গল্পঃ ছোটদের ছোট ছোটগল্প ( শেষ ধুতি)

7 / 100 SEO Score

ছোটদের ছোট ছোটগল্প 

Ami Mishuk | আমি মিশুক গল্পঃ ছোটদের ছোট ছোটগল্প ( শেষ ধুতি)

শেষ ধুতি

পন্ডিতমশাই টুকলি ধরেছেন। ঘরে ঘরে সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে। রটবারই অবশ্য কথা। পন্ডিতমশাই টুকলি ধরেছেন এমন তথ্য এ ইস্কুলে কেউ দিতে পারবে না। একটু ভুল হল। এমন অঘটন এই ইস্কুলে কেউ ভাবতেও পারবে না।
পরীক্ষার লাস্ট বেল পড়ার পরে খাতা নিয়ে বেরিয়েছি সবাই। দেখি পন্ডিত মশাই চলেছেন হনহন করে। একহাতে ঘরের সব খাতা,আর একহাতে সেই টুকলির বান্ডিল। আমরা কয়েকজন ছোকরা শিক্ষক দৌড়ে ধরে ফেললাম পন্ডিতমশাইকে। দেখি, এই প্রথম টুকলি ধরেই পন্ডিতমশাইয়ের চোখে,’আমার কাছে চালাকি!’ জাতীয় অহঙ্কার।-‘কীভাবে ধরলেন?’ সাত্যকি টুকলিটার দিকে তাকিয়ে শুধোয়।রেগে ওঠেন পন্ডিতমশাই।-‘কীভাবে মানে! যেভাবে তোমরা ধরো সেভাবেই-‘-‘তাহলে এতদিন…’,মুখ ফসকে বেরিয়ে যায় আমার।-‘এতদিন! ওই যে বলে না,কিউর ইজ বেটার দ্যান প্রিভেনশন,আমি আগাম ব্যবস্থা নিই। এত কড়া গার্ড দিই যে কেউ সাহসই পায় না ওসব বের করতে! আজ একটু বারান্দায় গিয়েছি শ্যামলকে দেখে,আর তাতেই-‘-‘একটু ভুল হল আপনার কথায়।’ফুট কাটে প্রশান্ত।-‘কী ভুল? আমি কড়া গার্ড দিই না!’-না না,আপনার গার্ড নিয়ে তো কোনও কথাই হবে না। আপনি পরীক্ষার ঘরে আসছেন দেখে ছাত্রেরা যেভাবে ‘ভয়ে’উল্লসিত হয়,তাতেই তো সেটা বোঝা যায়। আমি বলছি ভুল,ওই যে ইংরেজিটা বললেন। ওটা হবে-‘বলে প্রশান্ত সঠিকটা বলে।ভুল ইংরেজি পন্ডিতমশাইয়ের মুখে নতুন কিছু নয়। আমরা অভ্যস্ত। তাই চমকাই না। প্রশান্তের একটু ভুল ধরা অভ্যেস। সেজন্যই… ‘স্কুলের সেক্রেটারি,প্রেসিডেন্ট কীজন্য যেন স্কুলে এসেছিলেন। স্টাফরুমে এত বড় কাণ্ড ঘটানোর জন্য সবাই যখন পন্ডিতমশাইকে নিয়ে পড়েছে, সেসময় ওরাও এলেন।সেক্রেটারি আহাদ হোসেন পন্ডিতমশাইয়ের ছাত্র। স্যারের দিকে তাকিয়ে বলেন-‘ সাইকেলের দোকানে ছিলাম।খবরটা পেয়েই ছুটতে ছুটতে আসছি!’ছদ্ম হাঁফানোর ভান করেন সেক্রেটারি। প্রেসিডেন্টের মুখেও কৃত্রিম বিষ্ময়।-‘এই বয়সেও টুকলি ধরছেন,চোখ বটে আপনার!’পন্ডিতমশাইয়ের মুখে বিজয়ীর হাসি। কদিন আগে নতুন হেডস্যার তাঁর দিকে তাকিয়েই বলেছিলেন,’টুকলি ধরার জন্য আলাদা এলেম দরকার।’ আজ যেন তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন তিনি।মৌলবি স্যার ঘরে ঢুকে বলেন,’ এত বড় ঘটনা। সেক্রেটারি প্রেসিডেন্ট সবাই আছেন। একটু মিষ্টি সিঙাড়া হয়ে যাক। আমার গ্রুপের শিক্ষক,আমিই খাওয়াচ্ছি।’মিষ্টি সিঙাড়া আসে। সবাই খাওয়া শুরু করি। আমাদের ইস্কুলের শেষ ধুতি,সরল সাদাসিধে পন্ডিতমশাইকে নিয়ে আরও কিছু মজা মস্করা হয়। অন্যদিনের মত আজও এসব সম্ভব হয় পন্ডিতমশাইয়ের সস্নেহ প্রশ্রয়ের জন্যই।আসর যখন জমে উঠেছে,সেসময় রঙ্গভঙ্গ করে অঙ্কের নগেন। -‘আচ্ছা,আজ কীসের পরীক্ষা ছিল?’হেডস্যার নগেনের দিকে তাকিয়ে বলেন,’কেন অঙ্ক!’নগেন পন্ডিতমশাইয়ের টুকলির ব্যান্ডিলটা নাড়তে নাড়তে বলে-‘তাহলে টুকলিগুলো সংস্কৃতের হয় কী করে?’অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড বলে ওঠেন-‘ নগেনের যত ট্যারাবেঁকা জেরা! কেন অঙ্কের উত্তর কি কেউ দেবভাষায় দিতে পারে না!’এসময় আমরা দেখি সাদা ধুতির ঠোঁটের কোনে ধরা পড়ে যাওয়া সাদা হাসি।
এই মাধ্যমিক-টেস্টের দুমাস পরেই সাদা ধুতির সঙ্গে মিলিয়ে যাবে এই সাদা হাসিও। কারণ শেষ ধুতির ষাট পূর্ণ হতে আর কয়েকদিনই বাকি। 

Leave a Reply