়ে ফুল সাপোর্ট পাব।
সাদাকালোঃ গান ও নাটকে আপনার একেবারে সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কিছু বলুন।
রিজভীঃ অল্প কিছুদিন আগে সাদ শাহের সুরে,মাসুম আহমেদের লেখা একটি গান গেয়েছি। ‘আমার যতো ভাবনা’। গানটা নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। আমার বিশ্বাস সাদাকালোর পাঠকদেরও গানটা ভাল লাগবে। আর নাটকের ক্ষেত্রে,আমাদের প্রোডাকশন হাউসের নতুন নাটক ‘ছোট্ট একটা শব্দ’ বের হবার মুখে। এখানে আমার গাওয়া একটা গান রয়েছে। কথা ও সুর আমারই। তো, নাটক এবং সেখানে আমার নিজের গাওয়া গান নিয়েও প্রচুর প্রত্যাশা রয়েছে।
সাদাকালোঃ আমাদেরও শুভকামনা রইল। সাদাকালোর জন্য এতটা সময় দিলেন, অসংখ্য ধন্যবাদ।
রিজভীঃ ধন্যবাদ আপনাকে ও সাদাকালো টিমকে।