গল্পঃ নব পথের পাঁচালী

গল্প নব পথের পাঁচালী কে মরবে? অপু না দুর্গা? দুর্গা একবার মরেছে,তাই আবার দুর্গার মৃত্যু হোক আমি চাই না। তাহলে কি অপু? হেসে ফেলি নিজের অজ্ঞতায়। যাকে নিয়ে উপন্যাস,মারা যাবে সে-ই! নিজেকে ধমকাই রেলস্টেশনের বেঞ্চিতে বসে। মৃত্যু কেন? মৃত্যু ছাড়া কি হতে পারে না এই নতুন পথের পাঁচালী? হবে,নিশ্চয় হবে। দুর্গাকে মেরে বিভূতিবাবু আমাদের বড্ড কাঁদিয়েছেন! আমি দুর্গাকে বাঁচিয়ে, অন্যভাবে নির্মাণ করে পাঠকদের আনন্দ দিতে চাই। রোজ বিকেলে চারটে হলেই বসি এই রেলস্টেশনে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করি ওদের। প্রথম দিন থেকেই ওদের মনে হয়েছে অপু দুর্গা। ছোট্ট একটা ভাইয়ের ছোট্ট একটা দিদি,অপু দুর্গা ছাড়া আর কী-ই বা মনে হতে পারে?…

1 Comment

ছোটদের গল্পঃ পুজোর মালা

ছোটদের গল্প পুজোর মালা   খবরটা বেশ কয়েকদিন আগেই কানে এসেছিল। কিন্তু তাতে খুব একটা গুরুত্ব দেননি বরদাবাবু। গুরুত্ব দেবেনই বা কেন? বাড়ির গেটের ঠিক আগে দু পাশে শিউলিগাছের তলা যে শরৎ পড়তেই ফুলে ফুলে ঢাকা। বাজারে যদি ফুল না ও পাওয়া যায়, এ দিয়েই তো কাজ চালানো যাবে। ৷ নিশিকান্ত এ বাড়ির একমাত্র পুরোনো কর্মচারী। তালপুকুরে ঘটি না ডুবলেও দুর্গাপুজোর মতো কিছু পুরোনো ঐতিহ্য যেমন এ বাড়িতে টিকে আছে,তেমনি টিকে আছেন নিশিকান্তও। বন্যার জন্য আশেপাশের বাজার থেকে ফুলের উধাও সংবাদ তিনিই বয়ে এনেছেন। বরদাবাবুর মত শিউলিগাছ দুটোর ভরসায় নিশিকান্তও রয়েছেন,কিন্তু সে বাবদে তাঁর চিন্তাও কিছু কম নেই। বিশেষ করে…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল -আমার স্কুটি

কথাঃ আবোলতাবোল   আমার স্কুটি     -‘একটা স্কুটি কিনলে কেমন হয়?’ -‘কেমন হয় মানে! বাইক-স্কুটি ছাড়া এযুগে চলে নাকি? রাতবিরেতে কত দরকার পড়ে! বাইক এই বয়সে চালনো শিখতে পারবেন না। কিন্তু স্কুটি চালানো খুব সহজ।’ -‘আমি পারব চালাতে?’ -‘পারবেন না কেন? মেয়েরা চালাচ্ছে-’ -‘মেয়েরা চালাতে পারলেই আমি পারব তার কী গ্যারান্টি! ছেলেরা পারে,এমন কোন কাজটা না   আজকাল মেয়েরা পারছে!’ -‘পারবেন,পারবেন। সাইকেল যখন চালাতে পারেন স্কুটিও পারবেন।’ স্কুটি কেনার আগে এই জাতীয় কথোপকথন আমার কার সঙ্গে না হয়েছে! কিন্তু মনস্থির করেও করতে পারছিলাম না। স্কুটি কেনার কথা মনে হলেই নানা ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার ছবি আমার মনের মধ্যে এসে হাজির হচ্ছিল।…

0 Comments

কথাঃমিথ্যুক(Mitthuk)

কথাঃ মিথ্যুক মিথ্যা কথা বলার জায়গা পাসনি? এত মিথ্যা কথা বল কেন? মিথ্যা বলা আপনার স্বভাব। এই হল, ‘তুই’, ‘তুমি’ আর ‘আপনি’ বেলায় আমার সম্পর্কে লোকের মূল্যায়ন। একটুও ভুল নয় কিন্তু। একেবারে সঠিক এই মূল্যায়ন। ছোটবেলা থেকেই আমি খুব মিথ্যে কথা বলি। আর এখন তো মিথ্যে বলাটা বেড়ে বেড়ে এমন জায়গায় গিয়েছে,যে আমাকে মিথ্যেবাদী বললে মিথ্যেবাদীদেরও রাগ হবে। মিথ্যে কথা বলা খারাপ সে আমিও জানি। কিন্তু কী করব? স্বভাব যায় না ম’লে। আমার মিথ্যে বলা প্রথম শুরু হয় স্কুলে। অমর,বিনয়,শমিত,অরুণেশ,বাবু,সুব্রত আমার স্কুলের প্রিয় সহপাঠী এদের কাছে। কারণে,অকারণে। ‘মিথ্যে বলার জায়গা পাসনি?’ ওদেরই কথা। সেসময়, একটা মিথ্যে বলার ঘটনা এখনও খুব…

0 Comments

কথাঃবাংলাসাহিত্যে ভূত (Bangla sahitye bhut)

কথা বাংলাসাহিত্যে ভূত ‘ভূতের গল্প’র শুরুতে উপেন্দ্রকিশোর লিখেছেন, ‘আমি ভূতের গল্প ভালবাসি। তোমরা পাঁচজনে মিলিয়া ভূতের গল্প কর,সেখানে আমি পাঁচ ঘন্টা বসিয়া থাকিতে পারি।’ শুধু লেখক উপেন্দ্রকিশোর নন,ভূতের গল্প বিষয়ে সকলেরই বোধহয় কমবেশি একই বক্তব্য। সেজন্য বাংলাসাহিত্যে আজও প্রচুর ভূতের গল্প লেখা হয়। ভূত আছে না নেই,সে তর্ক বৃথা। প্রমথনাথ বিশী একটা সুন্দর শব্দযুগ্ম উপহার দিয়েছেন, ‘সুখকর ভীতিবোধ।’ বিশ্বাস বা অবিশ্বাস নয়,ভূতের গল্পে সবাই বোধহয় এটাই পেতে চায়। অন্য গল্প পড়া বা শোনার ক্ষেত্রে হয়তো অনুষঙ্গ লাগে না। কিন্তু ভূতের গল্পের ক্ষেত্রে টিমটিমে আলো,ঘুটঘুটে অন্ধকার আর বর্ষা বা শীতের আবহাওয়া থাকলে বেশ জমে যায়। ভূতের গল্পের শুরুটা করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। তবে…

0 Comments

কথাঃ আবোলতাবোল-এই সব ঠকদের কাছে ঠকেও সুখ (ei sob thokder kache thokeo sukh)

কথাঃ আবোলতাবোল এইসব ঠকদের কাছে ঠকেও সুখ ‘কত করে নিল মাছটা?’ -‘তিনশো।’ - -‘ব্যাপক ঠকিয়েছে। বাজার ঘুরে দ্যাখো গে, এ মাছ হয়ত দুশোটাকা কেজিতে সেধে সেধে দিচ্ছে। আরও তুমি রোজ একজনের কাছ থেকে কেনো! দিনের সব লাভটা সন্দীপ মনে হয় তোমার কাছ থেকেই করে নেয়।’ বাজার থেকে ফেরার পর এ হল বাড়ির নিত্যকার কথোপকথন। সন্দীপ আমাকে ঠকায় কিনা জানার উপায়ও নেই। কারণ বাজারে আমাকে দেখতে পেলেই সন্দীপের ডাক-‘তাড়াতাড়ি আসুন,টাটকা রেখেছি আপনার জন্য।’ এত আন্তরিক ডাক কি এড়ানো যায়? আমি যথারীতি ওর কাছে হাজির হই,এবং ঠকি (সত্যি ঠকি কিনা আমি জানিনা, এটা বাড়ির ভারসন) সন্দীপের আহ্বান আমি এড়াতে পারি না আরও…

0 Comments

কথা:বকুল কথা (Bokul Katha)

কথা বকুলকথা বসন্ত বন্দনায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন-‘নব শ্যামল শোভন রথে,এসো বকুল বিছানো পথে।’  ঋতুরাজ বসন্তের যথার্থ আবাহনই বটে! কেননা শিউলি না এলে যেমন শরতের চলে না,তেমনি বকুল ছাড়াও বসন্ত অপূর্ণ। শীত শেষে প্রকৃতির এই আশ্চর্য উপহার মানুষকে শিউলির মতোই উন্মনা করে দেয়।    একসময় পাতানো সম্পর্কে ‘গঙ্গাজল’ ‘মহাপ্রসাদ’ এর সঙ্গে ‘বকুলফুল’ ছিল বন্ধুত্বের স্মারকচিহ্ন। এছাড়া, যে সময় ফুল দিয়ে পুত্রকন্যাদের নামকরণ করা হত অহরহ,সে সময় শিউলি,জবা ইত্যাদির পাশে বকুলেরও ছিল যথেষ্ট সমাদর। জবা,শিউলির পাশে বকুলের কিছু বাড়তি সুবিধাও ছিল। জবা,শিউলি মানেই তো মেয়েদের নাম। বকুলের ক্ষেত্রে তা নয়। আশাপূর্ণা দেবীর ‘বকুল কথা’ যেমন বকুল নামের একটি মেয়ের গল্প,তেমনি নজরুল ইসলামের ‘বকুল’…

