কথাঃআবোলতাবোল (‘যতই নাগরিক হও,জীবনের কোথাও না কোথাও লুকিয়ে রাখ একটা গ্রাম’)

কথাঃ আবোলতাবোল 

‘যতই নাগরিক হও জীবনের কোথাও না কোথাও লুকিয়ে রাখ একটা গ্রাম।’পুরনো ডায়েরির পাতা ওল্টাতে  গিয়ে আজ হঠাৎ নজরে পড়ল লাইনটা।কী লিখতে গিয়েছিলাম? গদ্য না কবিতা? এক লাইনের পর লেখাটা যে মুখ থুবড়ে পড়েছিল,সে তো বুঝতেই পারছি। কিন্তু কথাটা আজও মানি কি? লুকিয়ে থাকা গ্রামটার জন্য সুবিধা অসুবিধা দুইই আমাকে পোহাতে হয়েছে,এখনও হয়। সুবিধার কথা আগে বলি। গ্রামটা ছিল বলে আজও পাঁচ কিমি রাস্তা অনায়াসে হাঁটতে পারি। রাস্তার ধারের ইট পাতা সেলুনে চুল ছাঁটানোর জন্য বসতে পারি নির্দ্বিধায়। দূরপাল্লার একক রেলযাত্রায় রিজার্ভেশন না পেলেও ‘কী হবে’ ‘কী হবে’ না করে বেরিয়ে পড়তে পারি। কিন্তু  ভেবে দেখেছি এসব সুবিধা খুব বড় কিছু নয়। তুলনায়  অসুবিধেগুলো অনেক বেশি। গ্রামটা আমার সঙ্গে লেপটে থেকে কিছুতেই আমাকে স্মার্ট হতে দেয় না। হতে দেয় না চালাক চতুর। যাঁর সঙ্গে ভাব হয় আগেপিছে না ভেবে বলে ফেলি নিজের সব কথা,যা পরে অনেক সময় সামলানো কঠিন হয়।এসব কি এযুগে কম অসুবিধার! তবু গা ঝাড়া দিয়ে গ্রামটাকে ঠেলব  সে উপায় নেই। একে তো এতদিন ধরে নিয়ে চলার অভ্যেস। তার উপর ওই,লেখার ভূতটা।রাত্রে লেখার টেবিলে যখন বসি তখন এক কোনে ঠাঁই বসে গ্রামটা আজও যোগান দিয়ে চলে, চিত্র,চরিত্র। আমাকে বিষয়সন্ধানে পথে নামতে হয় না,পথে বসতেও নয়। সেসব কতটুকু শিল্প হয় সে অবশ্য অন্য কথা।

Leave a Reply