2 Comments

গল্পঃ অণু গল্প (অন্ধকার,আলো)/Anugolpo(ondhokar,alo)

অণুগল্প   অন্ধকার খেজুরগাছের নিচে কীসের একটা আওয়াজ হল। খড়মড়। চারদিকে জমাট অন্ধকার। কৃষ্ণপক্ষ চলছে। স্বদেশ  টর্চটা জ্বালাল। দেখতে পেল না কিছুই। তবু সাবধান হল। সিতুদের বাড়ির পুরো রাস্তা টর্চটা জ্বালিয়েই রাখল। -মামিমা! সিতুদের ঊঠানে এসেই হাঁকল স্বদেশ। -সোদেশ আইসস নাকি ? আয় আয়।    -আজ কী অন্ধকার মামিমা! আর আপনাদের রাস্তাটাও খুব জঙ্গলে ভরে গেছে। -তোর মামা তো লুক খুঁজতাসে কাটনের লেইগ্যা। আজকাল লুক মেলাই দুষ্কর। পূজা আইতাসে। ঝুপঝাড় একটু না কাটলে পোলাপানেরা রাইতে ঠাকুর দেখতে বাইর হইব কুন সাহসে! সিতু ইত্যবসরে চা বানিয়ে হাজির ।– স্বদেশদা চা। -আবার চা করলি কেন? - লবানকে দেখছি না! স্বদেশ তাকাল এদিক সেদিক। -লবানরে একটু দুকানে পাঠাইসি। তেল আনতে। এই সিতু একটু যা তো হ্যারিকেনডা লইয়া। অন্ধকারে নিমগাছটার তলে ও খুব…

0 Comments

কথাঃ গরুর গাড়ির ক’টি চাকা

Gurur Garir Kota chaka কথাগরুর গাড়ির ক'টি চাকা আলাপনের বিয়েতে বরযাত্রী যাচ্ছি। পিচঢালা মসৃন রাস্তা। চারচাকা এসিতে আলাপন। পাশে আমরা ক'জন।-'আমার বিয়েতে সবাই গিয়েছিলাম বাসে।'  কিছুটা যেতেই বললেন এক বয়স্ক সহকর্মী।সমবয়সী সহকর্মী বন্ধু  তমাল এক বয়স্ক সহযাত্রীকে শুধোল-'কাকু আপনিও কি বাসে গিয়েছিলেন বিয়ে করতে?' বরবেশী আলাপন রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল-'কাকুর বিয়ের গাড়ির কথা শুধোচ্ছিস? আমি জানি। বাবার মুখে শোনা। কাকু বিয়ে করতে গিয়েছিল দশচাকার গাড়িতে।'-'দশচাকার গাড়ি!' তমাল শহুরে ছেলে,বুঝতে না পেরে তাকাল আলাপনের দিকে।আমি হেসে বললাম-'দশচাকার গাড়ি মানে হল গরুর গাড়ি।'দশচাকার গাড়ির রসিকতা  তমাল বোঝেনি।   এখনকার শহুরে ছেলেরা তো আরও বুঝবে না!  গ্রামের ছেলেরাও কি বুঝবে? সেদিন গ্রামের বাড়িতে শরৎচন্দ্রের…

1 Comment

চল পানসিঃইতিহাসের স্পর্শ পেতে নালন্দায় ethihaser sporsho pete nalanday

ভেবেছিলাম নালন্দা দু'তিন ঘন্টায় দেখে নিয়ে আশেপাশের আরও কিছু জায়গা ঘুরে নেব। কিন্তু নালন্দায় গিয়ে একেবারে মজে গেলাম, টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকতেই এক প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় তার হারানো ঐশ্বর্যের স্মৃতি দিয়ে অবশ করে ফেলল।  আমাদের গাইড নালন্দা নিয়ে বই লিখেছেন। তাঁর কাছ থেকে জানা গেল একদা দশ হাজার ছাত্র এবং দু'হাজার শিক্ষকের আবাসিক এই শিক্ষামন্দিরের সুনাম শুধু দেশে নয়,দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

0 Comments

কথাঃ পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছিল শেরফুলের মা (pisima k ata ene diyechilo sherfuler ma)

কথাঃ পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছিল শেরফুলের মা (pisima k ata ene diyechilo sherfuler ma) কথাঃ  পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছিল শেরফুলের মা পরীক্ষার খাতায় পিছনের দিকের ছাত্রদের হাবিজাবি উত্তরের সঙ্গে আমরা শিক্ষকেরা কমবেশি সকলেই পরিচিত।সেই হাবিজাবি উত্তরের মধ্যে এবার একটা ভিন্ন রকম কথা পাওয়া গেল। সহকর্মী শিক্ষকবন্ধু  ক্লাস নাইনের ভৌত বিজ্ঞানের শেষ মূল্যায়নের খাতা দেখছিলেন। কথাটা দেখালেন উনিই। প্রশ্ন ছিল,ব্লেড জলে ভাসে কোন ধর্মের জন্য। উত্তরে একটি ছেলে লিখেছে,হিন্দু ধর্মের জন্য। এটা সংশ্লিষ্ট ধর্মের গরিমা না নিন্দা,নাকি কোনওকিছুই না ভেবে লেখা,তা ছাত্রটিই জানে। কিন্তু   পারিপার্শ্বিক ঘটনা যে কোমলমতি ছাত্রদের মনেও প্রভাব ফেলছে,এটা পরিষ্কার। আমি জন্মেছি এই দেশে। কিন্তু আমার পূর্বপুরুষ দেশভাগের ক্ষত নিয়ে একদা উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিলেন এখানে। শুনেছি, দেশ পরিবর্তনের কারণে ধনী থেকে রাতারাতি গরিব হয়ে গিয়েছিলাম আমরা। আমাদের  মানুষ করে তুলতে  সীমাহীন শ্রম এবং অশেষ কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল বাবা মাকে। কিন্তু তার জন্য তাঁদের কখনও বলতে শুনিনি, এর জন্য দায়ী মুসলিমেরা।  যে কষ্ট,দুর্গতি এদেশে এসে প্রথমদিকে তাঁরা পেয়েছিলেন,তা তাঁদের প্রাপ্য ছিল না,কিন্তু দেশ যে সাধারণ মানুষ ভাগ করে না,এ বোধবুদ্ধি তাঁদের ছিল। তাই কখনও প্রতিবেশী ধর্মের মানুষদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে দেখিনি তাঁদের। উল্টে চিন্তায় আচরণে তাঁদের মধ্যে দেখেছি মিলনের,মানিয়ে চলার মানসিকতা। মানুষকে ভালবাসতে গেলে ধর্মপরিচয়কে পাত্তা দিতে হবে এমন হীন প্রবৃত্তি তাঁদের ছিল না। এদেশে এসে বাবা প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতার কাজ পেয়েছিলেন। মনে আছে, সেসময় ক্লাস ফোর থেকে  ফাইভে যেতে  পাস করতে হত যে ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষা তার জন্য গরিব প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকটির বাড়ির মাটির দাওয়ায় খেজুর পাতার মাদুর বিছিয়ে চলত পরীক্ষার আগে ফ্রি কোচিং।  সেখানে এসে বসত যেমন পুষ্কর,সাধনে্রা তেমনই থাকত আজাহার,ইমরান হাবিবের মত গরিবেরাও।  একটা দহের উপর কাঠের স্ল্যাব-পাতা ব্রিজ পেরিয়ে বাবা স্কুলে যেতেন। কাঠের স্ক্যাবগুলো বেশ কিছুটা   ফাঁক দিয়ে দিয়ে পাতা। ফলে একটু অসাবধান হলেই ফাঁক গলে নিচে পড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকত। বাবা যখন পঁয়ষট্টির কোঠায় এসেও আর্থিক কারণে এক্সটেনশন নিয়ে রয়ে গেছেন শিক্ষকতায়, চোখে  ছানি, কানেও শোনেন কম,তখন কোনওদিন উল্টো দিক থেকে ব্রিজ পার হয়ে এসেও দাঁড়িয়ে যেতেন  শরিফদা বা সালামদা কিম্বা সিরাজ সেখের মত কেউ। হাত ধরে বাবাকে আবার ব্রিজটা পার করে দিয়ে  আসতেন। সিরাজ সেখ ছিলেন বাবার অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। হঠাৎ একদিন,বলা নেই,কওয়া নেই হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন তিনি। সেদিন বাবারও স্কুল কামাই, এবং তিনি বেপাত্তা। পরে শুনেছিলাম,ত্রিসন্ধ্যা আহ্নিক না করে জলস্পর্শ না-করা প্রবল ধার্মিক মানুষটি  বেলা তিনটে অব্দি ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিলেন বন্ধুর কবরে ধূপকাঠি গুঁজবেন বলে। বাবা যেদিন মারা গেলেন আমাদের প্রাক্তন অঞ্চলপ্রধান আশরাফ মুন্সী,বার্ধক্যের বাধা নিয়ে তিন কিলোমিটার হেঁটে আমাদের বাড়িতে এসে এমন ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন যে শোকের বাড়িতে আমরা ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম তাঁকে সামলাতেই।   ধর্মপরিচয়কে দূরে রেখে পরস্পরের মধ্যে এই প্রীতির বন্ধন,কিন্তু মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। ছিন্নমূল হয়ে এদেশে আসা পরিবার আমাদের ছোট্ট গ্রামটায় একেবারে কম ছিল না। কিন্তু কোথাও ধর্ম এসে পরস্পরের মধ্যে দেওয়াল তুলেছে,এরকম দেখিনি। বরং উল্টোটাই দেখেছি। পাতানো কাকির প্রতি ভালবাসায় দূর গ্রাম থেকে প্রতিবেশি পিসিমাকে আতা এনে দিয়েছেন শেরফুলের মা। খেলতে গিয়ে পা ভেঙে যাওয়া বাবলুদাকে দু মাইল রাস্তা কাঁধে করে বাড়ি নিয়ে এসেছেন রহিম রাজমিস্ত্রি। প্রফুল্ল স্যারের গাছের বড় কাঁঠালটা বরাবর দেওয়া হয়েছে বস্তর আলির বাড়িতে। দেশভাগের দগদগে ঘা নিয়ে এদেশে এসেও বিদ্বেষবিষ থেকে  পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন আমাদের বাবা মায়েরা এবং চারপাশের বহু মানুষ। আমরা দেশভাগের দুঃখ না পেলেও ফল ভোগ করেছি বিস্তর। কিন্তু কই তার জন্য তো আমাদেরও কখনও মনে হয়নি হাসানুলের সঙ্গে হারাধনের বন্ধুত্ব হতে পারবে না। যে জাতি-জটিলতা কখনও মনেই আসেনি এতবছর পরে  নিশ্চয় অন্য কারও প্ররোচনায় নতুন করে তাকে ফিরিয়ে আনব না। আর এড়িয়েও যাব তাঁদেরকে যাঁদের মধ্যে রয়েছে এই জাতি-জটিলতা।   এর সঙ্গে ধর্মাচারণকে গুলিয়ে ফেলার কোনও কারণ নেই। আমার জামার তলায়ও পৈতে রয়েছে। ছিঁড়ে যাবার মুহূর্তে এখনও ব্যস্ত হয়ে যাই আর একটা…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্যিক/সাহিত্যিক (ছবির রবীন্দ্রনাথ ) chobir rabindranath

  গল্পঃ সাহিত্য/ সাহিত্যিক  ছবির রবীন্দ্রনাথ পরমাণুবাদের জনক জন ডালটনের নাম আমরা সবাই জানি। চিকিৎসাবিজ্ঞানেও ডালটন দিয়ে একটি শব্দ আছে। ডালটনিজম। এটিরও মূলে ওই বিজ্ঞানীই। ডালটনিজম কিন্তু একটা রোগ। সাদা বাংলায় এর নাম লালকানা। অর্থাৎ লাল রং না দেখতে পারার রোগ। কেন এমন নাম? আঠারো-উনিশ শতকের বিজ্ঞানী জন ডালটন নাকি ছিলেন প্রবলভাবে লালকানা। শোনা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে তিনি সকলের রক্তবর্ণ গাউন পোশাকটিকে দেখেছিলেন বটল-গ্রিন বা বোতল-সবুজ। তাঁর নাম থেকেই রোগটির অমন নাম হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর আরও একটা নাম আছে। প্রোটানপ। প্রোটানপ-আক্রান্ত রোগীকে বলা হয় প্রোটানপিক।বিষয়,ছবির রবীন্দ্রনাথ। তবু বর্ণান্ধতা-সংক্রান্ত একটি রোগ নিয়ে দু চার কথা বলা কিন্তু একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক নয়।…

0 Comments

গল্পঃ ভদ্র অভদ্র,Bhodro Abhodro

গল্প  গল্প ভদ্র অভদ্র   ভদ্র হবার অনেক জ্বালা। রাগ হলেও খারাপ কথা বলা যায় না। সারাদিনে ক্রমাগত রাগ গিলে যেতে হয়। তারপর রাত্রে বিছানায় শুয়ে শুধু ছটফট আর ছটফট। সত্যি কী ভাবে এরা! সব প্রশ্নই করা যায়! সব থেকে পাজি ঐ গরুর ডাক্তারটা। কবে রিটায়ার করেছে , এখনও মরার নাম নেই। বিকেল হলেই হাঁটার নাম করে স্টেশন। কিন্তু হাঁটা তো গৌণ , চেনা অচেনা একটা লোক ও পাশ দিয়ে যাবার উপায় নেই। কৌতূহলী দৃষ্টি একেবারে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। অনেক সময় অচেনা লোক নিজের থেকেই নাম ধাম গন্তব্য বলে চলে যায়। কানাই যেহেতু মাসে বেশ কয়েকবার বাড়ি আসে। আর ফেরে এই সন্ধের ট্রেনে , তাই এই হাঁটুরেদের পাল্লায়…

0 Comments

কথাঃজাতীয় শিক্ষানীতি২০২০

কথাঃজাতীয় শিক্ষানীতি২০২০(National Educational Policy 2020 কথাঃ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ -‘সবচেয়ে ভাল লাগে কোন বিষয়গুলো?’ আজকাল এই প্রশ্নের জবাব ভাল ছাত্রদের কাছ থেকেও পাওয়া কঠিন। ফলে প্রশ্নটাকে আরও ভেঙে ভেঙে করতে হয়। -‘অঙ্ক কেমন লাগে?’ -‘খুব ভাল স্যার।’ -‘ইংরেজি?’ -‘ভাল। তবে বাংলাটা বেশি ভাল।’ -‘আচ্ছা। -ইতিহাস?’ -‘ভাল না।’ -‘ভূগোল?’ -‘খুব ভাল স্যার।’ -ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রির মধ্যে কোনটা অঙ্ক,ইংরেজি,ভূগোলের মত ভাল লাগে?’ -‘ফিজিক্স,ফিজিক্স স্যার।’ -‘আর বায়োলজি?’ -‘দারুণ লাগে,দারুণ স্যার।’ মনে মনে ছাত্রের খুব ভাল লাগা বিষয়গুলো জড়ো করি এক জায়গায়। অঙ্ক, বাংলা,ভূগোল,ফিজিক্স, বায়োলজি। বিচিত্র এক পাঁচের সংকলন। চলতি নিয়মে, এইচ এসে  বাংলা বাদে বাকি চারের অবস্থান একই গ্রুপে। যেখান থেকে মোট চারটে সাবজেক্ট নেওয়া যাবে না তা নয়। তবে একটিকে থাকতে হবে গুরুত্বহীনের কোঠায়।  পরীক্ষায়  অন্য তিনের কেউ বিপাকে পড়লে, সে যদি সুবিধাজনক জায়গায় থাকে তবে বিপাকে  পড়াকে     মিউট করে তার বাটন জ্বলে উঠবে। আর বাংলার মত ইংরেজি কম্পালসারি বিষয়, বাদ দেওয়া যাবে না কিছুতেই। এ গেল নিয়মের কথা। নিয়মের বাইরে আরও কিছু নিজেদের নিয়ম থাকে। যেমন এমনিতে অঙ্কের বিপরীত শব্দের নাম বায়োলজি। কিন্তু তবু সে থাকবে, এইচ এসের পর কেরিয়ারের নৌকোটাকে ডাক্তারি ইঞ্জিনিয়ারিং যে কোনও দিকেই যাতে চালনা করা যায়।  আবার ওই একই জয়েন্টের কারণে কেমিস্ট্রির কেরামতি অসহ্য লাগলেও তার তর্জন গর্জন মেনে নিতে হবে মুখ বুজে। এই পাঁচের দলে ভূগোল বড়ই বেমানান। চলতি নিয়মে এই দলে তার থাকাটা নীতিতে না আটকালেও  লাভালাভের হিসেবনিকেশ করতে গিয়ে সে বেচারাকে  মুখ নিচু করে বাইরেই দাঁড়াতে হবে ।…

0 Comments

কথাঃ সেই বাঁশি ফিরে আর আসবে কি?

কথাঃ সেই বাঁশি ফিরে আর আসবে কি?(sei bnasnhi fire ar asbe ki?) কথাঃ সেই বাঁশি ফিরে আর আসবে কি?    একটা জলের বোতল তোবড়ানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে ড্রেনটায়। একটা টিফিনকৌটোর ঢাকনা  ওয়ার্কশপের সামনের পেয়ারাগাছটার নিচে শুয়ে আছে কাত হয়ে। একটা ঝুলকালি লাগা পোশাক ঝুলছে গোডাউনের কাছের বিবর্ণ দড়িটায়। কিন্তু টাইম অফিসের সামনের ধাপিটার নিচে প্রায়-জীবাশ্ম অবস্থায় পড়ে কী ওগুলো? তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। অনেককষ্টে উদ্ধার হয়, একদা ওগুলো ছিল কারও  খাদ্যাবশেষ।  এতবছরের প্রাকৃতিক ক্রিয়াবিক্রিয়া সামলে কীকরে ওরা আজও টিকে থাকল,সেই বিষ্ময়ে ওখানে কিছুক্ষণ  দাঁড়িয়ে যাই চুপচাপ। কলরব মুখরিত সেইসব অতীত দিন হঠাৎই ছুটে আসে হু হু করে। কত মানুষ,কত মেশিন,কত কর্মব্যস্ততা! ওই তো নন্দীবাবু শেডে ঢুকছেন  চার নম্বর রিংফ্রেমে আগুন লাগার খবর পেয়ে। ক্যান্টিনে ও কীসের সোরগোল? নিশ্চয় ওয়ার্কারদের  ঠিকমত খাবার দেয়নি  ভেন্ডার। এদিকে কুন্ডুবাবু টাইমফিসে দাঁড়িয়ে আছেন চিন্তিত মুখে। ব্লোরুম চালাবার লোক আসেনি।   ভাবছেন ‘বদলি’ থেকে কাউকে নেওয়া যায় কি না। এসময় দোতালা থেকে নেমে সামনে হীরা পূজারকে চলে যেতে দেখে প্রধানবাবু চেঁচান-‘ও হীরা,হীরা,এই নোটিশবইটা ম্যানেজারের টেবিলে দিয়ে এসো তো!’ ‘অনেক ফুলগাছ লাগিয়েছি মিলের নানা জায়গায়। এসো দেখাই তোমাকে।’ সম্বিত ফেরে,বন্ধ মিলের  এখনও রয়ে যাওয়া এক অফিসারের কথায়। ওঁর সঙ্গে যন্ত্রের মত এগিয়ে চলি,মিলের নানা কোনে জিনিয়া ডালিয়ার সৌন্দর্য অবলোকন করতে।   জঙ্গলে ভরা বিশাল মিলটাকে অতীতের প্রেতচ্ছবি লাগে। শেডের সামনের রাস্তাটায় দেখি ঘুঘু চরছে  একজোড়া। ভিটেতে ঘুঘু চরার পিছনে আস্ফালনের একটা গল্প থাকে অনেকসময়। এই ঘুঘু চরে বেড়ানোর পিছনে আর  যাই হোক কোনও আস্ফালন ছিল না। অথচ আজ বাস্তব এটাই যে সব কলরব থেমে গেছে। মিলের ভোঁ  বাজে না আর। বিটি রোডের ধারের গল্প লেখার জন্য সমরেশ বসু ছিলেন। কিন্তু রায়গঞ্জ থেকে বালুরঘাটগামী রাজ্য সড়কের ধারে এই  সুতো মিলের গল্প লিখবে কে?   শিল্পে অনগ্রসর উত্তরবঙ্গ যথেষ্ট আশা নিয়েই তাকিয়েছিল সেদিন সদ্য চালু হওয়া ঝাঁ-চকচকে এই   মিলখানার দিকে। ১৯৮৫ সালের ২ ডিসেম্বর কমার্শিয়াল প্রোডাকশন চালু হতে এলাকার কর্মী মানুষজনেদের  দিনযাপনেও মিশে গিয়েছিল মিলের আওয়াজ। মিলের নানা বিভাগ আর  সেখানকার মেশিনারি ঘিরে নানা অচেনা শব্দ ধীরে ধীরে পাকাপাকি প্রবেশ করেছিল তাঁদের শব্দভান্ডারে। ‘ববিন’ ‘পিসিং’ ,স্ল্যাইভার’ ‘ডফ’, ‘হ্যাঙ্ক’ এসব শব্দ শেষঅব্দি হয়ে উঠেছিল তাঁদের জীবনেরও শব্দ। ২০০০ সালের গোড়া থেকেই নানা কারণে মিলের অবস্থা টালমাটাল।তবু চলছিল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। সবাই ভাবছিল সেই গানের কথার মতই,we shall overcome some days.কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানো আর হয়নি।  সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক ছিল মেশিনপত্রের অনাধুনিকতা। অন্য কারণ আজ আর কাটাছেঁড়া না করাই ভাল। ২০১১ সালের ১১ জুলাই। পাকাপাকি বন্ধ হয়ে গেল প্রোডাকশন।‘ মিল না চললে,কী হবে আমাদের’ এই হাহুতাশ কর্মীদের মধ্যে ২০০৬ থেকেই শুরু হয়েছিল। প্রোডাকশন পাকাপাকি বন্ধ হতে,বেতন চালু থাকলেও,বাতাস ক্রমেই ভারী উঠেছিল দুশ্চিন্তায়।   বসে বসে বেতন কেউ বেশদিন দেয় না। বন্ধ মিলের কর্মীদের দুর্গতির গল্পটা সকলেরই জানা। কলকাতার  আশেপাশে বন্ধ হয়ে যাওয়া  বেসরকারি,আধা  সরকারি মিলের কর্মীদের ঋণভারে জর্জরিত হয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নেবার নানা গল্প উড়ে এসে তখন জুড়ে বসছে কর্মীমানুষগুলোর চিন্তার দাঁড়ে। তেমন ভবিতব্যই কি তবে অপেক্ষা করে আছে তাঁদের জন্যও! ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হল সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের সরকারি নানা বিভাগে বদলি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কর্মীরা। অনিশ্চিতের জীবন এসে নোঙ্গর ফেলল নিশ্চিন্ততার ঘাটে। কিন্তু মনের সুখ কি অতই সোজা! মিল থেকে রায়গঞ্জ বিডিও অফিসে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন রিংফ্রেমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিটার অমিত রায়। তিনি আজও মিলের সেই দিনগুলোকে দারুণভাবে ‘মিস’ করেন। একমাস আগে পেনসন সংক্রান্ত কাজে গিয়েছিলেন মিলে। বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। যে মিলে কেটেছে তাঁর যৌবনের রঙীন দিনগুলো কখনও আনন্দে কখনও বেদনায়,যেখানে বন্ধুত্বের উষ্ণতায় খুঁজে পেয়েছেন বাকি জীবনের রসদ,  এ কী অবস্থা হয়েছে তার! সেদিনের কথা স্মরণ করে ফোনের অপর প্রান্তে শ্রীরায়ের কণ্ঠস্বরে আজও বিষণ্নতার ছোঁয়া।   রায়গঞ্জের বছর একত্রিশের যুবক অরিজিৎ যখন নবম দশমের ছাত্র,বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়ই যেতেন মিলের  দিকে ঘুরতে। দেখতেন মিলের গেটে ‘শিফট চেঞ্জ’এর সময় কর্মীদের জমায়েত। মিলের ভোঁ পড়লে,  রাস্তায় ভিড়ের জন্য দাঁড়িয়েও যেতেন অনেকসময়। তিনি আজও,তাঁর শিক্ষকতার পেশায় অবসর পেলে, বিকেলের দিকে যান ওদিকে। মিলের তিনি সে অর্থে কেউ নন,কিন্তু আলোকিত চত্বরের জমাট আঁধারটা বুকে এসে ঝাপটা দেয় তাঁর। নীরব হয়ে যাওয়া ওইটুকু রাস্তা পার হতে বেশ কষ্ট হয় অরিজিতের। আর চলে গিয়েও ফিরে ফিরে একসময়ের কর্মস্থানটা দেখতে আসা সেদিনের সুপারভাইজার? ‘আমি যন্ত্রের  মতো এ মেশিন থেকে সে মেশিন ঘুরে বেড়াই…আনমনে রিংফ্রেমের স্পিন্ডিল থেকে ববিন  তুলে ছেঁড়া সুতো জোড়া দিই। আনমনে স্পিডফ্রেমের তৈরি রোভিং রিংফ্রেমে লাগাই। আনমনে ড্রফ্রেমের স্ল্যাইভার জুড়ি। আনমনে কার্ডিং মেশিনে কটন ফাইবারের ওয়েব নিরীক্ষণ করি। আনমনে ঘুরে বেড়াই  ব্লোরুম। আবার শুরু থেকে যখন একেবারে শেষ ডিপার্টমেন্ট রিলিংএ পৌঁছাই তখনও আমার অন্যমনস্কতা  কাটে না।…মনে হয় সুতো  তৈরির এ কারখানায় যেন আমি আনপড়…’, জীবনের ট্রাজেডি এটাই সেদিনের সেই আনপড় সুপারভাইজারের ক্লান্তিতে ভিজে যাওয়া ডায়েরির পাতা আজও কিন্তু রাত্রি গভীর হলে বাজিয়ে দেয় মিলেরই বাঁশি। বাস্তবে সে বাঁশি কি বেজে উঠতে পারে না আবার? বিশাল জমি আটকে পড়ে আছে মিলখানা। সুতো গেছে হতেই পারে অন্যকিছু। শিল্পদীন উত্তরবঙ্গে নতুন একটা শিল্পের স্বপ্ন কিন্তু এই মিল ঘিরে আজও রয়েছে সেখানকার মানুষজনের মধ্যে।

0 Comments

গল্পঃ অণুগল্প (গোপাল, রাখাল)

 অণুগল্প      গোপাল    -শুনছেন,কলকাতায় আপনার একটা মূর্তি ভাঙা হয়েছে?    -কে ভাঙল? রাখাল না গোপাল? -গোপাল। -আমিও সেটাই ভেবেছিলাম। -কেন কেন? আপনার বর্ণপরিচয়ে তো রাখালই মন্দ ছেলে ছিল আর  গোপাল  ছিল অতি সুবোধ বালক। -আমার উপর গোপালের রাগের কারণ তো সেটাই। তোদের এক বাঙালি কবি  অনেক কাল পরে লিখেছিল না, ‘রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি।’ গোপালকেও বর্ণ পরিচয়ে সেটাই করে রেখেছিলাম। ছোটবেলায় কার না রাখাল হতে ইচ্ছে হয়?  গোপালেরও হয়েছিল।  হতে পারেনি আমার জন্য। -আপনি যা ভাবছেন তা কিন্তু নয়? এ গোপাল আপনার গোপাল নয়। -কীরকম? -এ গোপাল হল gopal,gang of party approved lumpens.-কী, চমকে গেলেন? -না চমকাইনি। চমকানোর রোগ তো মর্ত্যেই চলে গিয়েছিল। -কিছু বলবেন না,এত বড় ঘটনা! - ঘটনাটা খুব বড় মনে হচ্ছে তোর কাছে? তোদের  যারা  ওখানে লাফালাফি করছে তাদের মুখের বচনের যা বাহার,বছরভর কাজকর্মের যা ছিরি তাতে আমার আসল মূর্তিটা ওখানে তৈরিই তো হয়নি  কোনওদিন- বাইরেরটা তা সে আমার গোপাল ভাঙুক বা তোদের gopal, আমার কিন্তু কিছু এসে যায় না। -তাহলে? -আমার আর একটা মূর্তি বানিয়ে নিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। আমাকে না হলেও ওদের চলবে,কিন্তু আমার মূর্তি ছাড়া…   -আপনাকে একটা খবর দিই। মূর্তি বানানো হয়ে গেছে। -তাই! কিন্তু পাথর না পঞ্চধাতু? রাখাল -হঠাৎ কী মনে করে? -এলাম,কেন আমার আসাটাও কি দোষের?  -না,দোষের নয়। তবে অস্বস্তির। বল কী বলবি? -বলছি, বাঙালিকে তো আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এত করেও আমার দোষগুলো কমাতে পেরেছেন কি? চেয়ে দেখুন,চারদিকে এগুলোরই বাড়বাড়ন্ত। আর যাকে আপনি গোপাল ভেবেছিলেন, সেও কম যায় না। হয়ত পড়াটা ঠিক করত। মা বাবার সামনে ওদের বিরুদ্ধে যেত না। কিন্তু সেটাকে সত্যি…

0 Comments

কথাঃ পার্থেনিয়ামের সংসার

কথাঃ  পার্থেনিয়ামের সংসার                                                         মুর্শিদাবাদ লাইনে তেমন ঘেঁটুফুল না দেখলেও রেলরাস্তার দুধারে অনেক জায়গাতেই ঘেঁটুফুলের সৌন্দর্য সেদিন দু চোখ ভরে উপভোগ করেছিলেন বিভূতিভূষণ। গত শতকের ত্রিশের দশকের শেষে বেলডাঙায় কর্মসূত্রে আসা ভাইয়ের কাছ থেকে ঘুরে গিয়ে দিনলিপিতে সেই রেলযাত্রার কথা তিনি লিখেওছিলেন।    বিভূতিভূষণ এখন এলে তিনি হয়ত লিখতেন রেললাইনের দু ধারে ফুটে থাকা আর একটি ফুলের কথাও। সেটি পার্থেনিয়ামের ফুল। এই ফুল দেখে বিভূতিভূষণ সাময়িক মুগ্ধতা কাটিয়ে হয়ত চিন্তিতই হতেন। কেননা, এই ফুলের যা গুণপনা তাতে এ-ফুল নিয়ে যে কারও প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক হওয়া অসম্ভব। তবে এই কল্পিত রেলযাত্রার আগে পার্থেনিয়াম বিভূতিভূষণের অভিজ্ঞতার বাইরে থাকাটাও অসম্ভব হত।  কেননা এই বিদেশি আগাছার আগ্রাসন এখন এই রাজ্য তথা দেশের প্রায় সর্বত্রই। আর সত্যি বলতে কী ,গত শতকের পঞ্চাশের  দশকের মাঝামাঝি আমেরিকার গমের সঙ্গে এদেশে পা রাখা ‘কংগ্রেস ঘাস’ পার্থেনিয়াম এখন যেভাবে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে তাতে কীভাবে এর সাম্রাজ্যবিস্তার  আটকানো যায়, আমাদের মত হয়ত সে-চিন্তার শরিক হতেন তিনিও । এক থেকে দেড় মিটার লম্বা এই গাছের সাদা সাদা খুদে ফুলগুলোকে দেখলে কিন্তু প্রথম দৃষ্টিতে খারাপ কিছু মনেই হবে না। এবং হয়ত ধনে গাছের ফুলের কথা মনে পড়ে যাবে। আর মাথাতেও কি আসবে, ফুলগুলো ধারণ করে আছে যে গাছ সেটি বিশ্বের ভয়ানক সাতটা আগাছার মধ্যে একটি! এক-একটা গাছ বাঁচে তিন থেকে চার মাস। এর মধ্যেই ধরাধামে সে-গাছ অনেক ‘কীর্তি’ রেখে যায়।  সামান্য এই সময়ের মধ্যেই তিনবার ফুল ও বীজ দিয়ে দেয় । একটা গাছ থেকে উৎপন্ন বীজের সংখ্যাও প্রচুর। ১০ থেকে ২০ হাজার। আর এই বীজ এত ছোট যে হাওয়াতেই ছড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া তো রয়েছেই গবাদি পশুর গোবর,গাড়ির চাকার কাদামাটি পথচারীদের জুতো-স্যান্ডেলের তলা। এসবে আটকে বীজের এদিক সেদিক ছড়িয়ে যাওয়া খুবই  স্বাভাবিক ব্যাপার। পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকারক দিক একটা নয় অসংখ্য।  এই গাছের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শে এলে চর্মরোগ,হাঁপানি,শ্বাসকষ্ট,অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা ঢুকে যেতে পারে আমাদের  শরীরে। চর্মরোগের শিকার হতে পারে মনুষ্যেতর প্রাণীরাও। সাধরণত এই গাছ খাদ্য হিসাবে গবাদি পশুরা গ্রহণ করে না। কিন্তু এর তো আরেক নাম ‘দুর্ভিক্ষের আগাছা’। ঘাসের অভাবে যদি গবাদি পশুরা এই গাছ খাদ্য হিসাবে নিয়ে ফেলে, বদহজম,পেট ফুলে যাওয়ার মত নানা উপসর্গ দেখা দেয় তাদের। এছাড়া হতে পারে তীব্র জ্বর সহ অন্যান্য রোগও। পার্থেনিয়াম পেটে গেলে তার প্রভাব তাদের দুধেও এসে যায়। আর কৃষিজমিতে পার্থেনিয়াম একবার প্রবেশ করে গেলে ফসলের বিশাল ক্ষতি করে দেয়। পার্থেনিয়াম মাটির ভৌত ও  রাসায়নিক ধর্মেই কামড় দিয়ে বসে। ধান,ছোলা,সরষে, গম,বেগুন,লঙ্কার ক্ষেত্রে বীজের অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় উল্লেখযোগ্য ভাবে। ইতিমধ্যেই আমাদের দেশের কৃষিতে পার্থেনিয়ামের প্রভাব পড়ে গেছে অনেকটা। পার্থেনিয়াম দমন করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষির ক্ষেত্রে বলা যায় বিপর্যয়ই ঘটে যাবে। পার্থেনিয়াম নিয়ে সচেতনতা যেমন জরুরী তেমনই জরুরী পার্থেনিয়াম দমনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এ রাজ্যে বিচ্ছিন্নভাবে কোনও পুরসভা অথবা কোনও  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাঝে সাঝে পার্থেনিয়াম দমনে এগিয়ে আসে না তা নয়। পত্র-পত্রিকায় দেখাও যায় এই আগাছা দমনে তাদের অভিযানের বিবরণ। ছবিও ছাপা হয়,পার্থেনিয়াম কাটা এবং পোড়ানো,মাটিতে পুঁতে ফেলার। কিন্তু এ তো রক্তবীজের ঝাড়। প্রতিনিয়ত এর আগ্রাসনের যে হার,তাতে এইসব অভিযান প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।    আর এভাবে পার্থেনিয়াম পুরোপুরি দমন করা সম্ভবও নয়। একে তো গাছ কাটতে গেলেও গাছের সংস্পর্শে আসার একটা ব্যাপার থাকবেই,যাতে যাঁরা এই কাজটি করবেন তাঁদের শারীরিক ক্ষতির একটা সম্ভাবনা থাকবে; তার উপর এই কর্মসূচিতে ক্ষতিকারক এই আগাছা সমূলে বিনষ্টও হবে না। সুতরাং এর মোকাবিলায় অন্য পথ অবলম্বন করা ছাড়া গতি নেই। বেশ কিছু রাসায়নিক জলে গুলে স্প্রে করলে এই আগাছা দমন করা যায়। কিন্তু  পার্থেনিয়ামের যে বিপুল বিস্তার তাতে এটা যেমন খরচসাপেক্ষ তেমনি এই প্রক্রিয়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীনও নয়। সবচেয়ে ভালো জৈবিক পদ্ধতি। নানা ধরণের পাতাখেকো,ঘাসখেকো পোকার মাধ্যমে পার্থেনিয়াম দমন করা যায় বলে জানা গেছে। কিন্তু এসব এখনও রয়েছে,গবেষণার স্তরে এবং সীমিত প্রয়োগের মধ্যেই। কবে এই জৈবিক পদ্ধতিকে সর্বাত্মক করা যাবে,সে উত্তর অজানা। সব মিলিয়ে পার্থেনিয়াম নির্মূলীকরণ চিত্রটা এখনও অনেকটা ‘করা যায়’, ‘করা উচিত’এর স্তরেই। নেই সেভাবে সরকারি উদ্যোগ বা এই মর্মে গণজাগরণ। এরই মধ্যে পার্থেনিয়াম নিয়ে সাম্প্রতিক খবরাখবরও বেশ হতাশার। জানা গেছে এই গাছের পরিবেশের সঙ্গে  মানিয়ে চলা এবং বংশবিস্তারের ক্ষমতা এতই প্রখর যে এখনকার এই পরিবর্তিত জলবায়ুতেও তার হেরফের হবার সম্ভাবনা কম। ইতিমধ্যেই দেশের ৪.২৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি পার্থেনিয়ামের কবলে। আর বর্তমানকালের উষ্ণ জলবায়ুতেও দেশের ৬৫ শতাংশ জমিই নাকি পার্থেনিয়ামের জন্য অনুকূল। তবে এসব তথ্যও এখন বাস্তবের অনেকটা দূরে। কেননা, ‘করছি’, ‘করা উচিত’ করেও এই আগাছার নির্মূলীকরণ যেটুক হচ্ছিল সেটুকুও আজ অনুপস্থিত। তার উপর, মানুষ ও যানের…

0 Comments

প্রিয় লেখকঃ পাঁচনম্বর বাড়ির সেই গুণী মানুষটি

প্রিয় লেখক পাঁচনম্বর বাড়ির সেই গুণী  মানুষটি পাঁচনম্বর বাড়ির উত্তরের বারান্দায় ঠায় বসে আছেন তিনি। দৃষ্টি ছ'নম্বর বাড়ির দিকে নিবদ্ধ। পাঁচনম্বর আর ছ'নম্বর বাড়ির মাঝখানে সেদিন অগণিত লোক। এক মহাবিপদের আশঙ্কায় তারা প্রহর গুনছে। একসময় কে একজন এসে বলল-'স্নান করে নিন,খেয়ে নিন।'ফিরে তাকালেন তার দিকে। বললেন-'এই বাড়িতে বসে অনেক মৃত্যু দেখেছি,অনেক শোক পেয়েছি। আমার জন্য ভাবিস না,তোরা যা। আমি ঠিক সময়ে নাইব,খাব।'মুখে যতই বলুন,তবু বসে রইলেন অনেকক্ষণ। একসময় উঠলেন। স্নান-খাওয়াও সারলেন। কিন্তু এরপর আবার বেতের চেয়ারটায় বসে যেই পান মুখে দিতে যাবেন,ভেসে এল খবর। সব শেষ,রবি অস্তমিত। পান খাওয়া আর হল না।তাঁর প্রিয় রবিকা আর নেই! একটুকরো কাগজ আর রঙ…

0 Comments

গল্পঃ অণুগল্প (নাথিং,সামথিং)

গল্পঃঅণুগল্প (নাথিং,সামথিং)নাথিং ছাব্বিশ জনের মধ্যে এসেছে একুশ জন। বাকি পাঁচ জন দেশের বাইরে। যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি কলেজ। ছাব্বিশে একুশ,বেশ ভালো উপস্থিতি। মঞ্চ একেবারে ভরে গিয়েছে।একেবারে প্রথমে ডক্টর বিনয় সাক্সেনা,তারপর প্রফেসর কুশল বোস,তৃতীয় স্থানে বিজ্ঞানী আশিস তলাপাত্র...। এইভাবে দলের নামী দামিদের একেবারে শেষে দাঁড়িয়ে রয়েছে একজন অ-নামী,অ-দামি ব্যক্তি,নিত্যানন্দ। নিত্যানন্দ দাস। একটা বেসরকারি সংস্থার করণিক। বাদবাকি কুড়ি জনের পাশে যে, নিত্যানন্দের ভাষায়, 'নাথিং'।দলের মধ্যে নিজেকে কেমন বেমানান লাগে নিত্যানন্দের। এরকম ব্যাচ অনুযায়ী পরিচিতির পাঠ থাকবে জানলে এই পুনর্মিলন উৎসবে ও কিছুতেই আসত না।বিনয় নিজের কথা শুরু করেছে। ও বাবা,সামনের পর্দাতে  ফুটে উঠছে ওর কর্মক্ষেত্র,দৈনন্দিনের টুকরো। এসব বিনয় নিশ্চয়ই নিজের পেনড্রাইভে ভরে,সাপ্লাই…

0 Comments

প্রিয় লেখকঃ কিরীটী ও নীহাররঞ্জন

প্রিয় লেখক কিরীটী ও নীহাররঞ্জন 'প্রীতিভোজ উৎসব সুব্রতর বাড়িতে। আমহার্স্ট স্ট্রিটে প্রকান্ড বাড়ি কিনেছে সুব্রতরা। সে বাড়িতেই গৃহপ্রবেশ উপলক্ষে এই প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান। অনেক আমন্ত্রিতরাই এসেছেন। তাঁদের মধ্যে এসেছেন বিশেষ একজন। কিরীটী রায়।'এভাবেই রহস্যভেদী কিরীটী রায়ের আবির্ভাব। মোবাইল-কম্পিউটার পূর্ব যুগে যাঁর কার্যকলাপ পড়বার জন্য বাঙালির আগ্রহের অন্ত ছিল না।সে সময় শহর-গ্রামবাংলার লাইব্রেরিগুলো এখনকার মত নিষ্প্রাণ হয়ে যায়নি। প্রচুর পাঠক সমাগম হত। এইসব পাঠকদের একটা বিরাট অংশই ছিলেন ডিটেকটিভ উপন্যাসের পোকা। আর পছন্দের ডিটেকটিভ উপন্যাসের মধ্যে নীহাররঞ্জন গুপ্তের কিরীটী অমনিবাস ছিল এক নম্বরে।গোয়েন্দা কিরীটীর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণ, সমসাময়িক গোয়েন্দাদের মধ্যে  তিনি ছিলেন অনেকটাই আলাদা। কিরীটী বাঙালি।,কিন্তু মধ্যবিত্ত ঘেরাটোপের বাইরে তাঁর অবস্থান। নীহাররঞ্জন…

0 Comments

গল্পঃ ছোটদের ছোট ছোটগল্প (মিস ইউ কাঠঠোকরা)

 ছোটদের ছোট ছোটগল্প  মিস ইউ কাঠঠোকরা সারাদিন শুধু ঠকঠক আর ঠকঠক। কাঁহাতক সহ্য হয়! চোখের দুপাতা কিছুতেই এক করতে পারছি না। আর আমার চোখের দুপাতা এক না হওয়ায় বাড়ির সবার কী সমস্যা,কী সমস্যা!  আমাকে নিয়ে সবাই যাকে বলে একেবারে তটস্থ। এই বুঝি খোকা খাট থেকে পড়ে যায়। এই বুঝি বিছানায় গড়াতে গড়াতে  গিয়ে কোনের আলমারিটায় ঠোক্কর খায়। এই বুঝি হাত বাড়িয়ে জলের জগটা উলটে দিয়ে চারপাশ ভিজিয়ে দেয়। ওদের এরকম ভাবনা অকারণে নয়।সবগুলোই একাধিকবার হয়ে গিয়েছে আমার দ্বারা। এসব কিছু না হতে দেবার একটাই রাস্তা। আমার ঘুম। কিন্তু ঘুমোব কী,সারাদিন শুধু জানলার পাশের তালগাছে ঠকঠক আর ঠকঠক। বাবা বলে-‘কাঠঠোকরাটার এখনও বাসা…

0 Comments

গল্পঃঅণুগল্প (হার,জিত)

অণুগল্পহার -স্যার,সব কটা প্রশ্নেরই ভুল উত্তর দিতে হবে কিন্তু।না হলেই--ঠিক আছে।-বেশ বলুন,পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কী?-দিল্লি।-ধান থেকে কী পাওয়া যায়?-আটা।-সূর্য কোনদিকে ওঠে?-পশ্চিমে।-কটা প্রশ্ন হয়েছে স্যার?-তিনটে।সারা ক্লাস জুড়ে হইহই। কেননা শেষ প্রশ্নের উত্তরটা সঠিক দিয়ে ফেলেছেন।ওটা যে প্রশ্নেরই মধ্যে তা সদানন্দবাবু খেয়াল করেননি।অতএব হার।থার্ড পিরিয়ডে সেভেন সি তে কর্মশিক্ষার ক্লাসে মুখোশ দেখাচ্ছে ছেলেরা। হঠাৎ একজনের প্রশ্ন-স্যার,বলুন তো কোন জিনিস রাম পারে,রাবণ পারে না?ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সদানন্দবাবু বলেন-কেন জেতা।রাম জিততে পারে,রাবণ পারে না।-হল না স্যার। ওসব উত্তর নয়।  উত্তরটা হল,রাম গেঞ্জি পরতে পারে,রাবণ পারে না।হো হো হাসির রোল।মানে আবার হার।পঞ্চম পিরিয়ডে এইট এ তে  থার্ড বেঞ্চ থেকে সাত্যকি শুধোয়-স্যার,কোন জিনিস দেশেবিদেশে ঘুরে বেড়ায়,কিন্তু সে নিজের…

0 Comments

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক (ন্যাড়া নজর,nyara nojor)

গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(ন্যাড়া নজর) ন্যাড়া নজরদেখার যে নানান রকমফের আছে,এটা কোনও নতুন  কথা নয়। গানের লাইনেই তো আছে-'তুমি দ্যাখো নারীপুরুষ/আমি দেখি শুধুই মানুষ।' তবে ন্যাড়া নজরের ব্যাপারটাই আলাদা। এখানে দেখার স্বচ্ছতা আর বক্রতা  মিলেমিশে একাকার। সেজন্য এখানে যেমন কষ থাকে,তেমনি থাকে রসও।ন্যাড়া নজরের লোকদের কথাবার্তা স্বাভাবিকভাবেই বেশ মজাদার। যেমন প্যাঁচানো,তেমনি উইটের ছড়াছড়ি। অনেকটা মিছরির ছুরির মত অন্তরে সেঁধিয়ে যায়।আমাদের সাহিত্য মানে বাংলা সাহিত্য তো ন্যাড়া নজরের কারখানা। দীনবন্ধু,বঙ্কিম,কালীপ্রসন্ন,প্যারীচাঁদ তো বটেই অন্যান্য অনেকেই যখনই সুযোগ পেয়েছেন,নজরের সামনে থেকে কাব্যি কল্পনা সরিয়ে একেবারে ন্যাড়া চোখে চারপাশে তাকিয়ে প্রচুর রস ও কষের উৎপাদন ঘটিয়ে কখনও আমাদের মনের,কখনও আমাদের সমাজের আবার কখনওবা যুগপৎ দুইয়েরই সন্তোষ…

0 Comments

গল্পঃপাস্ট টেন্স

  গল্প        পাস্ট টেন্স                          সারাদিন টিপটিপ করে পড়ছিলই। সন্ধের পর সেটা বিশাল আকার ধারণ করল। একেবারে ‘বাদলের ধারাপাত’ বলতে যা বোঝায় তাই। পশ্চিমের জানলাটা দিয়ে সচরাচর বৃষ্টির ছাঁট ঘরে ঢোকে না। তাই বৃষ্টির সময় ওটা খোলাই থাকে। আজ কিন্তু বন্ধ করতে হল জানলাটা। পিকো পড়তে বসেই এ ঘর থেকে চেঁচাল-‘মা আজ রাত্রে ভাত রুটি কিচ্ছু নয়-আজ খিচুড়ি।’ অনিমেষ আজ অফিস থেকে ভিজে এসেছে। খিচুড়ির কথায় ওর মনটা নেচে উঠল। পিকোর পাশে বসে ল্যাপটপে কাজ করতে করতে বলল-‘এরকম দিনে খিচুড়ি হলে একেবারে জমে যাবে।’ -‘সঙ্গে ডিমভাজা,কী বলো বাবা!’ -‘ঠিক তাই। ছোটবেলায় এরকম ওয়েদার হলে তো বাড়িতে একেবারে বাঁধা ছিল খিচুড়ি ডিমভাজা। মা এর সঙ্গে অবশ্য আলু ভাজা,বেগুন ভাজাও করত। আর মার তৈরি খিচুড়ি-যেমন অপূর্ব তার গন্ধ,তেমনি চমৎকার তার স্বাদ। তুই তো খাবার সুযোগ পেলিনা। তোর জন্মানোর আগেই মা চলে গেল।…আর মা তো শুধু খিচুড়ি নয়,যে কোনও রান্নাতেই একেবারে তোদের ভাষায় ‘ফাটিয়ে’ দিত।’   ঠাকুমার রান্নার গল্প বাবার কাছে অনেকবার শোনা। অন্য সময় হলে পিকো আলাদা কোনও কথা পেড়ে বাবাকে থামাত।আজ ইচ্ছে হল না। বর্ষার দিনে পুরোনো কথা শুনতে বেশ ভালই লাগে। ঠাকুমার রান্নার গল্প আজ তাই পিকোর খারাপ লাগছিল না। অনিমেষ মায়ের রান্নার গল্পে ঢুকে গেলে একটু বেশি ইমোশোনাল হয়ে পড়ে।আজও তাই।অনিমেষ বলে চলে-‘একবার আমার জন্মদিনে মা ভাঁপা ইলিশ এমন রান্না করেছিল যে সবাই খেয়ে একেবারে মুগ্ধ।’ -‘বাপ মেয়েতে কী কথা হচ্ছে গো?’  সিরিয়ালের বিজ্ঞাপন বিরতিতে দীপিকা ও ঘর থেকে এসে দাঁড়ায় ওদের মাঝখানে। পিকো বলে-‘ঠাকুমার রান্নার কথা।’ পিকোর কথায় দীপিকার চোখেমুখে একটা নিস্পৃহ ভাব ফুটে ওঠে। বলে-‘তার মানে তোর বাবা এখন পাস্ট টেন্সে!’ আসলে শাশুড়ির সঙ্গে সদ্ভাব ছিল না দীপিকার।  কারণে অকারণে বড্ড কথা শোনাতেন মহিলা। মনে আছে,পিকো তখনও হয়নি। সেসময় এমনই এক বৃষ্টির দিনে শ্বশুর বাড়ির দেশের বিখ্যাত শ্রাবণীমেলা দেখতে গিয়ে দুজনে খুব ভিজে ফিরেছিল। ‘তুমি ছেলেটাকে ভিজিয়ে নিয়ে এলে’দিয়ে শুরু করে শাশুড়ি সেদিন দীপিকা্র বাপান্ত করে ছেড়েছিলেন। দীপিকা বলে-‘আমি প্রেসেন্ট টেন্সের লোক। হয়ত রসভঙ্গ করলাম।’ অনিমেষ দীপিকার শেষ কথাকে পাত্তা না সিয়ে আগের কথার খেই ধরেই বলে-‘ষাট হয়ে গেল,এখন কি আর সবসময় প্রেসেন্ট টেন্সে থাকা যায়? মন তো বয়সে একটু অতীতচারী হবেই-’ এবারে ঝাঁঝিয়ে উঠল দীপিকা।–‘এই বয়সে একটু অতীতচারী! তুমি তো বরাবরই অতীতের লোক।কতবার  বলেছি,একটা এ্সি কেনো-এত  গরমে টেকা যাচ্ছে না,রান্নাঘরটা কালি হয়ে যাচ্ছে-একটা চিমনি বসাও।বলেছি একটা ভাল টিভি কেনো-এই মান্ধাতা আমলের চোদ্দ ইঞ্চি টিভিতে আজকাল আর চলে না। কোনটাতে কান দিয়েছ তুমি? কোনও কিছু চাইলেই বলেছ,ওটা ছাড়াও তোমাদের কেমন সুখের ছিল আগেকার দিন! আর এখন ষাটে এসে বলছ-’ দীপিকার কথার ঝড়ে অনিমেষ মিইয়ে যায়। পিকো পরিবেশ সহজ করার চেষ্টা করে।-‘মা,খিচুড়িতে একটু ঘি দিয়ো,ভাল লাগবে।’ -‘ঘি আছে কি? তাছাড়া রাতের বেলা -তেলেই ভাল।’ একটু ওভার রিঅ্যাক্ট করে ফেলেছে,দীপিকা বোধহয় বোঝে। তাই আর আগের কথায় যায় না। একটু পরে রান্নাঘরে বাসনের টুংটাং শুরু হয়। মানে ওখানে শুরু হুয়ে গেছে খিচুড়ির আয়োজন। বাবা কি একটু মিইয়ে আছে? পিকো বাবাকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে। বলে-‘বাবা,ইউটিউবে রবীন্দ্রনাথের  ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’গানটা চালাও না!’ -‘শুনবি?’ -‘দুজনেই শুনব।’ অনিমেষ ইউটিউবে গানটা চালিয়ে চোখ বোজে। পিকো খুশি,ঠিক অস্ত্রই বেছেছে বাবার মুড ফেরানোর জন্য। গানটা শেষ হলে পিকো উঠে মাকে…

0 Comments

কবিতাঃমেহগনি,নিরো,বাৎসল্য, শঙ্খ

কবিতা  মেহগনি আরেকটা কলাগাছ লাগালেই ষোলোকলা পূর্ণ তবু কলা  নয়,এসেছিল মেহগনি মেয়ের বিয়ের জন্য বিডিয়ো অফিসের  দান । এরপর মেয়ে বেড়েছিল,বেড়েছিল মেহগনি বিয়েটা হয়েছিল যথাকালে মেহগনিও রেখেছিল কথা,বিকিয়ে বিরাট দামে ।  নিটোল এই গল্পে সবই ছিল শুধু ছিল না,মেয়েটির মেহগনি হয়ে ওঠার কোনও পূর্বপ্রস্তুতি... নিরো নগরের মাঝে বসে বেহালা বাজাচ্ছে  নিরো ক্ষয়া-খর্বুটে ভাইবোন চারপাশে বেড় দিয়ে তুলছে কান্নার কোরাস নিরোর মাঝে একটা গ্রাম,নিরোর মাঝে একটা টলটলে নদী তবু পিছন  বড় পিচ্ছিল কত দায় আর দায়িত্বের শ্যাওলা তার চেয়ে এই তো ভাল:বেহালা বেহালার সুরে ভেসে যাক পূর্বজন্মের ধানক্ষেত মধুপর্ণী নৌকো,মাসিপিসি সর্বনাশী... তেঁটুল-বটের কোল ঘেঁষেই রয়েছে দক্ষিণে যাবার রাস্তা। বাৎসল্য একজন হারিয়ে যাচ্ছে একজন হারাবে শিগগির নোনা সংসারে…

0 Comments

গল্পঃ ছোট ছোটগল্প (জন্মভূমি,jonmobhumi)

ছোট ছোটগল্প    জন্মভূমি রেণু,বেণু,কৃশানু। তিনজনের জন্যই জামাকাপড় কিনেছেন। দাদা,বৌদির জন্যও নিয়েছেন নতুন পোশাক।কত বছর হবে? কুড়ি?  না,সময়টা বোধহয় বাইশ। দেশে ফিরছেন বরদা সান্যাল।উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বি টেক। তারপর এদেশের নানা জায়গা ঘুরে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া থেকে ইংল্যান্ড। পিছন ফিরে দেখলে মনে হয়,সব এক লহমার ব্যাপার। অথচ দেখতে দেখতে এতগুলো বছর পার!গ্রামের জন্য বিদেশে মনটা যে টনটন  করত না তা নয়। কিন্তু কাজ বড় বালাই। আর তাছাড়া কাজ-পাগল মানুষ হিসাবে তিনি পরিচিতও হয়েছেন কর্মক্ষেত্রে।কিন্তু সেদিন যে কী হল! ঘুমের মধ্যে দেখলেন গ্রামের রেললাইনের একদিকের খেলার মাঠটায় চুটিয়ে ফুটবল খেলছেন বলাই, বেল্লাল,সাঈদ সুখেনদের সঙ্গে। ঘুম ভেঙে গেল। কিন্তু,ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে যে মাঠে খেলাটা…

0 Comments

কথাঃআবোলতাবোল (বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম/কালকে আমার ওজন কম)

 কথাঃ আবোলতাবোল   বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম কালকে আমার ওজন কম কলিংবেল বাজলেই বুক ধড়াস করে ওঠে আজকাল। আবার কে? অতিথি হলেই বিপদ। ঘরে ঢুকতে দিতে হবে। একমাত্র দুধওয়ালা ছাড়া আর কারও আসার কথা নয়। সে এসে চলে গেছে বহুক্ষণ। কে এল তবে?  সকালের মত অপরিচিত কেউ? মুখে মাস্কটা পরে নিই চটজলদি। হাতে গ্লাভস। দরজা খুলি সন্তর্পনে। ও বাবা,পাশের ফ্ল্যাটের সঞ্জু! দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা লজেন্সের প্যাকেট। ভাইয়ের জন্মদিন। দিতে এসেছে। সকালের অপরিচিত মানুষটি ভুল করে বেল টিপেছিলেন। তাঁকে দূর থেকেই হটানো গিয়েছে। কিন্তু সঞ্জুকে! সঞ্জুর মুখেও মাস্ক। কিন্তু প্যাকেটটা নিতে গেলে তো হাত বাড়াতে হবে। আমার বাড়ানো হাত আর সঞ্জুর বাড়ানো হাত মিলে কি এক মিটার দূরত্ব হবে আমাদের মধ্যে? মনে মনে চটপট ছেলের বারো ইঞ্চির লম্বা স্কেলটাকে আমার হাতের গোড়া থেকে সঞ্জুর হাতের গোড়া অব্দি দূরত্বের উপর বসিয়ে যাই। ক’  স্কেল হবে? তি্ন না সাড়ে তি্ন? এক মিটার হতে তো প্রায় চল্লিশ ইঞ্চি লাগবে। আর একটু দূরে সরে যাব কি? দূরে সরলে তো প্যাকেটটাই নিতে পারব না। হঠাৎ খেয়াল হয়,লজেন্সের প্যাকেটটার দৈর্ঘ্য হিসাবে আনিনি। দুজনেই তো ছুঁয়ে আছি দু প্রান্ত। বেশ লম্বা প্যাকেট। সুতরাং… সঞ্জুও কি ভাবছে একই কথা! হয়ত। কারণ  ও-ও নিজের জায়গা ছেড়ে এক ইঞ্চি নড়ছে না। অথচ ভাইকে এমন দিনে লজেন্সের প্যাকেটটা না দিলেও ওর নয়। মনে হল বেশ বিড়ম্বনাতে পড়ে আছে সঞ্জুও।  সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন,মুখে বলা যতটা সহজ কাজে কি ততটাই!     কিন্তু লজেন্সের প্যাকেটটা রাখব কোথায়? কোন বস্তুতে কতক্ষণ ভাইরাস টিকে থাকে,এ তএ তথ্য আমাদের এখন সবার জানা। অতএব কাছেপিঠে তো রাখা মুশকিল। একটা সহজ সমাধান আছে,জানলা দিয়ে ছুঁড়ে  ফেলা । কিন্তু ভালবাসার দান। ওরকম করাটা শুধু অন্যায় নয়, অসভ্যতাও। চারিদিক দেখে নিয়ে দেখি একটাই  জায়গা রয়েছে। খাটের তলায় দেওয়ালের ধার ঘেঁষে রাখা।  তাহলে খাটের যেসব দিকে  দাঁড়ানো যায়,সেখান থেকে একমিটারের বেশিই হয়ে যাবে প্যাকেটটার দূরত্ব। লজেন্সের প্যাকেটকে আর যাই হোক বিশুদ্ধিকরণের জন্য সার্ফ সাবানের জলে বা স্যানিটাইজারে তো চোবানো যায় না! ছেলের এ নিয়ে বাতিকও বিস্তর।   লজেন্সের প্যাকেট সমস্যার সমাধান করে…

0 Comments

গল্পঃসাহিত্য/সাহিত্যিক (সুরসিক বিদ্যাসাগর)

গল্পঃসাহিত্য/সাহিত্যিক (সুরসিক বিদ্যাসাগর) সুরসিক বিদ্যাসাগর একবার এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ সাহায্য চাইতে এসে বললেন,'আমার খুব দুরাবস্থা।' সুপন্ডিত,দয়ালু মানুষটির কাছে অভাবী কারও সাহায্য চাইতে আসা নতুন কিছু নয়। এদিকে পন্ডিত মানুষটি আবার সুরসিক খুব। সাহায্য তো করবেনই,কিন্তু ব্রাহ্মণের 'দুরাবস্থা'র ব্যাকরণগত ত্রুটি নিয়ে কৌতুক করার লোভ সামলাতে পারলেন না। ব্রাহ্মণের দৈন্যদশার ব্যাপারটা মাথায় রেখে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। 'আমার খুব দুরবস্থার' পিঠে পিঠেই বলে উঠলেন,'সে তো আকার দেখেই বোঝা যাচ্ছে।'সংস্কৃতের পন্ডিত মানেই যে শুষ্কং কাষ্ঠং নয়,সারাজীবন এরকম নানা রসিকতায় বুঝিয়ে গিয়েছেন তিনি। আসলে তাঁর জীবনটাই তো এক শিক্ষা। এমনকী রসিকতাতেও। কারণ,তিনি যে বিদ্যাসাগর!১৮২০ এর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮৯১ এর ২৯ জুলাই মোটামুটি…

0 Comments

গল্পঃসাহিত্য/সাহিত্যিক (প্রথম এন্ট্রান্স)

                                                                                 গল্পঃ সাহিত্য/সাহিত্যিক(প্রথম এন্ট্রান্স) প্রথম এন্ট্রান্স   এখন নাম উচ্চ মাধ্যমিক,একসময় এর সমতুল পরীক্ষা ছিল এন্ট্রান্স। বাংলায় বলা হত প্রবেশিকা। এই পরীক্ষা দিয়েই তখন স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া যেত।এ দেশে প্রথম এন্ট্রান্স বা প্রবেশিকা চালু হয়েছিল কবে? শুরু খুঁজতে গেলে আমাদের কিন্তু অনেকটাই পিছিয়ে যেতে হবে। সালটা ১৮৫৭। সিপাহী বিদ্রোহের বছর হিসাবে যে সালটা আমরা সবাই মনে রাখি। এই ১৮৫৭ সালেই  এন্ট্রান্স …

0 Comments

গল্পঃ ছোটদের গল্প (অপয়া)

ছোটদের গল্প অপয়া  আজ মাধ্যমিকের রেজাল্ট। অন্য আর পাঁচটা পরীক্ষার্থীর মত অপয়ারও বুক দুরু দুরু। সকাল থেকেই কোনও কাজে মন লাগছে না। এরই মধ্যে মা এসে দুবার শাসানি দিয়ে গেছে,'ধিঙ্গি মেয়ে,এই কটা বাসন নিয়ে এখনও বসে আছ,মেজে শেষ করতে পারছ না!'-'দিদি!' হঠাৎ চাপা স্বরে চেনা ডাক।অপয়া বাসন থেকে চোখ তোলে। রোজকার মত নিধি। হাজির দুধের গ্লাস নিয়ে। অপয়ার চোখে আজ দ্বিধার চেয়ে ভয় বেশি। বাড়িতে বাবাও রয়েছে। মানে দু'জোড়া চোখ। যদি ধরা পড়ে যায়! এই ছোট্ট ভাইটার কাছে ও রোজই হার মানে। ওকে গ্লাসের অর্ধেক দুধ না খাইয়ে ও খাবে না।কিন্তু আজ সেটা অসম্ভব। অপয়া চোখের ইশারায় ভাইকে চলে যেতে…

0 Comments

End of content

No more pages to load